• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

যেসব চ্যালেঞ্জে সফল ছিলেন তারানা

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:২০ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০২
উৎপল দাস
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

একজন মহাশক্তিধর ব্যক্তির সঙ্গে আপোস না করায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারানা হালিমকে। এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন সাধারণ মানুষ থেকে পর্যবেক্ষকরা। তবে তারানা হালিমকে সরিয়ে দিতে সফল হলেও অদৃশ্য শক্তিকে মোকাবিলা করে সততা, মেধা ও দক্ষতার সঙ্গে অনেক চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়েছিলেন তিনি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব নিয়েই সারাদেশে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবস্থা এবং নতুন করে যাচাই-বাছাই ছাড়া লাইসেন্স না দেয়ার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, সেখানে মন্ত্রণালয় রদবদলের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এই চ্যালেঞ্জ মোবাবিলা করতে গিয়ে তারানাকে অনেকের চুক্ষুশূল হতে হয়েছিল।

সেই অদৃশ্য শক্তির রক্তচুক্ষুকে পাত্তা না দিয়ে আরো অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল হয়েছিলেন তারানা। তার সফলতার মধ্যে রয়েছে- মোবাইল ফোনের বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন নিবন্ধন। ডট বাংলা ডোমেইন বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ করিয়েছেন। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশ যুক্ত করা হয়েছে। এটাও তারানা হালিমের একটা বড় কাজ। এর জন্য কুয়াকাটায় ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে বিভিন্ন অপারেটরদের কোয়ালিটি অব সার্ভিস। অনেক সময় ওইসব অপারেটরদের দিয়ে কার্যকর কাজ করানো সম্ভব হয়নি। বড় অর্জন হলো কল ড্রপ ফেরত। এতে দৈনিক একটি কলও ড্রপ হলে তা ফেরত দিচ্ছে অপারেটররা।

তারানা হালিমের সাহসী ভূমিকার কারণেই দেশের বড় ৩টি মোবাইল অপারেটদের মধ্যে গ্রামীন ফোন ৭ কোটি ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ৯৩ কল মিনিট, রবি ৫ কোটি ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৯২ কল মিনিট এবং বাংলালিংক ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ কল মিনিট ফেরত দিয়েছে। এই কাজটা অপারেটরদের দিয়ে করানো অনেক কঠিন কাজ ছিলো। তবে তারানা হালিমের মন্ত্রণালয় এই কাজটিতে সফল হয়েছিল।

অপরদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দুই বছর আগে চুক্তি হয়েছিলো। সেটাকে কোম্পানি গঠন করে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গ্রাউন্ড স্টেশন বেতবুনিয়া ও গাজীপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সম্প্রতি ফ্লোরিডায় ঘুর্নিঝড়ের কারণে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সময় কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লোরিডার স্যাটেলাইট লঞ্চিং প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সকল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের সময় রিস্ক্যাজুলিং হয়েছে। স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হয়েছে। সেটা এখন গ্রাউন্ড স্টেশনেও চলে গেছে।

এছাড়াও টেলিটকের রি-ব্র্যান্ডিং লোগো পরিবর্তন, রিটেইলারের সংখ্যা বৃদ্ধি, কাস্টমার কেয়ারের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে একটি প্রকল্প জুনের মধ্যে শেষ হবার কথা দিয়েছিলেন তারানা। ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে হয়েছে। যার ফলে ১৭০০ টি টুজি বিটিএস ও ১৫০০ টি থ্রিজি নোড বি সংযুক্ত হবে। তাতে নেটওয়ার্ক অনেকটাই ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তারানা।

তারানা হালিম ডাক বিভাগ থেকে ই-কমার্স সেবা চালু করেছি, এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেছিলেন। এবং এখন মাত্র ২ টাকা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার সফটওয়্যার চালু করেছিলেন।

তারানা হালিমের সামনে আগামীর চ্যালেঞ্জ ছিল ফোর-জি ব্যবস্থা। অপারেটররা যেন সাধারণ মানুষকে ফোর-জি’র মানটা যথাযথভাবে পেতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করার কারণে অনেক কাজ তারানা হালিমকে অসমাপ্ত রেখেই তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসাবে কাজ শুরু করতে হয়েছে। তার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে নতুন করে রুম সাজানো হচ্ছে।