• রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

ছাত্রলীগ নেতাদের হানিফ

তোমরা পেছন থেকে স্লোগান দিচ্ছ কী উদ্দেশ্যে?

প্রকাশ:  ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০৪ | আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:১৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় কর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় বেশ কয়েকবার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে বিরক্তি প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্যের সময়ও চলছিল স্লোগান। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, এই ছেলেরা, তোমরা পেছন থেকে স্লোগান দিচ্ছ কী উদ্দেশ্যে? আমি যা বলছি তা শুনবে, নাকি তোমাদের স্লোগান শোনার জন্য এখানে এসেছি? স্লোগানের রাজনীতিতে কোনো অর্জন হবে না।

৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতারা তাঁদের বক্তব্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। গত বছর চট্টগ্রামে দুজন ছাত্রলীগ নেতা খুন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, একটি খুনেরও বিচার হয়নি। সরকার খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলেও খুনিরা ধরা না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি খোরশেদ আলম, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

সভায় অতিথিরা বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক মঞ্চ থেকে নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।

সভায় মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ন্যূনতম শৃঙ্খলাবোধ থাকা প্রয়োজন। ছাত্রত্ব এবং জ্ঞানার্জনের চেষ্টা যদি না থাকে, শৃঙ্খলাবোধ না থাকে, তাহলে ছাত্রলীগ টিকবে না। জীবনযাপনে শৃঙ্খলা ও পরিমিতিবোধ আনতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু ফেসবুক চালাতে পারলেই তথ্যপ্রযুক্তিতে কেউ দক্ষ হয় না।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ বলেন, সুদীপ্তের খুনিদের (গত বছরের ৬ অক্টোবর) গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু আজও খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। কার ক্ষমতাবলে খুনিরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না? তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, দলের ভেতরে জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ঘাপটি মেরে থাকা সেই হায়েনা কারা? ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শঙ্কিত। এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক দিয়াজ খুন (২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর) হন। এই খুনেরও বিচার হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদেরকে কারা সরাতে চায়? প্রশ্ন জাগে, ছাত্রলীগকে কারা হত্যার পাঁয়তারা করছে?’

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম বলেন, ‘আজ কেন আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে? হত্যাকারী কারা? আমরা তাদের গ্রেপ্তার দেখতে চাই।’