• সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

ভোটযুদ্ধে ‘তুরুপের তাস’ হতে চান এরশাদ

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০২:০০
উৎপল দাস
প্রিন্ট
ক্ষমতার রাজনীতিতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ তুরুপের তাস হয়ে ফিরতে চান। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার প্রার্থীর পক্ষে ঘটে যাওয়া বিস্ময়কর ব্যালট বিপ্লব এরশাদ ও জাতীয় পার্টিকে নতুন করে চাঙা করেছে। এবার ইংরেজি নববর্ষের দিন তিনি ঢাকায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় যেমন বক্তব্য রেখেছেন, তেমনি সারাদেশে তার নির্দেশে নেতাকর্মীরা গণমিছিল করেছে। 

ভোটের রাজনীতিতে ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই নানা মামলায় হাত পা বাঁধা এরশাদকে খেলতে হয়েছে। কোনো নির্বাচনেই স্বাধীনভাবে তিনি পথ হাঁটতে পারেননি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আন্দোলনের ঐক্য গড়ে জাতীয় পার্টি রাজপথে যখন ছিল তখন এরশাদ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে। ৯১ সালের নির্বাচনে জেলে বসে তিনি ৫ টি আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন। ভোটযুদ্ধে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তার ও জাতীয় পার্টির জন্য ছিল না। নেতাকর্মীরা ছিলেন জেলে নয় পলাতক। গণরোষে পতিত জাতীয় পার্টি সেই ভোটযুদ্ধে ৩৫ টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ৯৬ সালের নির্বাচনেও এরশাদ কারাগারে বসে ৫ টি আসনে ও তার পার্টি ৩৫ টি আসনে বিজয়ী হয়। কারামুক্ত হয়ে এরশাদ জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী ও সুসংহত করতে কার্যকর, দুরদর্শী ভূমিকা রাখতে পারেননি। এতে জাতীয় পার্টিতে এসেছে বড় ভাঙন। দলের অনেক নেতা তাকে ছেড়ে চলে যান। তিনি জেল খেটে অর্থদন্ড দিয়ে বের হন ৪ দলীয় জোটও ছাড়েন। 

মাঝখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ হারান। কঠিন বিপর্যয়ের মুখেও ২০০১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৪ টি আসন লাভ করে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। ৪ দলীয় জোট বিজয়ী হওয়ায় ভোটের পরদিনই এরশাদ দেশের বাইরে চলে যান। পরিবেশ অনুকূলে এলে দেশে ফিরে দল গুছানোর কাছে হাত দেন। সেই নির্বাচনের আগেও জাতীয় পার্টি আরেক দফা ভেঙে ছিল। 

২০০৬ সালের বাতিল হওয়া নির্বাচনের আগে নানা নাটকীয়তা ও শাস রুদ্ধকর উত্তেজনার মধ্যে প্রধান দুই দল তাকে কাছে টানছিল। কিন্তু শেষ মুহুর্তে আত্নগোপন থেকে বেরিয়ে তিনি যখন পল্টনের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটের মঞ্চে উঠলেন, তখন চারদিকে আনন্দের বন্যাই বয়ে যায়নি; ১৪ দল মহাজোটে পরিণত হয়। সেবার আওয়ামী লীগ তাকে রাষ্ট্রপতি ও ক্ষমতায় এলে আনুপাতিক হারে মন্ত্রীত্ব দানের চুক্তি করেছিল। কিন্তু ওয়ান ইলেভেন এলে সেই চুক্তি তামাদি হয়ে যায়। 

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি আবারো দেশের তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আবির্ভূত হয়। মাহজোট সরকারের অংশীদারও হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে দ্বিধাদ্বন্ধ, নানামুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ জাতীয় পার্টিকে আরেক দফা বিপর্যয়ে ফেলে। মৃদু ভাঙনও দেখা দেয় দলে। তবুও সংসদে বিরোধী দল ও সরকারের অংশীদারিত্ব পায় জাতীয় পার্টি। 

আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এরশাদ নতুন করে আবারো দল গোছানোর কাজ করে আসছেন। ভোটযুদ্ধের বছরের শুরুতেই রংপুরের ফলাফল তাকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। এরশাদ মনে করেন, আগামী নির্বাচনেও তাকে ছাড়া কারো পক্ষে সরকার গঠন যেমন সম্ভব নয়; তেমনি ভোটযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তুরুপের তাস হয়ে তিনি ফিরে আসবেন।