• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

পিয়াজ হতে সাবধান!

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৪১ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাইল ছবি
প্রিন্ট
বাজারে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার ফল সরকারের জন্য খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পিয়াজ হতে সাবধান! পিয়াজ অনেক বেশি তেজস্ক্রিয়! চার-পাঁচ বছর আগে পিয়াজের কারণে দিল্লিতে সরকার পরিবর্তন হয়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে ‘মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) নতুন ভিত্তি ও সংশোধন : প্রসঙ্গ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ ধরনের সতর্ক বার্তা দেন পরিকল্পনামন্ত্রী। 

বর্তমানে পিয়াজের দাম কমে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও গত মাসে হঠাৎ পণ্যটির দাম বেড়ে কেজিতে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় ওঠে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ভারতে বন্যার কারণে উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় পিয়াজের দাম বেড়েছে। সেই বক্তব্য সমর্থন করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, পিয়াজ লাগানোর জন্য মাটিই তো পাওয়া যায়নি। সব মাটি পানির নিচে ছিল। মন্ত্রী বলেন, ‘চাল ও পিয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়, তা আমি মনে করি না। দারিদ্র্য নিরূপণের জন্য আরও অনেক প্যারামিটার রয়েছে।’

 সম্প্রতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলের (সানেম) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চালের দাম বাড়ার কারণে নতুন করে প্রায় পাঁচ লাখ লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। ২০১৮ সালে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানো গেলে ২০১৯ সালের মধ্যেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। দক্ষতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। রোবটিকস ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াতে হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ও অধ্যাপক এস আর ওসমানি। বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন প্রমুখ। সেমিনার পরিচালনা করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম। সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম। মূল প্রবন্ধে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি সারপ্রাইজ রয়েছে। 

এগুলো হলো— জিডিপি প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে বাড়ছে, মাথাপিছু আয়ের তুলনায় মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কম। এ ছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কম হলেও অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো হচ্ছে। মির্জ্জা আজিজ বলেন, জনসংখ্যার বোনাস শুধু নম্বর দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না, মান নিয়েও ভাবতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন এখনো অনেক বাকি রয়েছে, এজন্য ভাবতে হবে। ড. মসিউর রহমান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) আরও বেশি তৎপর ও সময়োপযোগী করার ওপর জোর দেন। 

ড. ফরাস উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে। এটা ভালো। এ ছাড়া পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) গুরুত্ব দিয়েছে। এখন শিল্পায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে।