• মঙ্গলবার, ১৪ আগস্ট ২০১৮, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

হামাস-ইসরাইল সমঝোতা

প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৮, ১১:০২
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

গাজা উপত্যকায় বর্বরতা বন্ধে ইসরাইলের সাথে একটি সমঝোতায় পৌছার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। গ্রুপটির পক্ষ থেকে শনিবার বলা হয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শান্তি আনার স্বার্থে একটি চুক্তি দ্বারপ্রান্তে পৌছেছি আমরা। শুক্রবার সর্বশেষ ইসরাইলি হামলায় গাজায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এক ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার জেরে এই হামলা চালায় ইহুদিবাদী দেশটির সেনারা।

হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম শনিবার সকালে এই চুক্তিটির কথা ঘোষণা করে বলেন, মিসর ও জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তাদের মধ্যস্ততায় দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অনেক চেষ্টার পর দুই পক্ষ শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দখলদার ইরাইলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি গোষ্ঠিগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌছেছি আমরা। এর লক্ষ্য গাজা উপত্যকায় আবার শান্তি ফিরিয়ে আনা।’ অবশ্য ইসরাইলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠাকিভাবে এই সমঝোতার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে ইসরাইলি হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছেন, গাজার পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষরা স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে। হারেৎজ বিবৃতিটিকে উদ্বৃত করেছে এভাবে, ‘দক্ষিণ কমান্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাজা উপত্যকায় সাধারণ মানুষকে নিয়মিত কর্মকাণ্ড চালাতে দেয়া হবে’।

হামাস আরো জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে গোষ্ঠিটির তিন সদস্য। গাজার দক্ষিণ অংশে ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় তারা নিহত হয়। এসময় তিন হামাস ছাড়াও এক সাধারণ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইল বলছে, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে এক ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর তারা হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের পরিচালক ফিলিস বেনিস বলেন, চুক্তিতে শান্তি আনার কথা বলা হয়েছে। কয়েক দশক ধরেই গাজায় শান্তির বিষয়টি অনুপস্থিত। গত কয়েক মাসে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬ হাজারের বেশি লোক।

সীমান্তে হামলায় এক সেনা নিহত হওয়ার পর গাজা উপত্যকার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। কর্মকর্তারা বলছেন, ইসলাইলি হামলায় ফিলিস্তিনের চার নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজন গাজাভিত্তিক সংগঠন হামাসের সদস্য বলে জানা গেছে। সীমান্তে বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি হামলায় আরেক ফিলিস্তিনি মারা যায়। হামাস অবশ্য পরে অস্ত্রবিরতিতে সম্মতি জানিয়েছে।

হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেন, ‘মিসর ও জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের একাংশের শান্তির যুগে প্রবেশে তারা রাজি।’ অস্ত্রবিরতির ব্যাপারে অবশ্য ইসরাইল কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, গাজা উপত্যকার উত্তরে হামাসের ১৫টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া খান ইউনিস এলাকায় ২৫ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরাইল। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলা চলছে।

গত সপ্তাহে হামাসের ওপর হামলা চালায় ইসরাইল, যা ছিল ২০১৪ সালের পর বৃহৎ হামলা। এর আগে দেশটিতে রকেট ও মর্টার হামলা চালানো হয়। এবারের ভূমি দিবসের আন্দোলন শুরুর পর থেকে ১৭ সপ্তাহ ধরে সীমান্তে বিক্ষোভ করছে ফিলিস্তিনিরা । এই সময়ের মধ্যে ১৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়।তবে এর মধ্যে কোনো ইসরাইলির হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ এনেছে। ইসরাইল বলছে, আত্মরক্ষার জন্যই তারা হামলা চালাচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ভূমি দখল করে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসরাইল নামের রাষ্ট্র। এরপর থেকে সাড়ে ৭ লাখ ফিলিস্তিনিকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালের ৩০ মার্চ ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ইহুদি বসতি নির্মাণের প্রতিবাদ করায় ছয় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। পরের বছর থেকেই ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত পরবর্তী ছয় সপ্তাহকে ভূমি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। চলতি বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে ফিলিস্তিনিরা।

/এসএইচ