• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

যে কারণে ত্রি-দেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ

প্রকাশ:  ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৩০ | আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৪৩
সম্রাট কবির
প্রিন্ট

ত্রি-দেশীয় সিরিজে অংশ নিতে চলতি মাসে বাংলাদেশে আসছে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশে আসবে ১০ জানুয়ারি।এর তিনদিন পর আসবে লঙ্কানরা।সিরিজ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি।ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জানুয়ারি। উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেই আসছে জিম্বাবুয়ে।জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ত্রি-দেশিয় সিরিজ এবং ৩১ জানুয়ারি থেকে লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট ও ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দু’ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ।

কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ে দল শ্রীলঙ্কা এসেছিল।স্বাগতিকদের হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল জিম্বাবুইয়ানরা। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবার ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে দলটি।

এদিকে সিরিজে ফেবারিটের তকমা গায়ে মেখেই খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সব শেষ সিরিজে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ড্র করেছে টাইগাররা। আর জিম্বাবুয়েকে তো হোয়াইটওয়াশ করেছেন মাশরাফিরা। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ এখন অপ্রতিরোধ্য একটি দল। যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে মাশরাফিদের। তা ছাড়া দুই প্রতিপক্ষই এখন র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের নিচে। এর আগে কখনো টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোকে নিয়ে খেলা ত্রি-দেশীয় কোনো সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এবার মাশরাফিদের সামনে দারুণ একটা সুযোগ। একে তো এই মুহূর্তে এগিয়ে বাংলাদেশ তার ওপর খেলা হবে ঘরের মাঠে। সব কিছু মিলেই টাইগাররাই এগিয়ে।

শ্রীলংকা বাংলাদেশে আসার আগে ভারতের মাটিতে ভারতের কাছে হারে।আর এই হারার কারণে লঙ্কানরা কিছুটা মানসিক চাপ নিয়ে খেলতে নামবে।আর এই সুযোগটি টাইগারদের কাজে লাগাতে হবে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়েও আফ্রিকার কাছে বাজে ভাবে হেরে বছর শেষ করে বাংলাদেশে খেলতে আসবে।জিম্বাবুয়ে বরাবরই বাংলাদেশের কাছে পাত্তা পায় না।তার উপর দু'দলই আছে পয়েন্টের দিক দিয়ে নিচে। তাই মানসিক ভাবে চাঙ্গা থাকবে মাশরাফি বাহিনী।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্বলতা হচ্ছে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলে নেই কোনো কোচ। অন্যদিকে টাইগারদের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে শ্রীলঙ্কার হয়ে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। এটিই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। মাশরাফিদের শক্তিমত্ত্বা ও দুর্বলতা সব কিছু তার জানা। তাই লঙ্কানদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে যাবে।

তবে এটাও ঠিক যে, পেশাদার ক্রিকেটাররা খুব ভালো করেই জানেন কখন কি করতে হবে। কোচ ছাড়াও ভালো করা যায়। তার বড় উদাহরণ ভারত। বেশ কিছুদিন প্রধান কোচ ছাড়াই খেলেছে ভা্রত। বেশ কিছু ম্যাচ জিতেছেও। তাই দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখন ফর্মেই রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে জাতীয় দলের তারকারা ভালো খেলেছেন। বিপিএলের ক্রিকেটারদের প্রস্তুতিটাও দারুণ হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজে বিপিএলের প্রস্তুতিটা কাজে লাগতে পারে।বিপিএলে দারুণ ব্যাটিং করেছেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল।সাকিব আল হাসান তো সেরা উইকেট শিকারি হয়েছেন। ব্যাট হাতেও দাপট দেখিয়েছেন এই তারকা।মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও দেখিয়েছেন তার ব্যাটের দাপট।

আর অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি তো আছেন।বাংলাদেশ ক্রিকেটের জীবন্ত কীংবদন্তী হেমোলিয়নের বাশিওয়ালার মতো টাইগার ক্রিকেটের সোনালী দিনের বংশীবাদক এবং রংপুর রাইডার্স এর লড়াকু অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।মাশরাফির চাইতে অনেক বড় ক্রিকেটার ছিলেন এবং আছেনও। কিন্তু নেতা মাশরাফি বিশ্বে বিরল।পরাজয়ে হাবুডুবু খেতে থাকা একটি আত্মবিশ্বাসহীন দলকে দুর্দান্ত ভাবে জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনা, একের পর এক সাফল্য উপহার দেয়া এটা শুধু মাশরাফির ক্ষেত্রেই সম্ভব। মাশরাফি কেন আর দশজনের থেকে আলাদা সেটা এর আগেও অনেকবার মানুষ দেখেছে।বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে একের পর এক জয় উপহার দিয়ে মাথা উচু করে দাড়াতে সাহস দেখিয়েছ।সবশেষ মাশরাফির ভক্তরা দেখলো আরও একবার। বিপিএলের সব মিলিয়ে পাঁচটি আসর শেষ হলো। এর মধ্যে চারবারই চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাশরাফি।

শুধু সিনিয়র ক্রিকেটাররা নন, জাতীয় তরুণ ক্রিকেটাররাও বিপিএলে দাপট দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তি হচ্ছে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান ইনজুরি থেকে ফেরা। এছাড়া দুই পেসার রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ দারুণ বোলিং করেছেন।এখন জাতীয় দলের হয়ে পারফর্ম করার জন্য তারা মুখিয়ে রয়েছেন। তাই ত্রি-দেশিয় সিরিজে বাংলাদেশের ভালো করার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সিরিজে তিন দল একে অপরের বিরুদ্ধে দু'টি করে ম্যাচ খেলবে। তারপর পয়েন্ট পাওয়া দুই দল ২৭ জানুয়ারি ফাইনালে অংশ নেবে।

/সম্রাট

যে কারণে সাব্বিরের পাশে নেই কেউ