• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

রাবিতে ৫টি হলসহ ১৯ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৭:৫১
রাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৫টি আবাসিক হলসহ ১৯টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতর। কর্তৃপক্ষের অনীহায় দীর্ঘদিনেও এসব ভবন সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যেকোনো সময় এসব ভবনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেছেন খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা। ফলে ভবনগুলোতে আতঙ্ক নিয়ে বসবাস ও একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, ২০১৭ সালে ভবনগুলোর অন্তত ৫০টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি লিখিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) জানিয়ে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে। তবে বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবনগুলো সংস্কারে এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি প্রশাসন।

প্রকৌশল দফতর সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক ভবনের উপরতলায় বসবাস অনুপোযোগী। এছাড়া প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষকদের আবাসিক ভবন ও কর্মচারী আবাসিক ভবনসহ আরও ১০টি পুরোনো ভবনের ছাদ ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থ সংকটে এসব ভবনের সংস্কার কাজে হাত দেয়া সম্ভব হয়নি। ফলে যেকোনো সময় এসব ভবনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না করা গেলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সমমূল্যের সম্পদ ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

ঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবন, প্রথম বিজ্ঞান ভবন, রবীন্দ্র ভবন, সৈয়দ আমীর আলী হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল, মাদারবখ্শ হল, শাহ মখদুম হল। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনের মধ্যে লাল কোয়ার্টার নং-৬৪, ৬৬, পূর্ব-৯, ৩৬,৩৭, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, পশ্চিম-৫৪ (এফ), ৫৩ (এফ) এবং ৫২ নম্বর ভবন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা জানান, ভবনগুলোর ঝুঁকির প্রধান কারণ হলো উপরের ছাদ। নির্মাণের পর থেকে নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন না রাখা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকাসহ বেশ কয়েকটি কারণে ভবনগুলোর ছাদ ড্যামেজ হয়ে গেছে। এগুলোর পুরো ছাদ ভেঙে ফেলে নতুন ছাদ করা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের কাছে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বরাদ্দ এসেছে। যা দিয়ে ভবনগুলো মেরামত কাজে হাত দেয়া সম্ভব নয়। ভবনগুলো সংস্কারে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নামে আরেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ভবনগুলো এখনও পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায়নি। ছাদগুলো ড্যামেজ হয়েছে। দ্রুত যদি সংস্কার করা যায় তাহলে অনায়াসে আরও ২০ বছর এসব ভবন ঝুঁকি ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

/পি.এস

রাবি,ঝুঁকিপূর্ণ