• মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

বাংলাদেশ নিয়ে জাতিসংঘে ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রশ্ন করছে বিএনপি-জামায়াত চক্র!

প্রকাশ:  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৪৯ | আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৭:২৪
উৎপল দাস
প্রিন্ট

জাতিসংঘে আবারও বাংলাদেশ নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ প্রশ্ন তোলার কাজ করছে বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট একটি চক্র। চক্রটি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে মিথ্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এমনকি বর্তমান সরকারের কোনো উন্নয়ন বা সফলতা নিয়ে প্রশ্ন করছে না চক্রটি। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে শুধুমাত্র বিএনপি কেন্দ্রিক বারবার প্রশ্ন করায় জাতিসংঘ থেকেও তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না তাদের প্রশ্নগুলোকে। অনেকটা দায়সারাভাবে কূটনৈতিকভাবেই উত্তর দেয়া হচ্ছে।

নিউইয়র্কের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মুশফিকুল ফজল আনসারী, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার কথিত নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি ও জামায়াতে ইসলামের সক্রিয় কর্মী ইমরান আনসারী এবং মানবজমিন পত্রিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কাউসার মুমিন এই তিনজন মিলে বাংলাদেশ সম্পর্কে জাতিসংঘে বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে।

৮ ফেব্রুয়ারির ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ইমরান আনসারি প্রশ্ন করতে গিয়ে বেগম জিয়ার বিরূদ্ধে বিচারকে 'রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপূর্ণ' বলে অভিহিত করেছেন। দাবি করেছেন, ১০ মিলিয়ন মানুষ রায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ তাদের উপর গুলি ছুঁড়ছে।

জবাবে জাতিসংঘের প্রতিনিধি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা কিছুটা অবগত আছেন এবং পরবর্তীতে আপডেট নিয়ে কথা বলবেন।

এদিকে, খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে বাংলাদেশে তেমন কোনো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টিই হয়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে বসে এই চক্রটি বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন করে বহি:বিশ্বের কাছে নিজের দেশকে খাটো করার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও মনে করেন অনেকে।

উল্লেখ্য, মুসফিকুল ফজল আনসারী জাস্ট নিউজ (https://www.justnewsbd.com/) নামে একটি অনলাইনের সম্পাদক পরিচয়ে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরে প্রশ্ন করেন। এছাড়া দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার কথিত নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি ও জামায়াতে ইসলামের সক্রিয় কর্মী ইমরান আনসারীও রয়েছেন। তিনিও নিজেকে গ্রিনবার্তা (http://greenbarta.com/) নামে একটি অনলাইনের সম্পাদক পরিচয়ে জাতিসংঘে প্রেস ব্রিফিংগুলোতে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকার তেজগাঁওয়ে পূর্ব তেজতুরী বাজারে গ্রিন বাংলার একটি অফিস আছে (Bangladesh office: 9 Station Road (2nd Floor), East Tejturi Bazar, Tejgaon, Dhaka-1215, Bangladesh। আরেকটি অফিস আছে নিউ ইয়র্কের জ্যামাইকায় (USA office: 8540, 169 street, Jamaica, NY 11432,USA)।

মুশফিকুল ফজল আনসারীর জাস্ট নিউজের অফিস ঢাকার মগবাজারে ( ৩৭, বড় মগবাজার (ডাক্তার গলি) ঢাকা-১২১৭, ফোন +৮৮০-১৯ ৭৫৩১ ১১০১, ইমেইল: [email protected])। আমেরিকায় জাস্ট নিউজের অফিস নেই বলে জানা গেছে।

মুশফিকুল ফজল আনসারীর পরিবার লন্ডনে থাকে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও তারা নিয়মিত যােগাযোগ রাখেন বলেও জানিয়েছে সূত্র।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে ব্রিফিংয়ে ইমরান আনসারীর প্রশ্ন ও ও জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি স্পোকসম্যানের উত্তর: Question: This is Imran Ansary. I would like to draw your attention to Bangladesh. You may know that former Prime Minister of Bangladesh and key opposition leader Begum Khaleda Zia was jailed for five years for corruption. After her verdict, tens of millions… thousands people coming to the street to protest against this politically motivated verdict. Police imposed [inaudible] and used live bullets to demolish these protests. Thousands of opposition activists have been arrested, as far as the media reports. You may know that the general election will be held this upcoming December, and political experts already told the media after his verdict, it is the process to eradicate Begum Khaleda Zia and her son, Tarique Rahman, from the general election. In this connection, what types of initiatives taken by Secretary-General? And could he send any special envoy to Bangladesh to resolve the political crisis?

Deputy Spokesman: Well, first of all, we only recently received the report concerning the arrest and the subsequent events. We're monitoring what the events are on the ground and we will react accordingly. We would, of course, be concerned about any reports of violence and at this point, we call on all sides to maintain calm and we expect to have a further reaction after we've evaluated the situation further.

এর আগে ২০১৫ সালে দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার সময়ও মুশফিকুল ফজল আনসারী জাতিসংঘে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে বারবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলে ধরতেন। এক পর্যায়ে তিনি জাতিসংঘকে এই অভিযােগও করেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার জাস্ট নিউজ অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দিয়েছে।

জনাব মুশফিকুল ফজল আনসারী আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়েও বিএনপির পক্ষে প্রশ্ন করে থাকেন। তাঁর সঙ্গে আরো অংশ নেন তারেক রহমান শরাফত বাবু।

৮ ফেব্রুয়ারির ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে ইমরান প্রশ্ন করতে গিয়ে বেগম জিয়ার বিরূদ্ধে বিচারকে 'রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপূর্ণ' বলে অভিহিত করেছেন। দাবি করেছেন, ১০ মিলিয়ন মানুষ রায়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ তাদের উপর গুলি ছুঁড়ছে।

অন্যদিকে মুশফিকুল ফজল আনসারী প্রশ্ন করার সময় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে তাদের বক্তব্য এবং বিএনপির বক্তব‌্যের মাঝে পার্থক্য বের করা কঠিন বলেও মনে করেন অনেকে।

এই চক্রটি আগামী দিনগুলোতেও সরকারের বিরূদ্ধে জাতিসংঘ ও ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টে তৎপরতা চালাবে। তাদের বিরূদ্ধে বাংলাদেশে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা একে সাংবাদিকতার উপর আঘাত হিসেবে প্রচার করবে বলেও জানিয়েছে সূত্র।

এই চক্রের আরেক সদস্য মানবজমিন পত্রিকার যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি কাউসার মুমিন। তিনি এক সময় নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে কাজ করলেও পরে আর দেশে না ফিরে পালিয়ে যান। ২০০২ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের বিশেষ সহকারী হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ পেয়েছিলেন কাউসার মুমিন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রটোকল সাইফার অ্যান্ড কনস্যুলার বিভাগে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে কাউসার মুমিনকে মিশন থেকে দেশে ফিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি ফিরেননি। যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক রাষ্ট্রদূত শমশের মবিন চৌধুরীর বিশ্বস্ত ও বিশেষ অনুগত এবং আদর্শগতভাবে জামায়াতে ইসলামীপন্থি এই সরকারি কর্মচারী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। কাউসার মুমিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে মানবজমিন পত্রিকায় সরকারের বিরূদ্ধে যায় এমন চটকদার খবর পাঠান।

এবার পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নও ফাঁস