• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

পুরানো মামলায় ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাদাত নিজেও জানেন না তিনি কোথায় ছিলেন!

প্রকাশ:  ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:২৩ | আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৪৬
আদালত প্রতিবেদক
ফাইল ছবি
প্রিন্ট
নিখোঁজ হওয়ার ১৩০ দিন পর পুলিশ কর্তৃক ধৃত বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাদাত আহমেদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ২০১৫ সালে দায়ের করা একটি মামলায় রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হাই এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম খান তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এদিকে ১৩০ দিন নিখোঁজ অবস্থায় সৈয়দ সাদাত আহমেদ কোথায় ছিলেন তা তিনি নিজেও জানেন না বলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানির আগে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানোর পর এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ সাদাত আহমেদ বলেন, গত ২২ আগস্ট তাকে তুলে নেওয়ার পর তার চোখ বেধে ফেলা হয়। এরপর তাকে কোথায় রাখা হয়েছিল তা তিনি জানেন না। কারা তুলে নিয়েছিল তাও জানেন না। শনিবার তাকে রামপুরা ব্রিজের উপর নামিয়ে দেয়। সেখানে দিকবেদিক ঘুরাঘুরির সময় ডিবি পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এ সম্পর্কে আদালতে আসা সৈয়দ সাদাতের শ্যালক আসগর জানান, আমরা জানি গত ২২ আগস্ট সাদা পেশাকে আইন শৃঙ্গলাবাহিনীর পরিচয়ে তাকে তুলে নেওয়া হয়। শনিবার কিভাবে তাকে কোথা থেকে পাওয়া গেছে তা আমরা জানি না।  

রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে সৈয়দ সাদাতের পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২২ আগস্ট বিমানবন্দর সড়কের বনানী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন সৈয়দ সাদাত আহমেদকে তার ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। ওই সময় গাড়িতে সাদাতের ছেলেও ছিল। কিন্তু তাকে নেয়নি অপহরণকারীরা। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনায় ঘটনায় সাদাতের স্ত্রী ক্যান্টনমেন্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন। আমাদের সৌভাগ্য যে তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন। এখন ২০১৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা সারপ্রাইজ ছাড়া আর কিছুই নয়।

শুনানির পর ওই আইনজীবী এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সবাই বুঝতে পারছি যে কি হয়েছিল। কিন্তু এ কথা এখন বলা সম্ভব নয়।

এদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৯ জানুয়ারি বিএনপিসহ ২০ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাত সোয়া ১১টার দিকে মগবাজারস্থ সেলিব্রশন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে ঢাকা মেট্টো খ- ১১-১৪৫৯ নম্বরের টয়োটা প্রাইভেটকার পার্কিংরত অবস্থায় অবরোধকারীরা পেট্টোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় গাড়িতে থাকা ড্রাইভার আবুল কালাম অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে ওই বছর ১৫ জানুয়ারি সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এই মামলায় আসামি সৈয়দ সাদাত প্রতক্ষ্যভাবে জড়িত মমে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমান যাওয়া যাচ্ছে। এই মামলায় এখানো অনেক আসামি পলাতক আছে। তাদের গ্রেপ্তারে জন্য এই আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।    

পুলিশের দাবী শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা ব্রিজের পাশে একটি ব্যাগসহ সাদাতকে পাওয়া যায়। তার ব্যাগে একটি ল্যাপটপ, ৩টি মোবাইল ফোনসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক চেক ও নথি ছিল।