• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যা, অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি তুরস্কের

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২৪
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট

ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার অডিও ও ভিডিও প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট নাম পরিচয় গোপন রেখে কয়েকজন মার্কিন ও তুর্কি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্ট জানায়, বিশেষ করে অডিও রেকর্ডিং থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, ইস্তাম্বুলে পাঠানো একটি সৌদি দল খাসোগিকে হত্যা করেছে।

নাম গোপন রাখার শর্তে অত্যন্ত গোপনীয় এই রেকর্ডিংয়ের বিষয়ে একজন পোস্টকে বলেন, 'দূতাবাসের ভিতরের অডিও রেকর্ডিং থেকে বোঝা যায়, খাসোগির পরিণতি কী হয়েছিল। আপনি তাকে ও অন্যান্য আরও কয়েকজনকে আরবিতে কথা বলতে শুনবেন। তাকে কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ, নির্যাতন ও হত্যা করা হয়েছে তাও শুনতে পাবেন।'

সৌদি আরব খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছে, তিনি ওইদিন বিকেলে কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন।

ভিতরে প্রবেশের আগে খাসোগি তার বাগদত্তা হাতিসকে কনস্যুলেটের বাইরে রেখে গিয়েছিলেন। হাতিসের কাছে তিনি তার ফোনও রেখে যান এবং না ফিরে এলে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন উপদেষ্টাকে ফোন করার নির্দেশনা দিয়ে যান। হাতিস ওইদিন মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন।

খাসোগির কনস্যুলেটে প্রবেশ করার ভিডিও থাকলেও সেখান থেকে তিনি বেরিয়েছেন এমন কোনো ভিডিও রেকর্ডিং বা অন্য কোনো ধরনের প্রমাণ দিতে পারেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

তুরস্ক বলছে, খাসোগিকে হত্যার জন্য ১৫ জনের একটি বিশেষ দলকে সৌদি কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছিল। ওই ১৫ জনের ভিতর অনেকেই সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন। তুরস্ক এই ১৫ জনের বিষয়ে তদন্ত করছে।

খাসোগি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ রাজপরিবারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেন। এক পর্যায়ে তার কলাম নিষিদ্ধ করে তাকে সতর্ক দেয়া হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান এবং সেখানকার পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের একজন কলামিস্ট।

বৃহস্পতিবার খাসোগির পরিচিত একজন মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে জানান, সৌদি সরকার বেশ কিছু দিন ধরেই খাসোগিকে প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগি গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটের ভিতর প্রবেশ করেন তার বিবাহ-বিচ্ছেদের কাগজপত্র আনতে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক জামাল খাশোগির
apps