• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
  • ||

রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি

প্রকাশ:  ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:২৫ | আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসময় একজনকে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার বেলা সোয়া ১১টায় এ রায় ঘোষণা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া।

এ সময় আদালতে মামলার আসামিরা উপস্থিত ছিলেন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বাসটির হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫)। এছাড়া সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদন্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে ৫ ফেব্র“য়ারি আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নাছিমুল আক্তার নাসিম। তাকে সহায়তা করেন মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী এস আকবর খান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এম এ করিম মিয়া ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ।

এদিকে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকার আইনজীবি অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি একেএম নাছিমুল আখতার নাসিম জানান, ঘটনার ১৭৩ দিন আর মামলার ১৭১ দিনের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (২০০০ সনের ৮নং আইন) এর ৯(৩) ধারার অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিসংগত সন্দেহাতীতভাবে প্রমান করতে সমর্থ হওয়ায় মোট ১৪ কার্য দিবসে ও ৭৩ পৃষ্ঠার রায়ে দোষী সাব্যস্তক্রমে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার নন্দিবাড়ী গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ও বাসটির হেলপার শামীম (২৬), একই মেজা, উপজেলা ও গ্রামে মৃত কামাল হোসেনের ছেলে ও হেলপার আকরাম (৩৫), ময়মনসিংহ জেলার মিজুাপুর গ্রামের মৃত এমদাদুল হকের ছেলে হেলপার জাহাঙ্গীর (১৯) ও একই জেলা ও গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং বাস চালক হাবিবুর (৪৫)।

এছাড়াও ময়মনসিংহ জেলার মির্জাপুর গ্রামের মোঃ সুলতান আলীর ছেলে ও বাসের সুপারভাইজার মোঃ ছবর আলীতে ৭ বছরের কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন আদালতে বিচারক।

মামলার অপরাধ সংঘটনের কাজে নিরাপদ ছোঁয়া পরিবহনের (রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৩৯৬৩) বাসটি ব্যবহৃত হওয়ায় ফৌজদারী কার্যবিধির ৫১৭ ধারানুসারে গাড়ীটি সম্পূর্ণ নির্দায় অবস্থায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিহত রূপার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রূপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত নারী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রূপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে রূপার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ মামলায় বাদীসহ ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

/পি.এস

apps