• শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, -৩ পৌষ ১৪২৪
  • ||
  • আর্কাইভ

আইএইচটিতে বেপরোয়া ছাত্রলীগ

প্রকাশ:  ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:২৫ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৭
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রিন্ট

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, সংগঠনটির সভাপতি সাধারণ ও সম্পাদক থেকে শুরু করে  কর্মীরাও জড়িয়ে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এমনকি শিক্ষকদেরও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরীক্ষার সময় নকল করা এবং ভাইভা পরীক্ষায় প্রভাব বিস্তার করার মতো অভিযোগও রয়েছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। সরেজমিন আইএসটিতে সংবাদ সংগ্রহে গেলে ভুক্তভোগীরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন।  

গত বুধবার সকালে আইএইচটি ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এই ঘটনার পর আইএসটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কৃর্তপক্ষ। এই ঘটনায় আইএসটি-এর ছাত্রলীগের চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে রাজশাহী মহানগর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
বহিষ্কৃত চার নেতা হলেন, রাজশাহী আইএইচটি ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুহিন, সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ও ফায়সাল হোসেন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ চারজনকে বহিস্কার করা হলেও এখনো তাদের সাঙ্গ-পাঙ্গরা প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছে। এমনকি তাদের ছত্রছায়ায় বহিরাগতরাও আইএসটিতে বহাল তবিয়তে রয়েছে। ছাত্রলীগের এই গ্রুপটির কারণে এখনো আতঙ্কিত আইএইচটির সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। চিহ্নিত এই গ্রুপটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

আইএইচটির শিক্ষার্থী রেজওয়ানা সুলতানা নিসা, নাবিলা, জুঁই, মীম, রুপাসহ আরও অনেক ছাত্রী  অভিযোগ করে জানান, ছাত্রলীগের এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল। তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তারা সেই ছাত্রীকে গণধর্ষণের হুমকি দিত। এমনকি বাইরে বের হলে লাঞ্চিত করারও হুমকি দিত। এসব নিয়ে অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো ওই ছাত্রলীগ নেতারাই কখনো কখনো সাধারণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় করত। তারা শিক্ষকদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাত। শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ছাত্রীর ভালো সম্পর্ক থাকলে সেই শিক্ষকের স্ত্রী হিসেবে ওই ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে ঘোষণা দিত। এতে করে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ত। এভাবেই তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করত।

আইএইচটির ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতারা সাধারণ ছাত্রীদের দেখলেই নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। তারা ছাত্রী হোস্টেলের ভিতরেও ঢুকে পড়ত। গাছের ফল চুরি করে খেত।

আইএইচটির কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুহিন, সহসভাপতি মিজানুর রহমান মিজান ও ফায়সাল হোসেন ছাড়াও কর্মী সাইদ হাসান, মাহমুদ হাসান, জাকির হোসেন, কাইউম, নাহিদসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীর দাপটে অতিষ্ঠ থাকতে হত শিক্ষকদের। তারা পরীক্ষার হলে নকল করত প্রকাশ্যে। বাধা দিতে গেলেই প্রভাব বিস্তার করত। এমনকি ভাইভাতেও প্রভাব বিস্তার করত। এভাবে শিক্ষকদের হয়রানি করত। এদের সঙ্গে বহিরাগত কয়েকজন এসে ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয় আর প্রভাব বিস্তার করে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ আইএইচটির বহিস্কৃত সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন তুহিন অভিযোগ অস্বীকার করেন।

/মজুমদার

‘তারেক আলিবাবা চল্লিশ চোরের থেকেও বড় চোর’

close