• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

ডাকসুর ২৭বছরের ৫ কোটি টাকা গেলো কই?

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৫ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরই ভর্তির সময় ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের ফি হিসেবে ৬০ টাকা করে ১২০ টাকা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৪ জন।

সেই হিসেবে এক বছরেই প্রায় ৪৪ লাখ টাকা ডাকসু ও হল সংসদের নামে আদায় করা হয়। ২৭ বছরে শিক্ষার্থী ও চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে হিসেব করলেও এই অর্থের পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

১৯৯০ সালের পর আর ডাকসু কিংবা হল ছাত্র সংসদের নির্বাচন না হলেও ফি কিন্তু দিতেই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি কর্তৃপক্ষের কাছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন জানান, ডাকসু না থাকলেও এসব অর্থ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ে নানা খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়।ভিন্ন কথা বললেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসাব রক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা। তিনি বলেন, এই সবগুলো খাতের টাকাই জেনারেল ফান্ডের সাথে যোগ করে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসু নাথাকায় কার্যত অচল হয়ে আছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। ডাকসুর চাঁদা হিসেবে নেওয়া অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, সেই সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

ডাকসুর কার্যক্রম না থাকলেও প্রতিবছর ডাকসুর কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় খাতে বিশ্ববিদ্যালয় অর্থ বরাদ্দ রাখে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা; ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে ডাকসু নির্বাচন বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ লাখ টাকা, ২০১৬-১৭ তেও একই পরিমাণ টাকা বরাদ্দ ছিল।

গত ২৭ বছরে গড়ে কমিয়ে ধরলেও এই টাকার পরিমাণ হয় ১ কোটি টাকার মতো।

নির্বাচন তো হচ্ছে না, এই অর্থ তাহলে কোথায় ব্যয় হচ্ছে- জানতে চাইলে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল বলেন, বরাদ্দকৃত টাকা খরচ না হলে সেই টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হয়। তবে ঠিক কোন খাতে ব্যয় করা হয়, সেটির কোনো রেকর্ড নেই বলেন তিনি।

নির্বাচনের মতো ডাকসু ও হল সংসদের অভিষেকের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়, সেই অর্থের বিষয়েও একই উত্তর আসে কর্তৃপক্ষের। অধ্যাপক কামাল মনে করেন, ডাকসু মনোনীত প্রতিনিধিরা থাকলে এসব কাজে আরও স্বচ্ছতা আসত। /মজুমদার

apps