• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

ইতিহাস নিজস্ব ধারায় চলে: জবি উপাচার্য

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২০:২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রিন্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর বলেছেন, ইতিহাস তার নিজস্ব ধারায় চলে। সাময়িকভাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা গেলেও  ইতিহাসকে বিকৃত করা যায় না।

বুধবার দুপুরে জবি উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগে পাঠ্য  সূচিতে `বাংলাদেশের মু্ক্তিযুদ্ধের ইতিহাস' অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে এক  সংবাদ সম্মেলন প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জবি জনসংযোগ, প্রচার ও প্রকাশনা দপ্তর আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জবি উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে আমরাই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চালু করেছি। যদিও এই কোর্সটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আগেই চালু হয়েছিল। আমরা এটি ঘোষণা এজন্য দিলাম যাতে দেশের আর সকল বিশ্ববিদ্যালয় অনুপ্রাণিত হয়।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির জনকের হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে উল্টে দেয়া হয়েছিল। যা ১৯৯৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এর পরে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ কিছুটা সংশোধন হলেও পরে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তা আবার বিকৃত করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের যেকোনো প্রগতিশীল আন্দোলনে বেশির ভাগ মানুষই বিরোধিতা করেছিল। ১৯৬৬ সালে যখন বাংলাদেশে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ করা হয় তখন মাত্র ১০ জন বুদ্ধিজীবী রবীন্দ্রসংগীতের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরের দিনেই ৪০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিষিদ্ধের পক্ষে মতামত দেন। এজন্য এখনো মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি আছে এবং দিনদিন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জবি জনসংযোগ, প্রচার ও প্রকাশনা পরিচালক অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. প্রিয়ব্রত পাল, লাইফ এন্ড আর্থসায়েন্স’র অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া, অধ্যাপক কাজী সাইফুদ্দিন প্রমুখ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সকল বিভাগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে সকল বিভাগে সম্মান প্রথম বর্ষে সবনিম্ম ৩ ক্রেডিটের ১০০ নম্বরের কোর্সে বিষয়টি পাঠদান করা হবে।

close