• মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

ঢাকা ২

কামরুল নয় শাহীন কে নিয়ে উৎসব তৃণমূলে

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩০ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার এলেই যেন নতুন উদ্যমে জেগে ওঠেন ঢাকা ২ আসনের আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এখানকার তরুণ নেতা আগামী নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী শাহীন আহমেদকে ঘিরে তৈরি হয় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ। অন্যদিকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঢাকা ২ আসনের এমপি এবং পরবর্তী মন্ত্রী এলাকার কিছুটা হলেও তৃণমূলের সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ রাখেননি । 

 শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে একেক মসজিদে যান কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ। নামাজ আদায়ের পর তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে চা খান এবং সাংগঠনিক হালচাল সম্পর্কের তালাশ করেন। বিশেষ করে অসহায় মানুষের খোঁজ পেলে তাৎক্ষণিক সাহায্যেরও ব্যবস্থাও করেন তিনি।

এ সময় শাহীনকে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নেতার সঙ্গে আলাপ করেন। ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও কথা বলেন এই তরুণ নেতার সঙ্গে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার বছর শেষ হয়ে আজ শুক্রবার পঞ্চম বছরে পা রাখল। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল  নির্বাচনী বছর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে জোর কার্যক্রমের পথে প্রায় সব রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ সেদিক থেকে অনেক ধাপ এগিয়ে।

দলটির কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ঢাকা ২ আসনের এমপি এবং পরবর্তী মন্ত্রী এলাকার কিছুটা হলেও সাধারণ নেতাকর্মীদের সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ রাখেননি। আর বিশেষ করে চালের বাজার অস্থিতিশীলতার জন্য খাদ্যমন্ত্রীকেই ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপদ আপদেও নিজ দলের নেতাকর্মীরা তাকে পাশে পাননি বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ এবং সাভারের তিন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। সবকিছু মিলিয়ে সরকারের গুডবুকে নেই কামরুল ইসলাম। এবার হয়তো তরুণ নেতাকেই এমপি হিসেবে বেছে নিতে পারেন আওয়ামী লীগ।

সাভার ও কেরানীগঞ্জের কিছু অংশ এবং রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানাধীন তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা ২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে কে পাচ্ছেন নৌকার টিকিট তা এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রধানমন্ত্রীর সু-নজরে রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। প্রচার-প্রচারণায় বেশ জোরেশোরেই এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ আর সাভারের তিনটি ইউনিয়নের তৃণমূলে শাহীনের পক্ষে ব্যাপক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 সম্প্রতি কামরাঙ্গীর চরের তিনটি ওয়ার্ডেও তাঁর জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রকাশ্যে যোগাযোগের পাশপাশি গোপনেও যোগাযোগ রাখছেন কামরাঙ্গীর চরের ওয়ার্ড এবং থানা কমিটির বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা। দুই দুইবার দেশের শ্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বীকৃতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরে আসেন তিনি।

এলাকায় সরেজমিনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা ২ আসনের মনোনয়ন দৌড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শাহীন আহমেদ। তরুণ এ আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে ইতিমধ্যে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা ২ আসনে তাকে প্রার্থী হিসেবে পেতে ব্যাকুল হয়ে উঠছেন কেরানীগঞ্জের নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে যোগ হয়েছেন ঢাকা ২ আসনের অংশ বিশেষ সাভারের ভাকুর্তা, তেতুল জোড়া, আমীন বাজার ও কামরাঙ্গীর চরের কর্মী সমর্থকরাও।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শাহীন আহমেদের বাসা এখন পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগের ক্লাব ঘরে। শুক্রবার ছাড়াও প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে চলে তার এ কুশল বিনিময়। শুক্রবার কিংবা অন্য কোনো বন্ধের দিন হলে দিনভরই থাকে লোক সমাগম।শুক্রবার তার বাসায় গেলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, সাধারণ জনগণের সঙ্গে মিশুক এমন একজন নেতাকেই তারা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।

শুক্রবার এলে বাড়ে গণসংযোগ। শাহীন আহমেদকে ঘিরে গড়ে ওঠে জটলা। তারা বলেন, জাতীয় সব আচার অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও তারা তাদের নির্বাচিত প্রিয় ব্যক্তিটিকে সব সময় কাছে পেতে চান। এ ধরনের সৌহার্দ্য সম্প্রীতিকে ধরে রেখেই তারা তাদের আগামীর ভবিষ্যৎ গড়তে ও এলাকার উন্নয়ন সমৃদ্ধি ঘটাতে চান।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে শাহীন আহমেদ বলেন, জনগণ সবসময় নেতাদের কাছে পেতে চায়। তাই আমিও সবসময় জনগণের খুব কাছে থেকেই তাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছি। আমি দিন-রাত তাদের সঙ্গেই আছি।' তিনি বলেন, 'কেরানীগঞ্জ ছাড়াও ঢাকা ২ আসনের অংশবিশেষ সাভারের ভাকুর্তা, তেতুলজোড়া, আমীন বাজার ও কামরাঙ্গীর চরেও আমার যথেষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। এখন এসব এলাকার নেতাকর্মীরাও আমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে।'