• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধানসহ গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশ:  ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:০২ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৫
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট

পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের ইন্টেলিজেন্স শাখা ও বগুড়া জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার সামরিক প্রধানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অভিযানে চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫টি গুলি, ম্যাগাজিন, ১টি চাপাতি ও ৪টি বর্মিজ চাকু উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে বগুড়া পুলিশ বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বিপিএিম জানান, গত বুধবার রাত ১টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের ইন্টেলিজেন্স শাখা যৌথ অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবি’র সামরিক প্রধান বাবুল মাস্টার সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার, শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি মিজান, সক্রিয় সদস্য আলমগীর ওরফে আরিফ, সক্রিয় সদস্য আফজাল ওরফে লিমন।

পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫টি গুলি, ম্যাগাজিন, ১টি চাপাতি ও ৪টি বর্মিজ চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমের গ্রেপ্তারকৃতদের ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বিপিএিম আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার (৪৫) দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার জালেপাড়ার মৃত শফিকুল ইসলাম শফু দর্জি ছেলে। বাবুল মাস্টার  ২০০৩ সাল থেকে জেএমবি কার্যক্রমের সাথে জড়িত। এবছর শুরুর দিকে সে নব্য জেএমবির ১৬ জেলার সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য হয়। সে রংপুর জেলার কাউনিয়া  খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামী। ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গীর আলমের পর নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বাবুল। গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির শুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান (৩৯) বগুড়া শেরপুর থানাধীন গাড়িদহ জোয়ানপুর জঙ্গি আস্তানার অন্যতম প্রধান আসামী এবং বিষ্ফোরণের পর ঐ জঙ্গি আস্তানা হতে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ পালিয়ে যায়। দেলোয়ার নওগাঁ জেলার মান্দা থানার হাজীপাড়ার মৃত লোকমান আলীর  ছেলে। 
দেলোয়ার রাজশাহীর বাঘমারা থানার আহম্মদীয়া মসজিদে আত্মঘাতি হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী। যা বাংলাদেশে প্রথম আত্মঘাতি হামলা। দেলোয়ার পারিবারিক ভাবে নারী/পুরুষ সকল সদস্যই যেমন তার ৪ ভাই, ১ ভাতিজা,  ও ভাগনে নব্য জেএমবির সক্রিয় সদ্যস্য। নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য আলমগীর হোসেন (২৮) ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে জেএমবি’র শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা সাগরের মাধ্যমে যোগ দেয়। গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য আফজার হোসেন ওরফে লিমন২০১৬ সালের শুরুতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতা রাজীব গান্ধীর হাত ধরে জেএমবিতে যোগদেন।

নব্য জেএমবির গ্রেপ্তারকৃতদের পরিকল্পনা নিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান বিপিএম জানান, গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির সদস্যরা রাজধানী ঢাকায় বড়ধরণের হামলা সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করে। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে তারা পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহনের জন্য ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নিকট ভবিষ্যৎতে রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের  হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৫ সালের শেষের দিকে বগুড়ার শেরপুরের গাড়িদহ জোয়ানপুরের কুঠিরভিটা গ্রামে উত্তরবঙ্গের নব্য জেএমবি’র সর্ববৃহৎ আস্তানা গড়ে তোলে দেলোয়ার মিস্ত্রি। এই শেরপুরের এই আস্তানায় নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা তামিম চৌধুরী, মারজান, সাগর, রাজীব গান্ধী, বাবুল মাস্টার, রিপন, কাওছার, ওসমান, মমিন ও রজব সহ অনেকে নিয়মিত যাতায়াত করত। এই আস্তানা থেকেই ২০১৫-১৬ সালে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন টার্গেট কিলিং এর পরিকল্পনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর বগুড়া জেলার শিবগঞ্জে শিয়া মসজিদ হামলায় ব্যবহৃত ২টি আগ্নেয়াস্ত্র একে ২২ রাইফেল ও বিদেশী পিস্তল এ আস্তানা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

close