• সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ৯ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

কেন এমন করেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৬ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:২০
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট

এই হিজাব পরা বন্ধুটির জন্য কয়টি লাইক?' কিংবা কুরআনের কোনো একটি আয়াত শেয়ার করে এমন লেখা, এই পোস্টটি শেয়ার করলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আপনি একটি ভালো সংবাদ পাবেন আর যে এটি শেয়ার করবেন না, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার একজন নিকটাত্মীয় মারা যাবেন। ফেসবুক ব্যবহার করেন কিন্তু এ ধরনের পোস্ট চোখে পড়েনি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু ফেসবুক ব্যবহারকারীরা কেন এমন করেন? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে, কেউ মানসিক সমস্যার কারণে, কেউবা 'বাধ্য হয়ে' আবার কেউ শুধুমাত্র মজা করার জন্যই এ কাজটি করে থাকেন। 

 ফেসবুক ঘেঁটে দেখা যায়, ধর্ম নিয়ে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের দেয়া পোস্টগুলো অনেকটা এরকম, কাবা ঘর, মুসলিম হলে শেয়ার করুন, রুটিতে আল্লাহ, সিজদাহ দেয়া গাছ কিংবা মেঘে লেখা আল্লাহ। এগুলো শেয়ার করে লেখা হয়, আপনি যদি মুসলমান হন তবে অবশ্যই শেয়ার করে আপনার মুসলিম ভাইটিকে দেখার সুযোগ করে দিন। এছাড়া মাঝে মাঝে কিছু সেলিব্রেটিদের ধর্মান্তরিত হওয়ার মিথ্যা গুজব প্রকাশ করে শেয়ারের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া হিজাব পরা কোনো কিশোরী কিংবা নারীর ছবি শেয়ার করে লেখা হয়, এই হিজাব পরা বন্ধুটির জন্য কয়টি লাইক? লাইক দিয়ে বন্ধুটিকে উৎসাহিত করুন।

তবে শুধুমাত্র ধর্ম নিয়ে নয়, খাবার থেকে শুরু করে খেলা নিয়েও দেয়া হয় এমন পোস্ট। খাবার সম্পর্কিত পোস্টগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোনো একটি খাবারের ছবি শেয়ার করে লেখা হয়, যারা খাবারটি খেতে চান তারা শেয়ার করুন আর যারা খেতে চান না তারা কমেন্ট করে জানান। অন্যদিকে খেলা নিয়ে দেয়া পোস্টগুলো হলো, বাংলাদেশে কিংবা ভারতের দুটি ছবি গ্রাফিক্স করে শেয়ার করে লেখা হয়, বাংলাদেশের জন্য একটি লাইক এবং ভারতের জন্য একটি কমেন্ট। আপনার প্রত্যেকটি লাইক খেলোয়াড়দের মধ্যে উৎসাহের জোগান দিবে।

এমনও দেখা যায়, একসঙ্গে একটি বিকিনি এবং বোরখার ছবি শেয়ার করে লেখা হয়, বিকিনি=লাইক এবং বোরখা= কমেন্টে।

এ ধরনের আরও কিছু বিষয় নিয়ে প্রায়ই ফেসবুকে হই-হুল্লোড় দেখা যায়। তবে এগুলো যারা করেন তাদের মধ্যে থাকে নানা উদ্দেশ্য। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যারা এসব কাজ করেন তাদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে তথ্য প্রযুক্তিবিদ সালাহউদ্দিন সেলিম বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কেউ একটি ফেসবুক পেজে তার পণ্যের প্রসার ঘটাতে চান। কিন্তু প্রথম থেকেই ফেসবুকে পণ্যের প্রচারণা চালাতে গেলে সেটা সর্বোচ্চ তিন শতাংশ ব্যবহারকারীর নিকট পৌঁছায়। কিন্তু ফেসবুক পেজে যদি ফলোয়ার বেশি থাকেন তবে সেই কাজটা অনেক সহজ হয়। তাই অনেকে প্রথমে ফেসবুকে এ ধরনের পোস্ট দিয়ে ফেসবুক পেজটিতে ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ান এবং পরবর্তীতে সেখানে তার পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন।

অনেক ক্ষেত্রে এসব ফেসবুক পেজ মোটা অংকের টাকায় বিক্রিও হয় বলে জানিয়ে সালাহউদ্দিন সেলিম বলেন, ফেসবুক পেজের প্রতিটি লাইকের দাম সাধারণ ৯০ পয়সা করে ধরা হয়। সেহেতু একটি পেজে যত বেশি সংখ্যক লাইক থাকবে অর্থাৎ পেজটি যতটা জনপ্রিয় হবে তার ওপর ভিত্তি করে পেজটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

এতো গেল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের কথা। আরেকদল ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছেন যারা সাধারণত মানসিক বিকারগ্রস্ত। এদের সম্পর্কে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু অ্যাটেনশন সিকার মানুষ রয়েছেন যারা মানসিক বিকারগ্রস্ততার জন্য এসব করে থাকেন।

এ ধরনের রোগীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা জানান, কোনো শিশু যদি বেড়ে ওঠার সময়ে তার পরিবারের যথেষ্ট মনোযোগ না পান কিংবা অবহেলিত বোধ করেন তবে সেই শিশু পরবর্তীতে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টায় অনেক কিছুই করতে পারেন। এছাড়া যে বাবা-মায়েরা অতিরিক্ত ঝগড়া করেন কিংবা যে পরিবারে অতিরিক্ত কলহ থাকে তাদের সন্তানরাও এমনটা হতে পারেন। আর কিছু মানুষ শুধুমাত্র ঈর্ষান্বিত হয়েও এমন কাজে জড়াতে পারেন।

শুধুমাত্র মানসিক সমস্যা কিংবা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই নয় অনেকে 'বাধ্য' হয়েও এমন লেখা শেয়ার করেন। যেমন ফেসবুক ব্যবহারকারীর কোনো বন্ধু তাকে এমন মেসেজে করতে পারেন, আল্লাহ’র কসম, এই সূরাটি আমি ২০ জনকে মেসেজ করে ইসলামের বার্তা পৌঁছে দিব। তিনি যেহেতু বাধ্য হয়েই কসম করেছেন তাই পরবর্তীতে তিনি ২০ জনকে মেসেজটি পাঠান। এছাড়া অনেকে ক্ষেত্রে এই কাজটি না করলে আপনার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে কিংবা নিজেকে মুসলমান হিসেবে প্রমাণ করতে কাজটি করতেই হবে, এ ধরণের লেখা দেখেও অনেকে এমন কাজ করে থাকেন।

এদের বিষয়ে মাওলানা মিরাজ রহমান বলেন, প্রত্যেক মুসলমানেরই ইসলাম প্রচারের দায়িত্ব রয়েছে। তবে কোনো ধরনের মিথ্যাচার করে কিংবা কাউকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে ইসলাম প্রচার করা যাবে না। কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে থাকেন তবে তাকে পরকালে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

অন্যদিকে ফেসবুকে যারা এ ধরনের কাজ করে থাকেন তাদের বেশিরভাগেরই মূল উদ্দেশ্য ইসলাম প্রচার নয় বরং নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, অনেকেই নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম নিয়ে মিথ্যাচার করে থাকেন। সকলের উচিত এ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা। ইসলাম নিয়ে কেউ মিথ্যাচার করলে তাকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

উপরের তিনটি শ্রেণি বাদেও একটি শ্রেণি রয়েছেন যারা শুধুমাত্র মজা করার জন্যই এ কাজটি করেন। তবে মজা করার জন্যও ইসলাম নিয়ে এ ধরনের কাজ করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন মিরাজ রহমান।

/মজুমদার