• সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮, ১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

৫ জানুয়ারিতে মানুষ ভোট দিয়েছিল বলেই ৪ বছর পূর্ণ করলাম

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১৭ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটারবিহীন ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাবে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূর্তির পর সরকারপ্রধান এ বিষয়ে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনোমতেই ভোটারবিহীন হয় নাই। নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল। মানুষ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা নির্বাচনের ৪ বছর পূর্ণ করতে পারলাম। তিনি এসময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল বলেই তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে নি। এসময় খালেদা জিয়ার উকিল নোটিশের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সময় মতো তার জবাব দেওয়া হবে।

শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়পার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে তার মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি নিয়ে কথা বলায় আমর নামে উকিল নোটিম পাঠিয়েছে। ওসব নোটিশ জীবনে অনেক দেখেছি। সময় মতো জবাব দেওয়া হবে। সাহস থাকলে যারা তার দুর্নীতির খবর প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, বিদেশি গণমাধ্যম তাদের কাছে প্রতিবাদ পাঠাক তাদের নামে নোটিশ পাঠাক। তা তো পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমাদের নামে পদ্মা সেতুর নির্মাণের সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, আমরা চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আজকে কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে পদ্মা সেতুতে কেনো দুর্নীতি হয় নি।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলেছে আমরা জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানচ্ছি। এসময় প্রধামন্ত্রীর বাম পাশে বসা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, কী তুমি কী জোড়তালি দিয়ে বানাচ্ছো নাকি? প্রধানমন্ত্রী এসময় গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা খেয়াল রাখবেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর খালেদা জিয়া এবং তার দলের নেতারা তাতে ওঠে কী না ! সাবমেরিন নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, সাবমেরিন আনার পরপরই পানিতে ডুবে গেছে। আসলে উনি কী জানেন না, সাবমেরিন পানিতে ডুবে থাকে। এসময় খালেদা জিয়ার মানিক সুস্থতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

দশম সংসদ নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূতির একদিন পর ওই নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে ভোট ঠেকানোর জন্য খালেদা জিয়া আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, ৫৯২ টা স্কুল পুড়িয়েছে, ভোট কেন্দ্র পুড়িয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডং অফিসারকে হত্যা করেছে, তারপরও এদেশের মানুষ রুখে দাড়িয়েছে এবং তারা ভোট দিয়েছে। আর ভোট দিয়েছে বলেই কিন্তু আমরা এই ৪ বছর পূর্ণ করতে পারলাম।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, এরশাদ কিন্তু পারে নাই। ১৯৮৮ সালে নির্বাচন করেছে; ৯০ এ তার পতন ঘটেছে। খালেদা জিয়া টিকতে পারে নাই। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করেছে, ৩০ মার্চ মাত্র দেড়মাসের মাথায় খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে। কারণ, তারা ভোট চুরি করেছিল। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটের নির্বাচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল। নইলে খালেদা জিয়া চেয়েছিল এদেশে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যেন না থাকে।

বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা এখন গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান কোন গণতান্ত্রিক ধারায় ক্ষমতায় এসেছে। সায়েম সাহেব রাষ্ট্রপতি ছিলেন...জিয়া সোজা গিয়ে তাকে বলে, আপনি অসুস্থ। তারপর অস্ত্র দেখায়। সায়েম বলে, হ্যা বাবা; আমি অসুস্থ। জিয়া বললেন, লিখে দেন, আজ থেকে আমি প্রেডিডেন্ট এবং আপনি পদত্যাগ করলেন। উনি তাই করেছেন। যদি কারো এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকে তাহলে সায়েম সাহেবের নিজের লেখা বই ‘লাস্ট ডেইজ এট বঙ্গভবন’ বইটা পড়ে দেখেন । সেখানে তিনি নিজে লিখে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি যে এখন লম্বা লম্বা কথা বলে ! তাদের গনতন্ত্র কোনটা? কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের জন্ম। জিয়াউর রহমান একাধারে সেনাপ্রধান, সেখানে সে আর্মি অ্যক্ট ভঙ্গ করে তিনিই সেনাপ্রধান তিনিই রাষ্ট্রপতি। একই অঙ্গে দুই রূপ নিয়ে ক্ষমতায় বসে। সেই অবস্থায় প্রথমে হ্যা না ভোট, তারপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। রাষ্ট্রপতি হয়ে তিনি দল গঠন করলেন, যে দল প্রথমে ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি, তারপর জাগো দল, তারপর আরো কিছু করে টরে এই বিএনপি সৃষ্টি। একটা সামরিক স্বৈরশাসক, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের হাতের যাদের জন্ম তারা কি করে এতো গণতন্ত্রের কথা আউরায় সেটাই আমার প্রশ্ন। যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের হাত ধরে, আজকে তারা গণতন্ত্রের প্রবক্তা হয়ে গেছেন। যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল, একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে হত্যা করেছিল, তারা ক্ষমতা দখল করে রাতারাতি গণতান্ত্রিক হয়ে গেলো। আমি বুঝি না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার টুােিটর জবাবে বলেন, খালেদা জিয়া টুইট করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে বুলেটে। তিনি ব্যালটে বিশ্বাস করেন।’ আপনারা অনেকেই জানেন, আমি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর বারবার বলতাম, ক্ষমতা পরিবর্তন হবে ব্যালটের মাধ্যমে বুলেটের মাধ্যমে না। কারণ বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়াউর রহমান। আর খালেদা জিয়া আরও একধাপ উপরে। গ্যাস বেচার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আওয়ামী লীগ কখনো সেটা করে নাই। কাজেই বন্দুকের নলের মধ্য দিয়ে যাদের ক্ষমতা দখল তাদের মুখে এই কথা শোভা পাই না। আবার নাকি টুইটও করছেন। জানি না, নিজে লিখছে কী না !!! সেটাই সন্দেহ।

প্রায় ৪০ মিনিটের সূচনা বক্তব্যের পর গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজুলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, ফারুক খান, ওবায়দুল কাদের প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাত সাড়ে আটটায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকে দেশের সমসাময়িক আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

/সাজ্জাদ