• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

আনিসের কবর শুকায়নি: তেজগাঁও ট্রাকের দখলে

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:১৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
প্রিন্ট

ফের তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তা ও তেজগাঁও শিল্প এলাকার সড়কগুলো দখল নিয়েছেন বাস-ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান চালকরা।রাত হলেই তারা সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করছেন।এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রাতে চলাচলরত চালকরা।   

মঙ্গলবার  দিবাগত রাত ১টায় তেজগাঁও এলাকায় সরেজমিনে  গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কের দুই পাশে কোথাও এক লাইন, কোথাও দুই লাইনে করে পার্কিং করা হয়েছে শতশত ট্রাক ও বাস। এতে ভোগান্তি হচ্ছে রাতে চলাচলরত যানবাহনের।  

বিশেষ করে মহাখালী থেকে মগবাজার ময়মনসিংহ রোডে শাহ-ফাতেহ আলী, একতা, নিরালা, সোনার বাংলা, মহানগর, বিনিময়, নিরালা সুপার পরিবহনসহ ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরগামী বাসগুলো মূল সড়কে দুই লাইনে দাঁড়িয়েছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে কোনোভাবে একটি বাস কিংবা ট্রাক যাতায়াত করতে গিয়েও ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে গভীর রাতেও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। একই অবস্থা তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনের সড়কে। শতশত ট্রাক সড়কের দুই পাশে দুই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।


এই দুই এলকার রাস্তা দিয়ে কোনো রকম একটি বাস কিংবা গাড়ি পার হতে পারলেও নাবিস্কো থেকে গুলশান লিংক রোডসহ শিল্পাঞ্চল এলাকার রাস্তাগুলোতে এমনভাবে গাড়ি রাখা হয়েছে যে রিকশা চলাচল তো দূরের কথা মানুষ চলাচলেরও কোনো জায়গা নেই। এসময় কথা হয়, সিএনজি স্টেশনে ৫ বছর ধরে কাজ করে আসা তন্নয় খান তপুর সঙ্গে। তিনি বলেন, রাত হতে দেরি হলেও রাস্তায় ট্রাকের পার্কিং হতে দেরি হয় না। ফলে এই এলাকায় চুরি-ছিনতাই অনেক বেড়েছে।

কিশোরগঞ্জগামী উজান-ভাটি পরিবহনের হেলপার ফাহিম বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে কিশোরগঞ্জের বাসগুলোর পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে নাবিস্কো-গুলশান লিংক রোডের ওপর রাখি।

অনন্যা পরিবহনের হেলপার মাসুম বলেন, গাড়ি পাহারা দিতে হয়। না হলে গাড়ি থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে নিয়েযায়।তাই গাড়ি রেখে কোথাও যাওয়া যায় না। গাঁজা-হেরোইন সেবীরা এগুলো চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানান তিনি।
 তিনি বলেন, সারাদিন কষ্ট করে আসার পর ঘুমিয়ে গেলে মোবাইল চার্জার, লাইটের বাল্প ইত্যাদি নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, পুলিশও জ্বালাতন করে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার টহলরত পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এক লাইন, দুই লাইন করে অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে বাস-ট্রাক।যার ফলে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের উৎপাত বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ীদের তৎপড়তা। 

তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত রাস্তাগুলোকে দখল মুক্ত রাখা দরকার। রাস্তায় বাস-ট্রাক দাঁড়ানো না থাকলে এলাকায় চুরি-ছিনতাই হবে না। মানুষ নিরাপদে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।

২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করেন সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। 

close