• শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

সারাদেশে প্রজ্ঞাপনের দাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন, প্রভাব নেই জবিতে

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৮, ১২:২৪ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১২:৫০
ইমরান (জবি)
প্রিন্ট

একসময়ের আন্দোলনে আতুরঘর নামে পরিচিত ছিলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে জবির শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিলো অতুলনীয়। কোটা সংস্কার অান্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষাণা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সারাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে অান্দোলন চললেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার কথা বলা হলেও এর কোনো প্রভাব নেই জবিতে। সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ উত্তাল থাকলেও স্থিতিশীল জবি ক্যাম্পাস। নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সকল বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি কোটা সংস্কার অান্দোলন কমিটির যুগ্ম অাহ্বায়ক রবিউল সুমন বলেন, ‘ জবিতে অান্দোলন থেমে গেছে এমন নয়। কোটা সংস্কার অান্দোলন পরবর্তী ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির স্যারের অপসারণ অাদেশকে কেন্দ্র করে অান্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায় তবে অাপাতত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেও কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে শাহাবাগে অবস্থান নিয়েছিল জবি শিক্ষার্থীরা। ‘

তবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। নাসির স্যারের অপসারণ কেন্দ্র করে সংগঠিত অান্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষা  বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপাতত প্রজ্ঞাপন জারির অান্দোলনে পিছিয়ে পড়েছে জবি শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন 'নাসির স্যার অান্দোলনে ব্যর্থ হয়ে মনোবল হারিয়ে ফেলেছে জবি শিক্ষার্থীরা। ‘

শাখা ছাত্র ইউনিয়ন এর সভাপতি রুহুল আমিন বলেন 'আন্দোলনের গতি প্রকৃতির সাথে আরেকটা আন্দোলন মিশে যাওয়ার কারণে আন্দোলন স্থগিত আছে'।

সাধারণ কিছু শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে অনেকের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলতেছে আবার কারো বেশ কয়েকটা পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। তাই তারা চাচ্ছে যে তাদের পরীক্ষাটা শেষ হয়ে যাক ভালভাবে। এ সমস্ত কারণেও আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।
কোটা আন্দোলনের পক্ষে যেকোন কর্মসূচী ঠেকাতে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীর অবস্থানের ঘোষণা ছিল আগে ভাগেই।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে সারাদেশে যখন তীব্র আন্দোলন হয় তখন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছিলো জবি শিক্ষার্থীরা। এসময় জবি শিক্ষার্থীররা, রায়সাহেব বাজার মোড় ও তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে অচল করে দেয় পুরান ঢাকা, সদরঘাট ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক। পাশাপাশি শাহাবাগের অবরোধে জবি শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মত ছিল।