• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

মোবাইল আসক্তিতে ঝুঁকছে গ্রামীণ শিশুরাও

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:১৪ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:১৬
মোহাম্মদ সাকিব চৌধুরী
প্রিন্ট

শীতের সকালে ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথেই স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে টেবিলে রাখা বাবার মোবাইলটি বিছানায় নিয়ে এসে গেমস খেলতে ব্যস্ত হয়ে পরে ৫ বছরের তুবা মনি। নীলফামারী সদর উপজেলার খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের রামকলা গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম এমন কথা জানিয়েছেন।

গত ৩ জানুয়ারি ওই গ্রামের মায়েদের কাছে গ্রামীণ শিশুদের মোবাইলের প্রতি আগ্রহ কেমন এটা জানতে চাওয়া হলেই মরিয়ম বেগম বিরক্তিভরা কন্ঠে পূর্বপশ্চিশবিডিডটনিউজকে বলেন, আমার ছোট মেয়ে এখন মোবাইল ছাড়া কিছুই বোঝে না, মোবাইলে গেমস খেলতে বসলে তার আর খাওয়া দাওয়ার কথা মনে থাকে না, গেমস শেষ না হওয়া পযর্ন্ত খেতেও বসে না। সময়বয়সীদের সাথে না খেলে সে মোবাইলে খেলে, একে নিয়ে আর পারছি না।

এই বয়সে খেলাধুলার পরিবর্তে মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের গেমস ও ভিডিও অডিও গান শুনতে তুবা মনির মতোই অনেক শিশুই বর্তমানে মোবাইলের প্রতি আসক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে দেশের উত্তরঅঞ্চলের কয়েকটি জেলার বেশ কয়েকজন অভিবাবকের সাথে কথা বলে।

শহরে বাবা-মায়ের ব্যস্ততা কিংবা খেলাধুলার জায়গার সংকটের কারনে এক প্রকার বাধ্য হয়েই অভিবাবকরা শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে স্মাট ফোন কিংবা ট্যাব। চার দেয়ালর মাঝে পড়াশুনার পাশাপাশি গেমস খেলে কিংবা কার্টুন দেখে সময় পার করছে শহরের শিশুরা। এই চিত্রটি শহরের শিশুদের ক্ষেত্রে হওয়াটা কিছুটা স্বাভাবিক।

কিন্তু গ্রামের শিশুরা পরিবারের সাথে সারা দিন থাকার পরেও এবং প্রচুর খেলাধুলা করার জায়গা থাকা সত্বেও কেন তারা মোবাইলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে এটার কারন খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, গ্রামীণ পর্যায়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় জন্যেই জন্মের পরেই মোবাইল ফোনের সাথে পরিচিত হয়ে পরছে গ্রামীণ শিশুরা। অনেকটা সহজলভ্য হওয়ায় ছোট বেলা থেকেই শিশুদের কান্না থামাতে ও তাদের মন জয় করতে মোবাইলের রিংটন বাজিয়ে কিংবা স্মাট ফোনের বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে শিশুদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্ঠা করে গ্রামীণ অভিবাবকরা। আবার অনেকেই শিশুর খেলনা হিসাবে এখন মোবাইলকে তুলে দিচ্ছে শিশুদের হাতে।

একটু বুঝতে শিখতেই পরিবারের পুরুষ সদস্যদের মাধ্যামে বাজারের মেমোরি লোডের দোকান থেকে মেমোরিতে গান,গেমস, কার্টুনসহ ভারতীয় চ্যানেলের প্রচারিত সিরিয়ার মেমোরিতে আপলোড করে এনে বাসায় দেখছে এসব শিশুরা।

অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকার অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে । ইন্টারনেটের ইউটিউবে শিশুরা শিশুতোষসহ বিভিন্ন ভিডিও দেখতে দেখতে অনেক সময় অশ্লীল ভিডিও এর মধ্যে ঢুকে পড়ছে। এভাবেই পর্ণোগ্রাফির সাথে শিশুরা পরিচিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

মোবাইলের প্রতি আসক্তির কারনে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি শিশুদের নিয়ে অভিবাবকদের পরতে হচ্ছে নানান ধরনের বিব্রতকর অবস্থায়। আসক্ত শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সাথে আড্ডা দেওয়া, সময়ের সাথে এগিয়ে যাওয়া, মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ও সবার সাথে মিশতে পারার দক্ষতা দিনদিন হারিয়ে ফেলছে ।

আরমান হোসেন নামে এক তৃতীয় শ্রেনীতে পড়–য়া শিশুর সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তাকে গেমস খেলতে ভাল লাগে বলে আর কিছুই বলতে পারেন নি।

মোবাইল ফোনের বিভিন্ন ভিডিও অডিও গান দেখে শুনে এবং গেমসে দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হওয়ায় শিশুদের মধ্যে ফেলছে বিরূপ প্রভাব।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছে, র্দীঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারনে শিশুরা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে । এছাড়া এসব শিশু দিন দিন হয়ে উঠছে অসামাজিক। শিশুদের কাছ থেকে মোবাইল দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে শিশু বিশেষজ্ঞরা।

প্রয়োজনীয় বস্তু হিসাবে মোবাইল এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান। মোবাইল ব্যবহার করে আমাদের দৈনন্দিনের অনেক কাজ এখন সহজ হয়ে গেছে । তাই বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও এটি ব্যবহার করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু এটা যাতে করে কোনো শিশুর আসক্তির কারন হয়ে না দাড়ায় সেদিকে এখনি আমাদের নজর দিতে হবে।

/মজুমদার

apps