• রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, -১ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

ভুল বানানে রাবির তিন একাডেমিক ভবনের ফলক

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:০৮
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনটি একাডেমিক ভবনের নামকরণে ভুল শব্দে লেখা হয়েছে। কোনটিতে ব্যাকরণগত ভুল, আবার কোনটিতে বানানগত ভুল রয়েছে। শুধু একটি ভবনের নামের বানানে চারটি শব্দের মধ্যে তিনটি-ই ভুল শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ভবনগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত লেখক, প্রাবন্ধিক বা ব্যক্তিদের নামে। তবুও দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবনগুলো ভুল নাম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে!

বিভিন্ন সময় পর্যটকরা ক্যাম্পাসে এসেও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। বিশ্বদ্যিালয়ের মতো স্থানে এমন ভুল ‘যেমনি অজ্ঞতার পরিচয় বহন করে, তেমনি লজ্জারও’ বলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন- ‘ভুল থাকলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদালয়ে ‘সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন সিরাজী’ নামে একটি ভবন রয়েছে। ভবনটির বানানে বিখ্যাত সাহিত্যিকের নামের বানান ভুলভাবে লেখা হয়েছে। তাঁর লেখা বিভিন্ন বইয়ের পুরোনো সংস্করণ এবং বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী; সঠিক বানান হবে ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’। অর্থাৎ ভবনটির নামে ‘ইসমাঈল’ শব্দের ‘ঈ’-এর স্থলে ‘ই’ হবে। ‘সিরাজী’ শব্দের ‘স‘ এর স্থলে ‘শ’ হবে। এছাড়া ওই ভবনে লেখা নামে ‘সৈয়দ’ শব্দের ঐ-কারের আগে মাত্রা ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে এ-কার বা ঐ-কারের আগে মাত্রা হয় না।

রাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্য পত্রিকা ‘চিহ্ন’ -এর প্রধান ড. শহীদ ইকবাল বলেন, ‘ভবনটিতে সাহিত্যিকের নামের বানানে ভুল রয়েছে। তার সঠিক নাম ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’। তাঁর বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে এভাবেই তিনি নাম লিখেছেন। ভবনের নামের ‘ইসমাঈল’ শব্দের ‘ঈ’ এর স্থলে ‘ই’ হবে। ‘সিরাজী’ শব্দের ‘স‘ এর স্থলে ‘শ’ হবে। অনেকে ভাবেন তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জে, তাই নামের শেষে সিরাজী যুক্ত হবে। বিষয়টি সঠিক নয়। তিনি শিরাজী বংশের ছিলেন তাই নামের শেষে শিরাজী শব্দটি ব্যবহার করতেন।’

‘অনল প্রবাহ’, ‘মহাশিক্ষা-কাব্য’সহ শিরাজীর বেশ কয়েকটি বিখ্যাত বইয়ের পুরোনো সংস্করণে তাঁর নাম লেখা রয়েছে ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’। রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অনল প্রবাহ’ -এর ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত সংস্করণে (প্রথম প্রকাশ ১৯০০ সালে) সংরক্ষিত আছে। বইটিতে তার নাম ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’ লেখা হয়েছে। 

এছাড়া বাংলা একাডেমি কর্তৃক ২০০৩ সালে প্রকাশিত ‘শিরাজী রচনাবলী’ বইটিতে ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বইটির মলাটসহ ভিতরের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় তাঁর সঠিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এতে শিরাজীর নিজস্ব স্বাক্ষরেও ‘সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী’ লেখা রয়েছে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। এছাড়া ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয় শিরাজীর মহাশিক্ষা কাব্যের প্রথম খন্ড (ইমাম হোসেনের শাহাদাৎ) ও ১৯৭১ সালের প্রকাশিত হয় মহাশিক্ষা কাব্যের দ্বিতীয় খন্ডে (এজিদ বধ)। তৎকালীন কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বর্তমানে বাংলা একাডেমি) প্রকাশিত উভয় খন্ডেই এভাবেই তাঁর নাম লেখা হয়েছে।

অপরদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মমতাজ উদ্দিন কলা ভবন’ ও ‘শহীদুল্লাহ কলা ভবন’ নামের ভবন দু’টিতে ‘কলা’ ও ‘ভবন’ শব্দ দু’টি আলাদাভাবে লিখা হয়েছে। যা বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে সম্পূর্ণ ভুল। সমাসবদ্ধ শব্দ হওয়ায় শব্দ দু’টি একসাথে বসবে অথবা শব্দ দুটোর মাঝখানে ‘হাইফেন’ ব্যবহার করতে হবে। যেটা রাবির ভবনের নাম লেখায় ব্যবহার করা হয় নি।

রাবির নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি ও ছোট পত্রিকা চিহ্ন এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান রাজু বলেন, ‘কলা’ ও ‘ভবন’ শব্দ দু’টি আলাদাভাবে লেখা ভুল। ‘কলাভবন’ শব্দটি সমাসবদ্ধ শব্দ। এর ব্যাসবাক্য হবে ‘কলা সংশ্লিষ্ট যে ভবন’ বা ‘কলা অনুষদের নিমিত্তে যে ভবন’। সমামবদ্ধ শব্দ হলে দু’টি শব্দ একটি শব্দে পরিণত হয় অথবা দুটি শব্দের মাঝখানে হাইফেন ব্যবহার করতে হবে। ফলে ওই শব্দ দু‘টি পাশাপাশি বসে একটি শব্দ হবে (কলাভবন) অথবা শব্দ দু’টির মাঝখানে হাইফেন দিতে হবে (কলা-ভবন)।’

জানতে চাইলে রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘ভবনগুলোর নামে ভুল আছে কিনা, তা খোঁজ নিয়ে দেখবো। ভুল থাকলে তা অবশ্যই যাচাই করে শুধরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

close