• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

‘জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্র ছিল কারফিউ গণতন্ত্র’

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:১৯ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেকেই বলে থাকে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্র ছিল কারফিউ গণতন্ত্র। কারণ প্রতি রাতে কারফিউ হতো।

ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার গণভবনে দেখা করতে যান ছাত্রলীগের নেতারা। তখন এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, তার (জিয়াউর রহমান) বহুদলীয় গণতন্ত্রের মানে হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী, যাদের বিচার জাতির পিতা করেছিলেন, সাজাপ্রাপ্ত ছিল, কারাগারে বন্দি ছিল তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া। তাদের ভোটের অধিকার দেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ এবং তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখ করে দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি তুলে ধরেন।

তাছাড়া পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে নির্মিত হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, আজ বর্ণাঢ্য আয়োজনে ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে ছাত্রলীগ।

উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।

বাঙালির স্বাধিকার অর্জনের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি এ সংগঠনটির জন্ম হয়।

এ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রাখা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে তাঁরা ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন।

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের অধীন বিভিন্ন থানা শাখা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

সকাল আটটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর এই কেককাটা অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার বাইরে সাংগঠনিক সকল শাখায় আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ৬টায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল সাংগঠনিক কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী শনিবার সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীতে ছাত্রলীগের আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

apps