• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
  • ||

ভোট প্রতিরোধের পথেই যাচ্ছে বিএনপি

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:১৬ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:২৪
মজুমদার ইমরান
প্রিন্ট

আবারো ভোট প্রতিরোধের পথেই হাটছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমন আভাসই পাওয়া যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল। তিনমাসের লাগাতার হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চালিয়েও সরকারকে নরম করতে না পেরে পিছু হটেছিল।

এবারো আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে। গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। আর এবার আমাদেরকে আর নির্বাচনের বাইরেও রাখা যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখবেন। আর আরেকটি ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করবেন তা হবে না।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসবে না। রাজপথই হলো সমাধানের একমাত্র বিকল্প।

একইদিন অপর এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৮ সাল খালেদা জিয়ার বছর। বিএনপির বছর। সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের পতন হবে। সেজন্যই তারা নিদর্লীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। দেশে আগামীতে আর ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও তিনি হুশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বিএনপির দাবি মানতে নারাজ। সংবিধান অনুযায়ী তাদের সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে বলে অনঢ় আওয়ামী লীগ। এই অবস্থায় বিএনপিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে। বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা চাইলেও আওয়ামী লীগ সেই পথে হাটঁবে না।

তাই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সামনের নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াবে। নির্বাচনের পথটা কারো জন্যই সহজ হবে না। বিএনপিকে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করতে হলে রাজপথেই সমাধান খুঁজতে হবে।

এদিকে বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও বিকল্প হিসেবে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন। তবে আপাতত আরো কিছুদিন তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে সহিংসতায় যাবেন না। দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার ভবিষ্যত দেখে অল আউট কর্মসূচিতে যেতে চান ২০ দলীয় জোট নেত্রী। জানা গেছে, বিএনপি আরো শক্তিসঞ্চয় করবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে তখনই একদফার দাবিতে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামবে।

তবে কর্মসূচি দিয়েও মাঠে দেখা না থাকায় বিএনপির কর্মীরা কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও অনুমতি ছাড়া ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসে রাজধানীতে সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। সমাবেশ করতে না দেয়ার পরিবর্তে আজ রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিলেও মাঠে নামেননি দলের নেতারা। বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, সরকারের শেষ বছরে যদি অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি পালন করা না যায়, তাহলে কিভাবে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে উঠবে। সাংগঠনিক দুর্বলতার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতাদের সাহসের অভাব বলেও মনে করছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। /মজুমদার

ফখরুলের সভাস্থলে ১৪৪ ধারা

apps