• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

ভুলের ভালো দিক

প্রকাশ:  ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫৬ | আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৮, ১৬:০৮
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রিন্ট

প্রবাদে আছে মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই ভুল করেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। যদিও মানুষ ভুল করা পছন্দ করে না। তবুও মানুষের ভুল হয়। ভুলের জন্য মানুষ বিব্রত বোধ করেন, হতাশ হয়ে পড়েন। তবে ভুল করাও অনেক সময় ভালো। কারণ ভুল থেকে মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে। আসুন জেনে নেই ভুলের কিছু ভালো দিক-

নতুন কিছু শেখা

কথায় আছে, আপনি আপনার ভুল থেকেই শেখেন। বারবার ভুল করা আমাদের মস্তিষ্ক এবং দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ প্রসঙ্গে মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনরোগবিদরা জানান, ভুল থেকে শিখলে মনের বিকাশ হয়। বুদ্ধিমত্তা এমন একটি বিষয় যেটা নিয়ে কাজ করলে এর উন্নয়ন সম্ভব। এক থেকে তিন বছর বয়সী শিশুদের ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুরা ভুলগুলোর প্রতি বেশি মনোযোগ দিয়েছে তারা ততোই দ্রুত শিখেছে।

নতুন পথের সন্ধান

ভুলের কারণে অনেকের জীবনেই অনেক অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক ঘটনা ঘটে। হয়তো কেউ চাবি ভুল করে হারিয়ে ফেলেছেন। সেটা খুঁজতে গিয়ে এমন কিছুর সন্ধান পেয়ে গেলেন যেটা হয়তো আরও বেশি জরুরি।

পৃথিবীতে মাইক্রোওয়েভ থেকে শুরু করে পেস মেকার পর্যন্ত। ছোট বড় যতো উদ্ভাবন রয়েছে, তার সবকিছু শুরু হয়েছিল কোন না কোন ভুল থেকে।

নিজেদের চিনতে শেখায়

অস্কার ওয়াইল্ড বলেছিলেন, মানুষ নিজেদের ভুলগুলোকে যে নামে ডাকে তাই হল অভিজ্ঞতা।এ কারণে নিজেদের ব্যাপারে বা জীবন সম্বন্ধে শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভুল করা। একটি বড় পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে আপনি শিখবেন কিভাবে হতাশা মোকাবিলা করতে হয়।পরিবারের গোপন কিছু কথা ভুল করে শুনে ফেললে, আপনি বিব্রতকর পরিস্থিতি সামলে নিতে শিখবেন।

লক্ষ্য অর্জনের পথ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং লেখক থিওডোর রুজভেল্ট বলেছেন, যে ব্যক্তি জীবনে কখনো ভুল করেনি, সে জীবনে কোন কাজই করেনি। ভুল করার কারণে আমরা প্রায়ই পুনরায় চেষ্টা করতে বা নতুন কোন চ্যালেঞ্জ নিতে ভয় পাই।তবে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ভুলকে মেনে নিলে আর এমনটা হবে না।বরং ভুল থেকে শিখে জীবনে কোন বাঁধা ছাড়া এগিয়ে গেলে সহজেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করে

বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক জে কে রাওলিং ২০০৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেয়া এক বক্তব্যে বলেন, তার বয়স যখন পঁচিশের কাছাকাছি তখন তিনি জীবনের বিশাল সব ভুল আর ব্যর্থতার মুখোমুখি হন।তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর মেয়েকে নিয়ে চরম দরিদ্রতার মুখে পড়েন তিনি। জীবনে বার বার ব্যর্থ হয়েছেন, হতাশ হয়েছেন।কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার লেখক পরিচয় আজ তাকে এই অবস্থানে তুলে এনেছে।

আরকে

অস্কার ওয়াইল্ড,থিওডোর রুজভেল্ট,হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়