• বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

পূর্বপশ্চিমকে একান্ত সাক্ষাতকারে নেছার আহমদ

‘নেত্রী নৌকার মাঝি আমাকেই করবেন’

প্রকাশ:  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:১৬ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৮
এম. এ. কাইয়ুম, মৌলভীবাজার
প্রিন্ট

নেছার আহমদ। চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারে সর্ব মহলে একজন ‘পরিচ্ছন্ন’ ও ‘সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে যার খ্যাতি। নেছার আহমদকে কেউ কেউ আবার ২৪ ঘণ্টার রাজনীতিবিদ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে একজন সফল সংগ্রামী এবং নীতিবান বঙ্গবন্ধু আদর্শের প্রেমিকও বলা যায় তাকে। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা সদরের গুজারাইয়ে একটি মুসলিম পরিবারে ১৯৫২ সালে জন্ম গ্রহণ করেন নেছার আহমদ। খোলামেলা পরিবেশের জমিদার বাড়ি সদৃশ একটি ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে নিতান্তই সহজ-সরল পরিবেশে বসবাস করছেন তিনি। বই পড়া আর খেলাধুলা প্রেমী এই ব্যক্তিকে কখনো ক্ষমতার মোহে অন্ধ হতে দেখেনি কেউ। বরং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সকল সময় তিনি সোচ্ছার কন্ঠস্বর।

তরুণ বয়সে নেছার আহমদ পড়াশোনা ও খেলাধুলায় বেশ মনোযোগী ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে একবার নির্বাচিত হন। এর আগে জেলা পাবলিক লাইব্রেরী সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দুইবার দায়িত্ব পালন করেন। বাপ-দাদার রেখে যাওয়া কয়েক যুগ পূর্বের একটি ঘর সবার জন্য উন্মুক্ত। সে বাড়িতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগাভাগি হওয়ার পাশাপাশি আপ্যায়ন থাকে বাধ্যতামূলক।

নেছার আহমদ মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে এসএসসি, ১৯৭৪ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি ও ১৯৭৭ সালে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বর্ষীয়ান এই নেতা ১৯৬৮ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। সেই সময়ে প্রাথমিক ভাবে ছাত্রলীগের সদস্য পদ গ্রহণ করেন তিনি। এর পর থেকে দেশের গণমানুষের দাবি (স্বাধীন বাংলা) সাথে একতাবদ্ধভাবে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজনীতির মোহে একাধিকভার মৃত্যুর দারপ্রান্ত থেকেও ফিরে এসেছেন তিনি। সাথে মামলা হামলা আর পুলিশি নির্যাতন তো ছিলোই। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তা পরোয়া করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ছিলো তার রাজপথে অবস্থান। সে সময়ের এক দুঃসাহসীক মিছিল আজও দাগ কাটে নেছার আহমদের মনে। সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলা আ.লীগের ক্রান্তিকাল সময়ে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

দায়িত্বভার গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যে পূর্বে দু-গ্রুপে বিভক্ত আ.লীগের নেতা-কর্মীদের এক প্লাটফর্মে বসিয়ে একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করায় জেলা জুড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন তিনি।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে পূর্বপশ্চিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন নেছার আহমদ।

পূর্বপশ্চিম: কেমন আছেন?

নেছার আহমদ: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।

পূর্বপশ্চিম: জেলা আ.লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর থেকে কেমন কাটছে দিনকাল?

নেছার আহমদ: ভালোই কাটছে। মহা একটা দায়িত্বভার কাঁদে। চেষ্টা করছি প্রতিটি বিষয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন করতে। আশা করি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা শতভাগ বাস্তবায়ন হবে।

পূর্বপশ্চিম: রাজনীতিতে শুরু কিভাবে?

নেছার আহমদ: রাজনীতি শুরু আমার ছাত্রজীবন থেকে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমি ছাত্রলীগের ফর্ম ফিলাপ করি ১৯৬৮ সালে। সে সময়ে ছাত্রলীগ আর ছাত্র ইউনিয়ন ছিলো বেশ জনপ্রিয়।

পূর্বপশ্চিম: রাজনীতির জন্য ছাত্রলীগকেই কেনো পছন্দ করলেন, ছাত্র ইউনিয়ন কেন নয়?

নেছার আহমদ: দেখুন, বঙ্গবন্ধুর নেহাত একজন ভক্ত ছিলাম আমি । বাংলাদেশ স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আর বলিষ্টতা আমায় বেশ আকৃষ্ট করে। সেই থেকে শুরু। দেশ স্বাধীনতা লাভের পর সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেই।

পূর্বপশ্চিম: আপনার দীর্ঘ রাজনীতির অভিজ্ঞতা, এ পর্যন্ত কি কি দায়িত্বভার পালন করলেন?

নেছার আহমদ: ১৯৭৮ সালে থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলাম ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত চার বছর। ওই বছর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত জেলা আ.লীগের যুব বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আবার ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করি এবং পরবর্তীতে পুণরায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পাই। ২০০৬ সাল থেকে ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং ওই দিনই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দ আমাকে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন।

পূর্বপশ্চিম: দীর্ঘ ৪৯ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নিশ্চয় উল্লেখযোগ্য কিছু রয়েছে?

নেছার আহমদ: আছে। আজও শরীর শিহরিত হয়ে উঠে। তখন ক্ষমতায় ছিলেন জিয়াউর রহমান। মার্শাল ‘ল ভাঙ্গার ঘটনায় দেখা মাত্র গুলির নির্দেশ ছিলো আমাদের উপর । তখন আমি ছাত্র রাজনীতি করতাম। আমরা কজন খুব রাগান্বিত সিদ্ধান্ত নেই মৌলভীবাজারে মার্শল ল ভাঙবই। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের মাত্র ১০ থেকে ১১ জন মিলে মিছিল করার প্রস্তুতি নেই। আমাদের মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ গুলি করার প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান করে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে। আমরা নিশ্চিত মৃত্যু জেনে সেদিন মিছিল শুরু করি। পুলিশের সামনে শহরে মিছিল নিয়ে প্রবেশ করি। কেন জানি পুলিশ গুলি ছুড়ল না। এরপর বেশ সাড়া পড়ে শহর জুড়ে। আত্মগোপনে থাকা অনেকেই রাস্তায় আমাদের সাথে যুক্ত হন।

পূর্বপশ্চিম: বেশ কিছু দিন হলো সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, এদিক থেকে নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

নেছার আহমদ: আমার কাছে বিশেষ পরিবর্তন ধরা পড়েছে। জেলা আ.লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর সাধারণ মানুষ আমায় ভালোভাবে মূল্যায়ন করছে। তাদের সাবলিলতায় মনে হয় আমি ওদের অনেক আপন কেউ। বলা যায় নেতা-কর্মীদের পাশাপশি এ মূল্যায়ন আমার অনেক বড় পাওনা। এ জন্য আ.লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

পূর্বপশ্চিম: আপনি দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিনের মাথায় জেলা আ.লীগের একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা দিয়েছে, কিভাবে সম্ভব হল?

নেছার আহমদ: মৌলভীবাজার জেলা আ.লীগে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগীতা আছে বলেই দীর্ঘ দিন পর এক টেবিলে সব নেতা কর্মীদের নিয়ে বসতে পেরেছি। এ যেন নতুন করে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। আমি শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সব মান অভিমানের অবসান ঘটিয়ে আমরা একটি বলয়ে আবদ্ধ হবো। ব্যক্তি নয় আ.লীগের হয়ে কাজ করব সবাই।

পূর্বপশ্চিম: আপনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে জেলা জুড়ে এক দৃশ্যমান বিভক্তী-কোন্দল ছিলো আ.লীগের, আগামী নিবার্চনের পূর্বে এসব গুছিয়ে আনা সম্ভব কি?

নেছার আহমদ: এটা বিভক্তি নয় দলের মধ্যে প্রতিযোগীতা। শুধু কুলাউড়ায় সমস্যা বেশি। আর কোনো উপজেলায় এসব নেই।

পূর্বপশ্চিম: জেলার ৭টি উপজেলায় বর্তমানে আ.লীগের অবস্থান কেমন?

নেছার আহমদ: কুলাউড়া ছাড়া, বাকী সবকটি উপজেলায় আ.লীগের অবস্থান ভালো। তবে তিনটি উপজেলায় প্রতিযোগীতা আছে। আর আ.লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র কুলাউড়ায় হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত অনেক কাজ হয়েছে সেখানে। যা অন্যান্য উপজেলায় হয়নি।

পূর্বপশ্চিম: কুলাউড়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার বিষয়টাও কি?

নেছার আহমদ: সাধারণ সম্পাদকের উপর হামলার ঘটনা একটা নিন্দনীয় বিষয়। তবে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিচ্ছিন্ন এমন ঘটনা করাই দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী।

পূর্বপশ্চিম: কুলাউড়ায় দলের এহেন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য কি নেতৃত্ব সঙ্কট নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার?

নেছার আহমদ: আমি আগেই বলেছি, কুলাউড়া নিয়ে আমাদের একটি মিশন আছে। সে আলোকেই এগোব। আশাবাদী সাড়া পাব।

পূর্বপশ্চিম: এতে আপনাদের করণীয় কি হতে পারে? আর আপনার মিশনটা কি রকম হতে পারে?

নেছার আহমদ: আমার একটি মিশন আছে এ বিষয়ে। ২০১৮ সালের জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে জেলা আ.লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই এ বিষয়ে আমরা সম্মিলিত উদ্যোগে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করব। এবং আমি বিশ্বাস করি আমরা সফল হবো। তবে দলের স্বার্থে শৃঙ্খলার বাইরে কোন কিছু জেলা আ.লীগ বরদাস্ত করবে না। সমঝোতার মধ্যে সব সমাধান হয়, কুলাউড়ায় কেন হবে না। চিহ্নিত করব কেন এমনটা হয়েছে, সবাইকে নিয়ে কাজ করবো। এ কাজে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা আমাদের ডাকে অবশ্যই সাড়া দিবে।

পূর্বপশ্চিম: কুলাউড়া উপজেলা আ.লীগের বর্তমান সভাপতি স্থানীয় এমপি আব্দুল মতিন। গ্রুপিং থাকায় উনার সভাপতিত্ব নিয়ে একপক্ষ বেশ বিতর্ক সৃষ্টি করছে, বিষয়টার ব্যাখা?

নেছার আহমদ: এখানে বির্তকের কিছু নেই। নেত্রী যখন আব্দুল মতিনকে দলে নিলেন এরপরেই কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সেটা উপজেলা আ.লীগের কার্যকারী পর্ষদের একটি রেজুলেশনের মধ্যে দিয়ে জেলা কমিটি কার্যকর করে। যেহেতু নেত্রী উনাকে গ্রহণ করেছেন, তাই আমরা উনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছি।

পূর্বপশ্চিম: আপনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর আ.লীগের সভানেত্রীর সাথে দেখা করেছেন, নেত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে কি?

নেছার আহমদ: সদস্য সংগ্রহে গুরুত্বের পাশাপাশি দ্রুত উপজেলাগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করতে জননেত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের উন্নয়ন সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরা।

পূর্বপশ্চিম: আপনার নেতৃত্বাধীন সব উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন কবে হচ্ছে?

নেছার আহমদ: জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হাতে পাওয়ার পরপরই একটি সভা বসবে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন উপজেলা কবে সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে বড়লেখা উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

পূর্বপশ্চিম: উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে না পরর্বতী সময়ে?

নেছার আহমদ: অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে। জেলা কমিটি হাতে আসার দেড় থেকে দুই মাসের মাথায় ৬টি উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন করব। ধারাবাহিকভাবেই সম্মেলন হবে।

পূর্বপশ্চিম: সম্মেলন নিয়ে বিশেষ কিছু, ত্যাগীরা কিভাবে মূল্যায়িত হবে?

নেছার আহমদ: তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ কমিটি উপজেলাগুলোতে দেওয়া হবে। আমাদের দলের ঐতিহ্য সিনিয়রদের মূল্যায়ন করা। তবে সৎ, নিষ্টাবান, সততার দিক দিয়ে যারা উর্ধ্বে থেকে দলের কাজ করেছেন তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। দলের স্বার্থে যাকে যেখানে স্থান দেওয়া দরকার আমরা তা করবো। প্রবীণ এবং নবীণদের সমন্বয় করে কমিটিগুলো করা হবে।

পূর্বপশ্চিম: কুলাউড়ায় মাইনাস টু ফর্মুলার একটা আভাস আসছে, বিস্তারিত জানতে চাই?

নেছার আহমদ: এমন কোনো ফর্মুলা আমার নেই। মিশন বাস্তবায়নে চেষ্টা করব। অন্যতায় দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে যা প্রয়োজন তাই করব। অনেকে অনেক কিছু বলছে, শুনছি। সেটা বড় বিষয় নয়। আমাদের কাছে যা করা প্রয়োজন মনে করব তাই করবো।

পূর্বপশ্চিম: আগামী জাতীয় নির্বাচন আ.লীগের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ, সে আলোকে মৌলভীবাজারের অবস্থান কি?

নেছার আহমদ: মৌলভীবাজারের চারটি আসনে আ.লীগের বিজয় সুনিশ্চিত। আমরা এ আলোকেই কাজ শুরু করেছি। তখন যদি হাইকমান্ডের কোনো নিদের্শনা থাকে, সে আলোকেই ব্যবস্থা নিব।

পূর্বপশ্চিম: চারটি আসনের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী আ.লীগের, অন্যদিকে বিরোধী রাজনীতিকদেরও প্রভাব আছে, এটা কি জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে?

নেছার আহমদ: মনে হয় না প্রভাব পড়বে। বড় দলে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগীতা থাকাটা স্বাভাবিক। দলের রাজনীতি করে যে কেউ দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারে। দলীয় প্রতীক দেওয়া না দেওয়া মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তবে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে কোনো ছাড় নেই। আমার মনে হয় না মৌলভীবাজার জেলায় আওয়ামী রাজনীতির বিরোধী শক্তির কোনো প্রভাব আছে।

পূর্বপশ্চিম: কারা মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে হয়?

নেছার আহমদ: এটা খুবই পরিষ্কার। নিষ্টার সাথে যারা দলের কাজ করছে, লোভ-লালসার উর্ধ্বে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছে তারাই মনোনয়ন লাভে গুরুত্ব পাবে বলে আমার মনে হয়। এতে অবশ্যই সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে।

পূর্বপশ্চিম: দশম নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এবারও কি চাইবেন?

নেছার আহমদ: নিশ্চিয় মনোনয়ন চাইব এবং আমি শতভাগ আশাবাদী মৌলভীবাজার-৩ আসনে নৌকার টিকেট পাব।

পূর্বপশ্চিম: মৌলভীবাজার আ.লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কোনো বার্তা?

নেছার আহমদ: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০৪১ সালের যে ভিশন জননেত্রী শেখ হসিনা সরকার হাতে নিয়েছে এবং অতীত-বর্তমানে উন্নয়ন হচ্ছে তা জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সবার আগে দেশ, তারপর দল। এবং এই স্বাধীন দেশের স্বার্থে যত আন্দোলন সংগ্রাম তার সবগুলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে হয়েছে। আর দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে রোধ করতে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

পূর্বপশ্চিম: আগামীর প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনার চিন্তা?

নেছার আহমদ: বর্তমানে দেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে দেশী বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে। আর তা বেশ শক্ত হাতে মোকাবেলা করছে বর্তমান সরকার। দেশের তরুণ প্রজন্মকে জঙ্গিবাদে লিপ্ত করে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় একটা চক্র। তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান, আমাদের দেশ শান্তির দেশ। এই দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য রক্ষায় তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে তরুণ সমাজের ভূমিকা অবশ্যম্ভাবি। দেশ মধ্যম আয়ের দ্বারপ্রান্তে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বের মানচিত্রে মাথা তুলে দাড়াবোই আমরা। জয় বাংলা।

পূর্বপশ্চিম: ধন্যবাদ, পূর্বপশ্চিমকে সময় দেওয়ার জন্য।

নেছার আহমদ: আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ও জেলা আ.লীগের পক্ষ থেকে পূর্বপশ্চিম পরিবারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।