• শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
  • ||

তারানাকে সরাতে সক্রিয় ছিল ৫ জনের সিন্ডিকেট

প্রকাশ:  ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:৪৯ | আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:০১
উৎপল দাস
প্রিন্ট
সাম্প্রিতক মন্ত্রিসভা রদবদলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীকে নতুন করে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারানা হালিমকে। সৎ, দক্ষ এবং পরিশ্রমী এই প্রতিমন্ত্রীর এই রদবদলের পিছনে ৫ জনের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অনুঘটক হিসাবে কাজ করেছে বলে রাজনীতির অন্দরে-বাহিরে জোর গুঞ্জন উঠেছে। এই সিন্ডিকেট প্রায় এক বছর ধরে তারানাকে সরাতে কাজ করছিল নিজেদের নানা স্বার্থে।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, তারানা হালিমকে ডাক ও টেলিযোগ থেকে সরতে হয়েছে এক ‘শক্তিধর’ ব্যক্তির সঙ্গে আপোস না করায় তার সঙ্গে সহায়ক হয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী এবং টেলিযোগাযোগ খাত সংশ্লিষ্ট দু’টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন চেয়ারম্যান ও একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজ করছেন।  

সূত্র আরো জানিয়েছে, তারানা হালিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এই কারণে তিনি একদিন সচিবালয়েও যেতে পারেননি। এছাড়া, একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাসহ কয়েকটি প্রকল্পে খবরদারি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সততা ও সাহস নিয়ে তারানা তার সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল।

তারানা যেন অনেকটা একা হয়ে কিছু সৎ, দক্ষ, কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর স্নেহ ছায়ার জোরে বৈরী পরিবেশে অনেকগুলো সফলতা দেখিয়েছেন। তার সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, সারাদেশে বর্তমানে মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৪ কোটি ৭১ লাখে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ৭ কোটি ৭২ লাখে পৌঁছেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তিখাতে বিপ্লব ঘটাতে তিনি বৈপ্লবিক সাফল্য দেখিয়েছেন। এমনকি বাংলাদেশকে ২য় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত করে ইন্টারনেট স্পিড বাড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ শতভাগ শেষ করেছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গাজীপুর গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে গেছেন তারানা।  কলড্রপে মোবাইল অপারেটর (একের অধিক) কর্তৃক কল ফেরত আনতে মোবাইল অপারেটরদের বাধ্য করেছেন। টেলিকম নীতিমালা মন্ত্রীসভায় অনুমোদনে তারানা প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন। ৬০৬৫ কিলোমিটার অপটিকাল ফাইবার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের গাইডলাইন অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, ডাকবিভাগের ২৩টি পয়েন্টে ই-কমার্স চালু, এজেন্ট ব্যাংকিং (পাইলট প্রজেক্ট চালু), গণহত্যার ঐতিহাসিক দলিল (স্ট্যাম্প, অ্যালবাম প্রকাশ),  টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার ৭৪ থেকে ৯৭টিতে উন্নীতকরণ, টেলিটকের রিটেইলার সংখ্যা ৩৬,০০০ থেকে ৫৬,০০০ এ উন্নীত,  বায়োমেট্রিক রেজিষ্ট্রেশন করানোর মতো চ্যালেঞ্জিং কাজটিও সফলতার সঙ্গে করেছেন তারানা হালিম।