• সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮, ৮ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন আপিলে বহাল

প্রকাশ:  ০৮ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
ফাইল ছবি

মুদ্রা পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে একটি করে মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম এবং তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে তাদের জামিন দেওয়া হয়েছিল।

আপিল বিভাগের আদেশের ফলে আপন জুয়েলার্সের দুই মালিক গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের মুক্তিতে বাধা নেই। তবে আরো দুই মামলায় জামিন না হওয়ায় দিলদার আহমেদ জামিনে মুক্ত হতে পারবে না।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আসামিদের জামিন স্থগিত রাখার বিষয়ে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহের হোসেন সাজু। আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা ও উত্তরা থানায় শুল্ক গোয়েন্দার দায়ের করা পাঁচ মামলার মধ্যে তিন মামলায় দিলদার আহমেদসহ আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বাকি দুই মামলা মূলতবি রাখেন আদালত। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

হাইকোর্টে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ও আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ। হাইকোর্টের শুনানির পর ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ বলেছিলেন, ‘আদালত পাঁচ মামলার মধ্যে আসামিদের তিনটিতে জামিন দিয়েছেন। তবে বাকি দুই মামলা মূলতবি রেখে একমাস পর শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাই এখন এই মামলার আসামি দিলদার আহমেদ ছাড়া বাকি দুই আসামি জামিনে মুক্ত হতে পারবেন।’

এর আগে, গত ২২ নভেম্বর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক দিলদার আহমেদ, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কেন জামিন দেওয়া হবে না— তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ওইদিন পৃথক পাঁচটি আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আইনজীবী আমিন উদ্দিন বলেন, ‘আপন জুয়েলার্সের মালিকদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের মামলা হওয়ার কথা না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ করা হয়েছিল। এছাড়াও তাদেরকে (তিন মালিক) একটি দোকানের বিষয়ে শুল্ক আইনে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে একটি রিট মামলাও চলমান রয়েছে। অথচ এসব প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হলো।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিচারিক আদালতে আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের পক্ষে আবেদন করা হলেও তাদের জামিন মেলেনি। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি কার্যতালিকায় এলে রাষ্ট্রপক্ষে এ নিয়ে শুনানি করতে বলা হয়।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে রুলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন দেন। তবে গত ১৮ ডিসেম্বর আসামিদের সেই জামিন আদেশ স্থগিত চাওয়া হয়। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আসামিদের জামিন স্থগিত রাখা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর পুনরায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই স্থগিতাদেশ মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

এরপর ফের আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন আজ সোমবার (৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ। এ বিষয় পূর্ণাঙ্গ শুনানি নিয়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকদের হাইকোর্টে দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিলেন আপিল বিভাগ।

/এসএইচ