• রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

২০১৮ সালের প্রথম শিশু আরিফা

প্রকাশ:  ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:০৯
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
‘ওহ বাবা, দেখেছেন, কেমন ড্যাব ড্যাব করে চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। মনে হয় আস্ত একটা বুড়া। কেউ বলবে বয়স মাত্র ১৫ ঘণ্টা। মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ, মাইয়া বাইচ্যা থাকুক।’ এ কথা বলেই দুই তরুণী নার্স হেসে গড়িয়ে পড়লেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিচ তলায় ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে সালমা নামের এক রোগীর বেডে শুয়ে থাকা এক নবজাতক শিশুকে নিয়ে দুই নার্সের মধ্যে এমন কথোপকথন শোনা যায়। ওয়ার্ডে আরও অনেক নবজাতক থাকলেও নববর্ষের প্রথম প্রহরে জম্ম নেয়া ওই নবজাতককে নিয়েই সবার আলোচনা। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, রোববার রাত দেড়টায় হাসপাতালের দোতলায় ২১২ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) চিকিৎসকরা সালমা নামের এক গৃহবধূর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। তারা জানান, বর্তমানে মা ও মেয়ে দু’জনেই সুস্থ রয়েছেন। নবজাতক মায়ের বুকের দুধ খাচ্ছে। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সারাবিশ্বে প্রতিদিন লাখ লাখ শিশু ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু কিছু কিছু দিবসের প্রথম প্রহরে জন্ম নেয়ার স্মৃতি ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেরই হৃদয়পটে স্থান করে নেয়। ব্যতিক্রম নয় দাউদকান্দি জেলার রায়পুরা থানার মালিখিল বেকিনগর গ্রামের গৃহবধূ সালমার ক্ষেত্রেও। আগে আরও তিন মেয়ে ও এক ছেলের জন্ম দিলেও নববর্ষের প্রথম প্রহরে জন্মগ্রহণ করায় এই নবজাতক মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে তার ভীষণ আনন্দ। একে তো পেট কেটে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার তার ওপর পেটে পাথরজনিত সমস্যার কারণে ভালো করে মেয়েকে কোলে নিতে পারছিলেন না। তবুও কষ্টের হাসি হেসে বলেন, তিনি খুব আনন্দিত। সবার কাছে মেয়ের মঙ্গল কামনায় দোয়া চাইলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাই বায়েজিদ বোস্তামি যেন মায়ের চাইতে বেশি খুশি। আর তাই তো মায়ের কাছে বায়না ধরেছে সে বোনের নাম রাখবে আরিফা। ছেলেকে খুশি করতে মাত্র ১৫ ঘণ্টা আগে জন্মগ্রহণ করা মেয়ের নাম রেখেছেন আরিফা। একটু খেয়াল করতেই দেখা যায়, শিশুটি ড্যাব ড্যাব করে এদিক-সেদিক তাকাচ্ছে। একটু পরপর হাই তুলছে। ছোট্ট কোমল হাতের আঙুল দিয়ে গায়ে থাকা কাঁথাটি সরানোর চেষ্টা করছে। কখনও কানে কখনও আবার নাকে মুখে হাত রাখছে। আরিফার বাবা আলমগীর সরকার জানান, তিনি দাউদকান্দিতে মাছের ঘেরের ইজারাদার। আরও দুই মেয়ে ও এক ছেলে থাকলেও ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে জন্ম নেয়া এই শিশুটি পেয়ে তিনি আনন্দিত। তিনি জানান, বর্তমানে চাষ করা মাছ ধরার কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকলেও মেয়েকে দেখতে ছুটে এসেছেন। তিনিও মেয়ের জন্য দোয়া চাইলেন। গাইনি বিভাগ ও প্রশাসন শাখা থেকে জানানো হয়, হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়া তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসিরউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি জানান, ঢামেক হাসপাতালে ২০১৭ সালে স্বাভাবিক ও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৩৩টির বেশি নবজাতকের জন্ম হয়েছে। স্বল্প খরচে এ হাসপাতালে রোগীদের ডেলিভারি করানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকাশিত লোকাল হেলথ বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে ঢামেক হাসপাতালে মোট ১২ হাজার ১শ’ ৪৩টি নবজাতকের ডেলিভারি হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ৬ শ’ ৪৪টি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হয়। সূত্র: জাগো নিউজ