• শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

‘আ.লীগের মতো দলকে পুলিশ ও বন্দুকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে’

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বৈশ্বিক রাজনীতি পাল্টে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিএনপি যা বলছে তা সবাই না শোনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সঙ্গে গুমের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নয়, অন্য একটি শক্তি জড়িত বলেও মনে করেন তিনি।

বর্তমান সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলায় সাত লাখ ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে, ৭৪৪ জনের মতো খুন ও গুম হয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনক, এই কথা সবাই শুনছে না। কারণ হলো জিও পলিটিক্স পাল্টে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোকে হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জোট বাঁধা জেগে উঠা ছাড়া বিকল্প নেই মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষকে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়েই মুক্তি। গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।

গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারলেই মুক্তি মিলবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই অচলায়তনকে ভেঙে ফেলতে হবে। যেটা এই দেশে অনেকবার হয়েছে।

দশম সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিক শুক্রবার বিকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন ফখরুল। চার বছর আগে ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনটিকে বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে।

তবে গত চার বছরের মধ্যে একমাত্র ২০১৬ সালেই এই দিনে রাজধানীতে বিএনপি কর্মসূচি পালন করতে পেরেছিল। আর এবার অনুমতি না পাওয়ায় সমাবেশের পরিকল্পনা বাতিল করে দলটি।

বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দিলেও ঢাকায় আওয়ামী লীগকে দুটি এলাকায় সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। এ জন্য পুলিশের সমালোচনা করেন ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা নয়াপল্টনে কর্মসূচি করার কথা বললেও পুলিশ যানজটের কথা বলে অনুমতি দেয়নি। মজার বিষয় আওয়ামী লীগকে ঢাকায় দুই জায়গায় সমাবেশ করতে দিয়েছে। আমি আসার সময় দেখলাম গুলশান, বনানীর পুরো রাস্তায় যানজট। এটা জায়েজ।

সমাবেশের কর্মসূচি বাতিলের পর আইনজীবীদের এই কর্মসূচিই মূলত বিএনপির প্রধান অনুষ্ঠান ছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের তেমন উপস্থিতি ছিল না। মিলনায়তনের অনেক চেয়ার ফাঁকা দেখা গেছে শেষ অবধি। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে উপস্থিত আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা কালো পতাকা প্রদর্শন করেন।

বর্তমান সরকারের আমলকে পাকিস্তানি শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, পাকিস্তান আমলে আমরা কোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে, ছাত্র আন্দোলন করতে গেলে, ভাষা আন্দোলন করতে গেলে অনুমতি দেয়া হত না।

আলোচনায় আওয়ামী লীগের মতো দলকে এখন পুলিশ ও বন্দুকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে মন্তব্য করে এর জন্য হতাশার কথাও জানান ফখরুল। বলেন, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের জন্য কলঙ্কজনক দিন।

ইটস নট আওয়ামী লীগ

দেশে একেবারে সাধারণ মানুষও গুম হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা এর পেছনে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো শক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তার চিন্তার কথা জানান।

গুমের একটি উদাহরণ দিয়ে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ না, আওয়ামী লীগ না, ইটস নট আওয়ামী লীগ, গুম হচ্ছে, তবে এটা আওয়ামী লীগ না। এটাকে ডিম স্টেট বলা হয়, এটাকে সিকিউটি স্টেট বলা হয়।

গুমের ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকারও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, এ ব্যাপারে ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) একটা টুইট করেছিলেন। আমি সাংবাদিক ভাইদের বলব, তাদের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, এটা কি সত্য? সংখ্যাটি কি ঠিক? আমি বলেছিলাম, এটা না, গুম যে হচ্ছে সেটা প্রাধান্য পাচ্ছে না। সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ না। ভেবে দেখুন মানসিকতা কোন দিকে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ফখরুল তার এক পাইলট বন্ধুর ছেলে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। জানান, ওই ছেলেও বেসরকারি বিমানের পাইলট ছিলেন। ফ্লাইট ধরার জন্য বিমানবন্দরে ঢোকার আগেই সাদা পোশাকের কিছু মানুষ তাকে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা কেউ পরিচয় দেয়নি। এরপর ছেলের প্রভাবশালী বন্ধু এবং বিমান কর্তৃপক্ষ খোঁজ করতে শুরু করে। পরে ওই পাইলটকে প্রভাবশালী মনে করে রাজেন্দ্রপুরের বনের মধ্যে ফেলে যাওয়া হয়। বলে দেয়া হয়, এবার যাচ্ছ কিন্তু কোন কিছু নিয়ে কথা বললে এরপর আর ফিরে যাবে না।

দেশে এখন ফ্যাসিস্ট শাসনের মতো ভীতি ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে ভীতি, ত্রাস সমস্ত সমাজকে গিলে ফেলে। মানুষ কথা বলতেও সাহস পায় না। কোথাও গেলে কথা বলার আগে দেখে নেই আমাদের দলের কেউ আছে কি না।

ঈদের আগে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে স্ত্রীসহ হেনস্থার শিকার হওয়ার কথাও জানান বিএনপি মহাসচিব। জানান, বিমাবন্দরে কয়েকজন সুঠাম দেহের তরুণ তার ট্রলি এবং ফোন একটি কক্ষে নিয়ে স্ক্যানিং করে। এরপর তা ফিরিয়ে দেয়া হয়। আমরা যারা বিদেশে যাই তাদের সবার সঙ্গে এমনটা করা হয়। শেষ বেলায় পাসপোর্টসহ জিনিসপত্র দেয়া হয়। কখনো দেয়া হয় না। এই হলো অবস্থা। আমরা এমন গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করছি।

ভিন্ন পোশাকে সরকার আবার বাকশাল কায়েম করতে চায় দাবি করে ফখরুল ১৯৭৫ সালে এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের কারণ জানতে চান আওয়ামী লীগের কাছে।সেটার সঙ্গে কি জনগণের কোনো আশা আকাঙ্খার মিল ছিল? কোনো গণভোট করেছিলেন? মাত্র ১১মিনিটে সংসদে এটা পাস করেছিলেন।ওই সময় সংসদের যে ২২ জন সদস্য বাকশাল প্রস্তাবে ভোট না দিয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে আসেন কাদেরকে দেশপ্রেমিক আখ্যা দেন বিএনপি মহাসচিব।