• সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
  • ||

এ মাসেই কম্পিউটার কারখানার উদ্বোধন

সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ওয়ালটন

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:০৮
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নতুন বছরে দেশিয় প্রযুক্তিপণ্যের জগতে উন্মোচন হতে যাচ্ছে এক নতুন দিগন্ত। মোবাইল ফোনের পর এবার ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মনিটরের মতো উচ্চ প্রযুক্তিপণ্যে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ যুক্ত হতে যাচ্ছে। এ মাসেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ওয়ালটনের কম্পিউটার কারখানা।

গাজীপুরের চন্দ্রায় আগামী ১৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ওয়ালটনের কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকবেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি ও বিজয় বাংলা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ।

ওয়ালটন সূত্র জানায়, কম্পিউটার কারখানার উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। এরই মধ্যে ট্রায়াল প্রোডাকশন চলছে। গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে সুবিশাল এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে এই কারখানা। এখানে রয়েছে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব। স্থাপন করা হয়েছে বিশ্বের লেটেস্ট জাপানি ও জার্মান প্রযুক্তির মেশিনারিজ।

এরই মধ্যে এসএমটি (সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি) সিস্টেমের মাধ্যমে পিসিবি (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) এর ওপর অতি নিঁখুতভাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগতমানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরি শুরু হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ। ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানায় কর্মসংস্থান হবে এক হাজার লোকের।

প্রাথমিকভাবে, এই কারখানায় মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ এবং আরো ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর। পর্যায়ক্রমে কম্পিউটারের অন্যান্য অ্যাকসেসরিজসহ পেন ড্রাইভ, কিবোর্ড এবং মাউস উৎপাদনে যাবে ওয়ালটন।

ওয়ালটনের এই কারখানায় তৈরি হবে ইন্টেলের সর্বশেষ প্রজন্মের প্রসেসরযুক্ত ল্যাপটপ। উৎপাদন হবে সাশ্রয়ী মূল‌্যের বিভিন্ন মডেলের ওয়ালটন ডেস্কটপ এবং মনিটর।

ওয়ালটন কম্পিউটারের প্রজেক্ট ইনচার্জ মো. লিয়াকত আলী জানান, দেশে প্রযুক্তি পণ্যের গ্রাহক দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহক চাহিদা মেটাতে অনেকেই শুধু আমদানির ওপর নির্ভর করছে। ওয়ালটন শুরু থেকেই দেশিয় উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এবার দেশেই তৈরি হতে যাচ্ছে ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ ও মনিটরের মতো প্রযুক্তিপণ্য। যার ফলে সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে তৈরি উচ্চমানসম্পন্ন এসব পণ্য পাবেন ক্রেতারা।

ওয়ালটনের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর উদয় হাকিম বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের অভ্যন্তরীণ মানবসম্পদের উন্নয়নে একের পর এক স্বাপ্নিক উদ্যোগ নিচ্ছে ওয়ালটন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ওয়ালটন চালু করেছে দেশের প্রথম মোবাইল ফোন উৎপাদন কারখানা। এবার চালু হচ্ছে কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। পর্যায়ক্রমে আরো আইসিটি এবং আইওটি পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের।

উদয় হাকিম আরো বলেন, দেশিয় কম্পিউটার কারখানা গড়ে ওঠায় এ খাতের আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে। রপ্তানি থেকেও বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যাপকভাবে বিকশিত হবে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের মতো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রিজ। সর্বোপরি, ওয়ালটনের এই কারখানা হবে হাই-টেক শিল্পের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কম্পিউটার কারখানার উদ্বোধনের ফলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে দেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। সবার হাতে সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ তুলে দেয়া সম্ভব হবে। প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় জাতি দক্ষ হয়ে উঠবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ও বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রেজেন্টেশন তৈরি সহজ হবে। বেকার তরুণ-তরুণীরা প্রোগামিং, ওয়েব ডিজাইন, আউটসোর্সিংসহ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আয়ের পথ খুঁজে নিতে পারবেন।

/নাঈম

apps