• মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

একদফার আন্দোলনে যাবে বিএনপি: সোহেল

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৪২ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:১০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

আগামীতে আলোচনার পথ খোলা না-ও থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, সরকার গণমানুষের দাবিকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার পথে হাঁটছে। অন্যদিকে বিএনপি আলোচনার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ এখনো সরকারের সামনে আছে। এ পথটি আগামীতে আর খোলা না-ও থাকতে পারে। আমরা এবার বদ্ধপরিকর। আমরা একদফার আন্দোলনে যাব। তখন সকলেই একটি অপ্রত্যাশিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে।

সোহেল বলেন, আমাদের বিশ্বাস গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত একটি জায়গায় আসবে। পেশাজীবী সংগঠনগুলোও আমাদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নের স্টেক হোল্ডারদেরও অবহিত করছি। সরকারের কোনো অপকৌশল ও ষড়যন্ত্র এবার মৃত গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার লড়াইকে থামাতে পারবে না। প্রশাসন যন্ত্রের গানপয়েন্টে দাঁড়িয়ে জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের লড়াইকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাব।

সংগঠন গোছাতে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি তুলে ধরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আমাদের থানায় থানায় গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও থানা-ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করা উচিত ছিল। কিন্তু থানা-ওয়ার্ড পর্যায়েও কোন সভা আয়োজনে বাধা দিচ্ছে প্রশাসন। নেতাকর্মীদের উপর জুলুম-নিপীড়ন তো চলছেই। ফলে সাংগঠনিক উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে বিরোধী দলে গেলেও একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেই উপলব্ধি করতে পারবে তারা রাজনীতির কতখানি ক্ষতি করেছে।

আগামী দিনের আন্দোলনে মহানগর বিএনপি ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙতে চায় জানিয়ে সোহেল বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় মোকাবিলা করার কারণে আমাদের কর্মীরা কিছুটা অস্বস্তিবোধ করেছিল। ফলে নিকট অতীতের আন্দোলনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, সাহসী ও যে কোনো আন্দোলনকে সফল করতে প্রস্তুত।

আন্দোলন বিএনপি তরুণদের কাছে কতটুকু সাড়া ফেলতে পারছে- জানতে চাইলে সোহেল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে তরুণরাই বাংলাদেশকে আবার একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে পারে। ধীরে ধীরে হলেও তরুণরা জাগতে শুরু করেছে। আমাদের সাম্প্রতিক কর্মসূচিগুলোতে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলমান লড়াইয়ে আমি দেশের তাবৎ তরুণ সমাজকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।

দলের নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সোহেল বলেন, সারা দেশের নেতাকর্মীরা একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ- যত প্রতিকূল পরিস্থিতিই আসুক খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের নেতৃত্বে ও নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা দলকে এগিয়ে নেবেন। তাদের ছাড়া বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। সরকার খালেদা জিয়াকে ভোটের মাঠ থেকে সরানোর যে পথে হাঁটছে সেটা আত্মহননের পথ। সে রকম কিছু ঘটলে আন্দোলনের যে অগ্নিশিখা ছড়িয়ে যাবে তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগ।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপিকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের ইতিহাস নতুন নয়। এখনো সে ষড়যন্ত্র হতে পারে। দলের মধ্যে কেউ তেমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে, তিনি আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।

সূত্র: মানবজমিন

/নাঈম