• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

‘নেত্রী আমাকে এমপি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন’

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:২৪ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নবনিযুক্ত ডাক, টেলিযোগযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে টেবিলের ঠিক উল্টো পাশে বসিয়ে দিয়েছেন। এখন দাবি আদায়ের চেয়ে তা বাস্তবায়ন করাই হবে আমার কাজ। বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এতদিন ইন্ডাস্ট্রি ও জনগণের পক্ষে দাবি-দাওয়া আদায়ে আমি কাজ করেছি। ফলে সুরটা ছিল দাবি আদায়ের। প্রধানমন্ত্রী এখন টেবিলের উল্টো পাশে বসিয়ে দিয়েছেন। এখন কারো কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করার চাইতে মানুষের দাবির বাস্তবায়ন করাই হবে আমার কাজ।

তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টবাদী মানুষ। অন্যের সমালোচনা করি এবং নিজেও সমালোচনা সহ্য করতে পারি। গণমাধ্যমের প্রতি আমার অনুরোধ, কোনো ত্রুটি দেখলে অবশ্যই আপনারা সংশোধন করে দেবেন।’ ৪ জানুয়ারিকে বিশেষ দিন উল্লেখ করে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘দিনটি আমার কাছে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। এদিন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম হয়েছে। আমি নিজে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে ছাত্রজীবন কাটিয়েছি। ফলে সংগঠনটির গৌরবের সামান্য একটু অংশের হলেও দাবিদার আমি।

দ্বিতীয়ত, ১৯৯৮ সালের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের সফটওয়্যার এবং সেবাখাত কম্পিউটারের ওপর থেকে শুল্ক এবং কর প্রত্যাহার হয়। আমি তখন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি ছিলাম।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ৩০ বছর আগে কম্পিউটার শেখানোর জন্য শিক্ষক পাওয়া যায়নি। এখন দেশের এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে কোনোভাবে ছেলে-মেয়েরা তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত নয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালেও খুব সামান্য পরিমাণ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতাম। খুবই স্বল্পসংখ্যক মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মোবাইল ব্যবহারকারীও ছিল কম। এখন যতদূর জানি, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৪ কোটি ১৩ লাখ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এত কম সময়ে পৃথিবীর কোনো দেশে এমনটি হয়নি। এখন প্রতিদিন মোবাইলের মাধ্যমে প্রায় হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আজ মন্ত্রণালয়ে ছাত্র হিসেবে এসেছি। সবার কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও মেকানিজমগুলো সম্পর্কে জানব। এতদিন জানতাম বাইর থেকে, এখন সুযোগ হবে সরাসরি।’

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ের সফলতার ওপর নির্ভর করবে বাকি মন্ত্রণালয়গুলো কীভাবে জনগণের সেবা দিতে পারবে? তবে এতটুকু বলতে পারি, দেশকে ইন্টারনেট চলার মসৃণ মহাসড়ক তৈরিতে কাজ করব। বাংলাদেশ ডিজিটাল কখনই হবে না যদি না ইন্টারনেটের মহাসড়কটা মসৃণ হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৪৭ বছর যাবৎ পরিচিত। এতদিন আমি আওয়ামী লীগের পেছনে থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি। দলটির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড, দলীয় কর্মকাণ্ডসহ মিডিয়ার সঙ্গে নেপথ্যে থেকে কাজ করেছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একবার আমাকে এমপি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম, না আমার একজন সংসদ সদস্য হওয়ার চাইতে আপনার একজন প্রধানমন্ত্রী হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি এজন্য কাজ করতে চাই। এখন দায়িত্ব পাওয়ার পর চ্যালেঞ্জটা আরো বেড়ে গেল।’

তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ হচ্ছে আমার দুটি পা, দুটি হাত অথবা দুটি চোখ। একে অপরের পরিপূরক। এক বিভাগের পক্ষ থেকে অপর বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দুটি বিভাগ পরিচালিত হবে। আমাদের যে ক’টি প্রতিষ্ঠান যেভাবে আছে, সেখানে দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের টেলিকম বিভাগের মধ্যে বেশকিছু সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো খুব জটিল আকারের এবং তা সমাধান করাও খুবই চ্যালেঞ্জিং। তার মধ্যে একটি হলো বেশ কয়টি সংস্থা আছে, সে সংস্থাগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।’