• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

‘শিক্ষকদের অনশন জাতির জন্য লজ্জার’

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

দাবি আদায়ে আমরণ অনশনে বসে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ দৃশ্য দেখা শুধু আমার নয়, জাতির জন্যও লজ্জার। এখন দেখার সরকার আদৌ লজ্জা পায় কিনা বলে মন্তব্য বিকল্পধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে তিনি একথা বলেন।

বি. চৌধুরী বলেন, আজ শিক্ষকদের থাকার কথা ছিল ক্লাস রুমে। অথচ তারা বেতনের জন্য আজ রাস্তায় দিন পার করছেন। এটা জাতির জন্য দুঃখ ও হতাশার।

তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, তাহলে সেটার ব্যর্থতার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ইতোপূর্বে আমার দল ও জোট যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করা হয়েছিল। আমি আজকে আবারো আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করছি। অবিলম্বে সরকারকে শিক্ষকদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিকল্পধারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসে শিক্ষকদের আমরণ অনশনে সংহতি প্রকাশ করছেন। শুক্রবার সংহতি প্রকাশ করেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এস এম আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তাফা প্রমুখ।

আন্দোলন বিষয়ে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, গত ৩১ তারিখ থেকে অনশনের কারণে সবাই অসুস্থ হয়ে গেছে। এছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে রাতে থাকতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। রাতে এখানে প্রায় ৫০০ শিক্ষক থাকেন।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে জেঁকে বসা শীতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে সত্য। কিন্তু, শারীরিক এই কষ্টের চেয়ে আমরা দীর্ঘদিন মানসিক কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছি। কষ্ট হলেও আমাদের সামাজিক-পারিবারিক মর্যাদা ফিরিয়ে নিতে চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন প্রত্যাহার আমরা করব না।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন করছেন তারা।

apps