• শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

নাটকে অভিনয়ে সুযোগের কথা বলে নরসিংদী নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ

প্রকাশ:  ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১৯ | আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে নরসিংদী নিয়ে গণধর্ষণের করার অভিযোগে এক তরুণী রামপুরা থানায় মামলা করেছেন। তার মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত আসামি নাহিদ শাহরিয়ার রাজ, হারুন ভূঁইয়া ও মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুই আসামি এখনো পলাতক আছে।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান খান তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালতে মনিরুজ্জামান তার প্রতিবেদনে বলেন, তদন্ত জানা যায়, আসামি নাহিদ শাহরিয়ার রাজ ও ডিজে সোহাগ অর্থের বিনিময়ে ভিকটিম তরুণীকে অপর আসামিদের কাছে তুলে দেয়। আসামি হারুন তার নিজ প্রাইভেটকারযোগে তরুণীকে নিয়ে নরসিংদীতে নিয়ে হারুন, খোকা, আজাদ ও মাসুদ তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
 
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর রাতে মেয়টি ধর্ষণের শিকার হন। এরপর গত ৮ নভেম্বর মেয়েটি বাদী হয়ে গণধর্ষণের মামলা করেন। মামলায় তরুণী অভিযোগ করেছেন, রামপুরার একটি ফাস্ট ফুড দোকানে তিনি চাকরি করেন। রামপুরায় এনএস রাজ (নাহিদ শাহরিয়ার রাজ) নামের এক যুবক তাকে টিভি নাটকে অভিনয় করার প্রস্তাব দেন। পরে তরুণী সেই প্রস্তাবে রাজি হন। রাজ তাকে দেখা করার কথা বললে তিনি গত ৪ নভেম্বর রাতে হাতিরঝিল এলাকায় আসেন। পরে সেখানে রাজের পরিচিত ডিজে সোহাগ আসে। তাদের সঙ্গে ওই তরুণী নাটকের স্ক্রিপট নিয়ে কথা বলতে থাকে। এরপর সেখানে একে একে আসে হারুন মোল্লা, মাসুদ ও আজাদ।
 
রাজ তাদের সঙ্গে তরুণীকে পরিচয় করিয়ে দেয়। তখন রাত ১০টা। আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে হারুন মোল্লা তরুণীকে গাড়িতে ওঠায়। গাড়ি যখন মগবাজার পার হয়ে যাচ্ছিল তখন ওই তরুণী আইসক্রিমের দোকান দেখিয়ে গাড়ি থামানোর জন্য চালককে বলে। কিন্তু গাড়ি চলতে থাকে। তার মুখ চেপে ধরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদীতে। সেখানকার একটি গাড়ির গ্যারেজে তাকে চারজন ধর্ষণ করে। পরদিন সকাল বেলা তরুণীকে স্থানীয় একটি টেম্পোস্ট্যান্ড নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি হন মেয়েটি। সেখানে তার ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

 

close