• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৪
  • ||

দিল্লীকে মমতা: আসামের আগুন নিয়ে খেলবেন না

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:২৫ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দিল্লীকে কঠোর হুুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আসাম রাজ্যে আগুন নিয়ে খেলবেন না। ‘বাঙালি খেদাও’ প্রক্রিয়া জঘন্য কাজ। এর পরিণতি ভালো হবে না। মঙ্গলবার বীরভূম জেলার আমোদপুরে জঙ্গলমহল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন। মমতা বলেন, আমি সব রাজ্যকে ভালোবাসি, সব রাজ্যেই অন্য রাজ্যের মানুষ থাকে। কারণ এটা তাদের অধিকার। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে লোক কাজের জন্য যায় এবং কাজকে ভালোবেসেই সংসার তৈরি করে... অথচ গত ত্রিশ-চল্লিশ বছর ধরে যারা আসামে আছে, আজকে তাদের সবাইকে তাড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। নাগরিকত্ব আইনের নামে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তাড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।’

দলের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘সারা ভারতে আগুন জ্বালাবেন না। বিভেদের রাজনীতি করবেন না। শান্তি রক্ষা করুন। আর যদি লোকেদের গায়ে হাত পড়ে, মানুষের গায়ে হাত পড়ে-সে বাঙালি হোক, পাঞ্জাবি, বিহারি, রাজস্থানী, দলিত, তফসিলি জাতি বা সাধারণ মানুষই হোক আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।’

মমতার প্রশ্ন ‘আজ যদি ১ কেটি ৩০ লাখ মানুষকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় তবে তারা কোথায় যাবে? তাছাড়া আমি যদি এ কথা না বলি আর কে বলবে, কারণ আসামের সঙ্গে আমাদের সীমান্ত রয়েছে। আসামে কোনো গণ্ডগোল হলে তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়বে। তেমনই এখানে কোনো গণ্ডগোল হলে আসামেও তার প্রভাব পড়বে। আমরা চাই সব রাজ্য শান্তিতে থাকুক।’

মমতার অভিমত ‘আসামের কোনো মানুষ যদি বাংলায় থাকে তবে আমরা বুকে করে স্থান দেব, তেমনি বাংলার কেউ যদি অসমে থাকে তাকেও বুকে করে স্থান দিতে হবে— এটাই নিয়ম। কিন্তু বাংলার মুর্শিদাবাদ, মালদা, বর্ধমান, বীরভূমের ভোটার যারা অসমে কাজ করতে গিয়েছে-তাদের বলা হচ্ছে সবাইকে মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হবে’।

মমতা ঘোষণা করেন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আগামীকাল দিল্লিতে সংসদের সামনে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।

উল্লেখ্য, আসামে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের চিহ্নিত করতে গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে প্রথম নাগরিক তালিকার খসড়া প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় নামভুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ৯০ লাখের নাম এসেছে। অনিশ্চয়তায় ঝুলছে বাকি ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ।

apps