• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

আওয়ামী লীগের পাশে নেই শরিকরা

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৫০ | আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবসে’ কোনও কর্মসূচি পালন করেনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। তবে ঘটা করে দিবসটি পালন করেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে উপস্থিতি ছিল না শরিক দলের নেতাদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যায়নি শরিক দলের নেতাকর্মীদের।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর থেকে প্রতিবছরই এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে আওয়ামী লীগ। বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে জোট শরিকদের। কিন্তু এবারই প্রথম দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বাইরে ১৪ দলীয় জোট থেকে কোনও কর্মসূচি পালিত হয়নি।

তবে বিষয়টিকে ১৪ দল ও আওয়ামী লীগের নেতারা বড় করে দেখছেন না। তারা বলেছেন, এটি বড় কোনও ঘটনা নয়। আওয়ামী লীগ পালন করলে ১৪ দলেরও পালন করা হয়ে যায়। সময় ও সুযোগ না হওয়ায় দিবসটি পালনের বিষয়ে জোটগতভাবে আলাপ-আলোচনা হয়নি বলে জানান নেতারা। এটিকে কেন্দ্র করে জোটের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, এমন করে ভাবার কোনও কারণ নেই বলেও মনে করেন তারা।

জানতে চাইলে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই সময়ের অভাবে আলাপ-আলোচনা হয়নি। এজন্য জোটগতভাবে কোনও কর্মসূচি ঘোষণা করা যায়নি।’ তিনি বলেন, ‘জাসদ (একাংশ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ কিছু নেতা দেশের বাইরে থাকায় এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ হয়নি।’ নাসিম বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা করে দিবসটি উপলক্ষে জোটের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।’

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুল রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে এ কর্মসূচি পালন করি। জোটের শরিকদের অনুপস্থিতি বড় করে দেখছি না। আমাদের জোট আছে, থাকবে।’ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘আমি মনে করি, আলাপ-আলোচনা না হওয়ায় জোটগতভাবে কর্মসূচি পালিত হয়নি। এখানে ভিন্ন কিছু খোঁজার কারণ নেই।’

জাসদের (একাংশ) সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘পূর্ব থেকে আলাপ-আলোচনা না হওয়ায় জোটগতভাবে দিবসটি উপলক্ষে কোনও কর্মসূচি পালন হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এখানে অন্যকোনও কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’ আম্বিয়া বলেন, ‘১৪ দলকে পাশ কাটিয়ে কিছু করার সময় এখন নয়।’

জাসদের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই দিবসটি পালন করি। আজকেও (৫ জানুয়ারি) অনেকগুলো কর্মসূচিতে আমার বক্তব্যে বলছি, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সংবিধান রক্ষার নির্বাচন।’

তবে তিনি বলেন, ‘কিছু দুর্বলতা থাকায় যৌথভাবে কিছু হয়নি। ১৪ দলীয় জোট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কিছু সিদ্ধান্ত হয়, আলাপ-আলোচনা হয়। এগুলোকে কার্যকর করতে হয়। কিন্তু অনেক বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি না।’

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘এ মুহূর্তে এমপিওভুক্তির জন্য বেসরকারি শিক্ষকরা আন্দোলন করছে। তাই এ সময়ে দিবসটি উপলক্ষে কোনও কর্মসূচি পালন জনগণের কাছে শোভনীয় হবে না বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। অন্যান্য বছর আমরা দিবসটি পালন করেছি। দিনটিকে গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হিসেবেই আমরা মনে করি। এবারই আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে কর্মসূচি পালন করেছে এবং আমাদের ডাকা হয়নি।’