• বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

‘যারা ইতরামি করবে, খুলি উড়াইয়া দেবে’

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে থাকা শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীদেরকে বাজে ভাষা ব্যবহার করে গালাগালি করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে তিন পুলিশ দেখিয়ে বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের খুলি উড়িয়ে দেবে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে। এতে দেখা যায়, মকবুল শিক্ষার্থীরা কিছুই করতে পারবে না বলে উল্লেখ করে তিনি তাদেরকে বাজে ভাষায় গালি দিয়েছেন।

১৯৯৬ সালে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত মকবুল হোসেন এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেতন বৃদ্ধি স্থগিতসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা রবিবার সকাল আটটা থেকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে আসেন মকবুল হোসেন।

ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, মকবুল শিক্ষার্থীদের হুমকি ও গালিগালাজ করছেন, তারপরও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ছাড়তে রাজি হচ্ছে না।

এ সময় একজন শিক্ষার্থীকে হুমকি দিতে থাকেন মকবুল আহমেদ। পাবনা মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বলেন, ‘এমবিবিএস করতে আসছ? পাবনা জান না, কী ...(গালি) হইছে জান না?’।

এরপর সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে মকবুল বলেন, ‘পাবনা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ করে দেয়া হইছে।’

পরে আবার শিক্ষার্থীদেরকে মকবুল বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ করে দিছে, প্রিন্সিপালের কী হইছে? ...(গালি) হইছে?’।

‘তোমার এক বছর মিস হবে, তোমাকে এক্সপেল করা হবে’-এক শিক্ষার্থীকে মকবুল এ কথা বলার পর ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাঁচ বছর মিস হোক, তবু দাবি আদায় করে ছাড়ব।’

এরপর মকবুল বলেন, ‘তোরা ছাত্র হলো ৫০০ জন। কয়জন এখানে আছে?’

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা এখানে আসেনি, তারা বাসায় আছে, তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে।’

মকবুল বলেন, ‘হ, একাত্মতা প্রকাশ করেছে, আর আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার। যারা ইতরামি করবে, খুলি উড়াইয়া দেবে।’

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিয়ম বহির্ভুত কিছু হবে না।’

মকবুল দুই জন শিক্ষার্থীর প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে বলেন, ‘ওই ব্যাটা এর সাহসটা কত, আর ওর সাহসটা কত’।

‘কত বড় বেয়াদব, এরা চিন্তা করেন’

এরপর পুলিশকে উদ্দেশ্য করে সবাইকে তুলে দেয়ার কথা বলেন মকবুল।

কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘কেউ উঠবেন না, কেউ উঠবেন না।’

মকবুল বলেন, ‘আরে ব্যাটা তোর কথা চিন্তা কর।’

‘উঠে যাবি, উঠে যাবি, কয়বার জেল খাটছস, কয়বার জেল খাটছস?’।

ওই শিক্ষার্থী জবাব দেন, ‘জেল হলে সবার জন্য জেল খাটব।’

এরপর মকবুল ঘুরে গিয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘এই মারিয়া, উঠবা না? এখানেই থাকতে হবে কিন্তু।’

তবে শিক্ষার্থীরা ক্রমেই বলতে থাকে, ‘কেউ উঠবে না, কেউ উঠবে না’।

‘কর্তৃপক্ষের অত্যাচার চলবে না, চলবে না’ এবং অন্যান্য নানা স্লোগান চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের।

এই পর্যায় মেডিকেল কলেজের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মকবুলের সঙ্গে তর্ক করা ওই ছাত্রকে বুঝাতে যান। তখন তিনি বলেন, ‘নো স্যার, ওনি (মকবুল) আমার মুরুব্বি, আমার বাবার বয়সী, কীভাবে ওনি আমাকে গালি দিল, কীভাবে জেল খাটানোর থ্রেট দিল।’

কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে আমরা চল কনফারেন্স রুমে আলাপ করি।’

কিন্তু শিক্ষার্থীরা উঠতে রাজি হয়নি। আর মকবুল আবার এসে ১০ জন শিক্ষার্থীকে তার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তাব দেন।

কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা পাগল হয়ে গেছি।’

মকবুল বলেন, ‘পাগল হয়ে গেছ? পাগলের কী দেখছ? শোনো তোমাদের যা বক্তব্য আছে, ১০ জন আস...।’

অন্য একজন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন...’

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকে কিছু হয় না...’।

পরে শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয় শিক্ষার্থীরা।

এরপর বেলা পৌনে দুইটার দিকে শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন।