• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

মানবিক কারণে আশ্রিত রোহিঙ্গা পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনছে

প্রকাশ:  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:৩৪ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:০২
মজুমদার ইমরান
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলেও বর্তমানে তারা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাড়িঁয়েছে। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, কৃষি জমি দখল, সংক্রমণ ব্যাধি, পরিবেশ বিপর্যয়, অপরাধ, শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরির কারণ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রশাসন বলছে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রর্ত্যাবর্তনের জন্য কাজ করছে সরকার।

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী নৃশংস জাতিগত নিধনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতন। ২৫শে আগস্টের পর থেকে চলা এ ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজারে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দেয়া হলেও তারা এখন নানামুখী সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে হামলার জের ধরে শুরু হয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে বানের পানির মতো বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাংলাদেশে আসার স্রোত এখনও চলমান রয়েছে। নতুন ৭ লাখসহ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। কোন কিছুতেই সেই স্রোত আটকানো যাচ্ছে না। বিশ্ব নেতাদের চাপ শুরুতে মায়ানমারের ওপর থাকলেও এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে গিয়ে অপরাধ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং সংক্রামক ব্যাধিতে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে উখিয়া ও টেকনাফ।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, 'সোশ্যাল কিছু ব্যাঘাত ঘটছে, কারণ তারা এ দেশের আইন-কানুন জানে না।' রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, 'তাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবসান করলেই আমাদের সমস্যার সমাধান হবে।'

শীর্ষ কর্মকর্তারা জানালেন স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের কারণে উজাড় হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি ও স্থানীয়দের ১শ একরের বেশি কৃষি জমি। কাটা হয়েছে ৪শ কোটি টাকার গাছ। আর প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৭৫০ মেট্রিক টন বনের গাছ। এইডস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২৭ জন ও ডিপথেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে ২হাজার ৭শ রোহিঙ্গা। বিভিন্ন অপরাধে সাজা হয়েছে ৬০৭ জনের; মামলা হয়েছে ২৮টি।

এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে মানবিক কারণে আর কতদিন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে বাংলাদেশ?

/মজুমদার

apps