• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

পূর্ব পশ্চিম পরিবারের আনন্দঘন একটি দিন

প্রকাশ:  ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৮:৩৭ | আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্ব পশ্চিম বিডি নিউজের দ্বিতীয় বর্ষপূতিতে বর্ণিল আয়োজনে একটি আনন্দঘন দিন কাটিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দিনব্যাপী বর্ষপূতির নানা আয়োজনে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল অনুষ্ঠানস্থল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

সেখানেই বসেছিল এই মিলনমেলা। যেখানে ভরপুর আড্ডায় মেতেছিলেন রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ পূর্ব পশ্চিমের সাংবাদিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পূর্ব পশ্চিমের আমন্ত্রণে সারা দিয়ে দুই পর্বের জমকালো আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে পূর্বপশ্চিমের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের সরব উপস্থিতি প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের কাছে ছিল বাড়তি পাওনা।

জেলা প্রতিনিধিদের কর্মশালায়  উঠে এসেছে তাদের কাজ করার  নানা অভিজ্ঞতা, সুখ-দুঃখের অনুভূতির কথা। পাশাপাশি পূর্ব পশ্চিমের প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান জেলা প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। জেলা প্রতিনিধিদের নানা প্রশ্নেরও উত্তর দেন তিনি। আমন্ত্রিত রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও শেয়ার করেছেন তাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা।  বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্যে গণমাধ্যমের ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ, সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বেও কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সত্য বলা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সর্ব ক্ষেত্রেই অবক্ষয়ের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের গণতন্ত্র বিকাশ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল সাহসী ভূমিকা পালনেরও আহবান জানিয়েছেন।

পূর্ব পশ্চিম অনলাইনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের শুরুতেই সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের রুহের মাগফেরাত কামনা করে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁিড়য়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। একইসঙ্গে পূর্ব পশ্চিম বিডি নিউজের নিখোঁজ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার উৎপল দাসের সন্ধানের দাবীও জানানো হয়েছে।  

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যম একটি বড় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে। তবে এর ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু গণমাধ্যমের কতিপয় সংবাদকর্মী তাদের ব্যক্তি স্বার্থে হাসিল করতে ভুল তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, সামনে আমাদের জাতীয় নির্বাচন। জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল ও সর্তক থাকতে হবে। ভবিষ্যৎ পথ চলায় পূর্ব পশ্চিম দেশের গণতন্ত্র বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন পূর্ব পশ্চিম নিউজের সম্পাদক খুজিস্তা নুর ই নাহরীন মুন্নি। সভায় পূর্ব পশ্চিমের উপদেষ্টা এবিএম জাকিরুল হক টিটনও বক্তব্য রাখেন।
 
বেলা আড়াইটায় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্ঠা ইকবাল সোবহান চৌধূরী, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে যারা কাজ করেন তাদের ঝুকিঁ বেশি। তিনি বলেন, সমাজের সবক্ষেত্রেই অবক্ষয় হয়েছে। যারফলেই আমাদের সমাজে নানা অস্তিরতা দেখা যাচ্ছে। এই অবক্ষয়ের মধ্যেও নান প্রতিকূলতা ও বাধা মোকাবেলা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে দেশের মিডিয়া ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি খাতে গণমাধ্যম বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইকবাল সোবহান বলেন, নিশ্চয় সাংবাদিক হিসেবে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েই থাকব। তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, জঙ্গীবাদের মতো ইস্যুগুলোতে আমাদের নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই।

নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মফস্বল সাংবাদিকতা বলতে কোনো কিছু নাই। সাংবাদিকতার কোনো সীমানা নেই। অর্থনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও আমাদের দেশে সাংবাদিকরা কাজ করে যাচ্ছে। নানা কারণে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে গণমাধ্যমগুলো কাজ করতে পারছে না বলেও তিনি মনে করেন। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম তার বক্তব্যে বলেন, অনেক কঠিন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেই গণমাধ্যমকে পথ চলতে হয়। সামনে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ না করলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। সেই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের পথ চলতে হবে।

প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের গণতন্ত্র বিকাশে ভূমিকা পালনে কোনো আপোষ করার সুযোগ নেই। তবে ক্ষমতাবান লুটেরা, সুবিধাবাদী, গডফাদারদের বিরুদ্ধে পূর্ব পশ্চিম সব সময় সোচ্চার রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। যত ঝুকিই থাকুক সামাজিক ও রাজনৈতিক অসঙ্গতি আমরা তুলে ধরব। বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করব। তিনি প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য বেশকিছু পুরুষ্কারও ঘোষণা করেন। যার মধ্যে রয়েছে-প্রতি মাসে একজনকে সেরা প্রতিবেদক, প্রতিবছরে দশজন সেরা প্রতিবেদক ও তিনজনকে সম্পাদক পদক দেয়া হবে। সম্পাদক পদক হিসেবে দশ হাজার টাকা পুরুষ্কার দেয়ার কথা জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পূর্ব পশ্চিম সম্পাদক খুজিস্তা নুর ই নাহরীন মুন্নি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্য কথা বলা সবচেয়ে কঠিন কাজ। সত্যকে আমরা মেনে নিতে পারি না। তারপরও শত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আমাদের সত্য প্রকাশ করতে হবে। পূর্ব পশ্চিম সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, প্রযুক্তি আমাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করে আমাদের একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে একসাথে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অথিতিরা পূর্ব পশ্চিমের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করার পাশাপাশি বস্তু-নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের তাগিদ দিয়েছেন। পূর্ব পশ্চিমের উজ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

ছয় জেলা প্রতিনিধিকে সম্মাননা প্রদান

অনুষ্ঠানের শেষদিকে পূর্ব পশ্চিম অনলাইনে কর্মরত জেলা প্রতিনিধিদের মধ্যে থেকে ছয়জনকে তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সেরা প্রতিবেদকের পুরষ্কার দেয়া হয়। পুরুষ্কার পেয়েছেন- এম এ কাইয়ুম (মৌলভিবাজার প্রতিনিধি), রবিউল ইসলাম রবি (লালমনিহাট প্রতিনিধি),  মাহমুদল হাসান (গাজীপুর প্রতিনিধি) , হাসান ফয়েজী (মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি),  সুলতান মাহমুদ (দিনাজপুর  প্রতিনিধি) ও আবদুস সালাম বাবু (বগুড়া প্রতিনিধি)।

সেরা জেলা প্রতিনিধিদের হাতে পুরুষ্কার তুলে দেন  ইকবাল সোবহান চৌধুরী,  আবুল হাসান চৌধুরী, নাঈমুল ইসলাম খান ও নঈম নিজাম ।

close