• বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

প্রথমবার বাংলাদেশ-ভারত তারকাদের নাচের লড়াই

প্রকাশ:  ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৪:১৪
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট

প্রথমবার বাংলাদেশ ও ভারতের তারকাদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে একটি প্রতিযোগিতামূলক নৃত্যানুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে যারাই পারফর্ম করেছেন তারা সবাই অভিনয়ে পারদর্শী।

কারও কারও নাচ জানা থাকলেও চর্চা ছিল না। আবার কেউ ছিলেন একেবারেই আনাড়ি। তবুও চেষ্টা করেছেন নিজেদের সেরাটা দিয়ে নিজের দেশকে সামনে এগিয়ে রাখতে। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে তারকাদের স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা নিয়ে এ প্রতিবেদন।

‘আমি আসলে যা করতে চেয়েছিলাম, তা করতে পারিনি। প্লিজ আমাকে আর একবার তোমরা নাচটা দেখাতে সুযোগ দাও। না হয় আমাকে তোমরা নম্বর নাই বা দিলে। কিন্তু নাচটা আর একবার করার সুযোগ দাও!’- এই অনুরোধটি স্টার জলসার মা সিরিয়ালের ঝিলিক চরিত্রের রূপদানকারী অভিনেত্রী তিথির।

নাচতে গিয়ে তার পায়ের আঙুল কেটে যায়। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল তখন। কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই। তার একটাই আবেদন, নাচটি ঠিকমতো বিচারকদের কাছে দেখাতে পারেননি। তাই আর একবার সুযোগ চাইছেন তিনি। বিচারকরা খুবই কঠোর। সিদ্ধান্ত থেকে সরবেন না তারা। তিথির কান্না কি পারবে দুই বিচারকের মন গলাতে?

অনুষ্ঠানের থিম ছিল মা। মাকে নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করতে গিয়ে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘অগ্নীজল’-এর কলাবতি চরিত্রের নায়িকা সোহিনী স্যানাল আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। অঝোরে কাঁদলেন এবং কাঁদালেন।

বললেন, ‘আমার মা খুবই অসুস্থ। তাকে বাড়ি রেখে এসেছি। জানি না, বাড়ি ফেরার পর কলিংবেলটা বাজালে মা দরজাটা খুলবে কিনা? মা ছাড়া আমার কেউ নেই।’ সোহিনী কেঁদেই চলেছেন। সান্ত্বনা দেবে কে? সোহিনীর মা কি বেঁচেছিলেন?

নাচ শুরু হয়েছে। হঠাৎ করেই ঢাকার টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ সাফা কবির নাচ বন্ধ করে দিলেন। বললেন, প্রপোসটা আজই পেয়েছি, তাই বিট মিস হয়ে গেছে। আবার শুরু করতে চাই। বিচারকরা অনুমতি দিলেন না। সাফা এক সময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। দু’চোখ বেয়ে পানি ঝরছে তার।

লড়াইয়ে এমন করেই তিনি অংশ নিয়েছেন। বিচারকরা কি তাকে আবার সুযোগ দিয়েছিলেন?

ভাবনা নাচের মেয়ে। ওর জন্য নাচ খুব কঠিন কিছু নয়। কিন্তু নাচ করতে গিয়ে মঞ্চেই অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলেন তিনি। তার আগেই নাচ শেষ করেছেন। সবাই দৌড়ে গেল। তাকে পানি পান করানো হল। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার। তারপর...?

টেনশনে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে অমৃতা খান। সবাই তাকে বোঝালেন, খেয়ে নাও। না, আগে নাচ শেষ করব তারপর খাব। নাচ করলেন। একদম শেষ দিকে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। শরীরে প্রচণ্ড জ্বর। তবুও তিনি নাচ ছাড়ছেন না।

স্পর্শিয়া সবেমাত্র নাচ শুরু করেছেন। কে জানে, তখনই তার শ্বাসকষ্ট দেখা দেবে! কেউ বুঝতে পারেনি। দেখা গেল মেয়েটি পড়ে যাচ্ছে। ইনহেলার নিয়ে আসা হল। তাকে সেবাযত্নে সবাই ব্যস্ত।

ওপরের ঘটনাগুলো কোনো গল্প নয়। নাচের লড়াইয়ের রিয়েলিটি শো ‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’-এর শুটিং স্পটে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার কয়েকটি।

আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নাগরিক টিভিতে শুরু হচ্ছে ‘বাজলো ঝুমুর তারার নূপুর’। বাংলাদেশ এবং কলকাতার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র শিল্পীদের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে ও দুই বাংলার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ধারা টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ অনুষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুই দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে নাচের এমন ধরনের অনুষ্ঠান এর আগে হয়নি। মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ও ভারত থেকে অংশগ্রহণ করেছেন ৬ জন করে মোট ১২ তারকা। বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন টিভি অভিনেত্রী ইশানা, ভাবনা, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, স্পর্শিয়া, অমৃতা খান ও সাফা কবির। কলকাতা থেকে রিমঝিম, সোহিনী, এনা সাহা, লাভলী, তিথি ও প্রীতি।

এ রিয়েলিটি শোতে আরও প্রতিযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ থেকে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, টিভি অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা ও জাকিয়া বারী মম। কলকাতা থেকে অংশ নিয়েছেন জি বাংলার রাশি সিরিয়ালের রাশি চরিত্রের অভিনেত্রী গীতশ্রী, চিত্রনায়কা পায়েল এবং ছোট ঋতুপর্ণা। প্রতিটি পর্বে প্রধান বিচারক হিসেবে আছেন বাংলাদেশের ইলিয়াস কাঞ্চন এবং কলকাতার শতাব্দী রায়।

বিভিন্ন পর্বে বাংলাদেশ থেকে অতিথি বিচারক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়ক ফেরদৗস, কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর, অভিনেতা তৌকীর আহমেদ ও সজল। অপরদিকে কলকাতা থেকে ছিলেন কণ্ঠশিল্পী জোজো, অনিন্ধ, শ্রীলেখা মিত্র এবং নৃত্যবিশারদ তনুশ্রী শংকর।

অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্ব যৌথভাবে উপস্থাপনা করেছেন কলকাতার সৌরভ এবং বাংলাদেশের মাসুমা রহমান নাবিলা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত নাবিলা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন অনুষ্ঠানটির কনসেপ্ট শুনলাম তখন একটু অবাক হয়েছিলাম। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে, তারকারা হয়তো এমনিতে কোনো অনুষ্ঠানে নাচের পারফর্ম করতে পারে।

কিন্তু নাচের প্রতিযোগিতায় কীভাবে অংশ নেবে? তার মধ্যে আবার সেই প্রতিযোগিতা দুই দেশের মধ্যে। কিন্তু কাজটি যখন শুরু করলাম, তখন আমার ধারণা বদলে গেল। অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে সবাই যে পরিশ্রম করেছে সেটা আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। আমি নিজেও অনেক পরিশ্রম করেছি। আমার ক্যারিয়ারে এটা এখন পর্যন্ত সেরা অভিজ্ঞতা।’ মোট ৭২টি পর্বে এ অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে যেমন রয়েছে, হাসি, তেমনি রয়েছে কান্না। এ অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে নাগরিক টিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে অনুষ্ঠানটি নিয়ে নানারকম গবেষণা ও যোগাযোগের কাজ করা হয়েছে।

তারকা শিল্পীদের প্রতিযোগী হিসেবে পাওয়াটা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জের একটি কাজ। আর দুই বাংলার তারকাদের লড়াইতে অংশ নেয়ার মাধ্যম ছিল নাচ। যা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ছিল। কেননা, প্রত্যেক শিল্পীকেই এই নাচের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে নাচের মহড়ায় অংশ নিতে হয়েছে।

কোনো কোনো দিন শিল্পীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করেছেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে করা সম্ভব হয়েছে একমাত্র শিল্পীদের সহযোগিতার কারণে। আমরা মনে করি দর্শক নতুন ধরনের একটি অনুষ্ঠান পেতে যাচ্ছে।’

জানা গেছে, এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রকমের নাচের প্রদর্শন রয়েছে। ভরত নাট্যম, মনিপুর, ছৌ, কত্থক থেকে শুরু করে হিপহপ, মডার্ন সব ধরনের নাচ প্রদর্শন করা হবে। নাচের এ অনুষ্ঠানটি সপ্তাহের প্রতি সোম, মঙ্গল, বুধ, এবং বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নাগরিক টিভিতে প্রচার হবে

/এ আই

apps