• রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||

খালেদা নির্বাচনে আসা না আসা নিয়ে যত কথা

প্রকাশ:  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৫ | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়া ও নির্বাচন হতে না দেয়ার হুমকি দেয় বিএনপি। অপর দিকে গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিএনপি নির্বাচনে আসা না আসা নিয়ে মন্তব্যে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আমাদের কিছুই করার নেই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, হয়ত এমনও হতে পারে বহু মামলার জালে আটকে পড়ার আশংকায় থাকা খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে না পারলেও বিএনপি যেন খালেদাকে ছাড়াও নির্বাচনে আসে সে বিষয় মাথায় রাখবে বিএনপি। একই ভাবে সিইসিও তাঁর সক্ষমতা অক্ষমতার বিষয় ভালোভাবে বিবেচনা না করে খালেদার প্রসঙ্গটিকে আদালতের ওপর ছেড়ে দিতে চাইছেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, খালেদা জিয়া এখন যে অবস্থায় আছেন, তাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে উচ্চ আদালত যদি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত দেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে আমি প্রত্যাশা করি, সব বাধা কাটিয়ে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোমবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। যেহেতু আপিল করেননি, তার মানে অভিযুক্ত অবস্থায় আছেন। সুতরাং এই অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। তারপরে উচ্চ আদালতে গেলে কী রকম ডিরেকশন আসে তার ওপরে নির্ভর করে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে। তিনি যদি আপিল করেন এবং আদালত যদি তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, খালেদার মামলা উচ্চ আদালতে গেলে কী রকম ডিরেকশন আসে তার ওপরে নির্ভর করে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে। আদালত যদি তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, সে ক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চাইলে জনগণ মানবে না । ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। এমন কতগুলো কথা বলেছেন যার সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন নিয়ে উনি কথা বলেছেন, নির্বাচন ঠেকে থাকবে না বলেছেন। এর সাথে তার অভ্যাস আছে, অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৪ সালে যে নির্বাচন তারা করেছেন সেখানে ৫% মানুষও ভোট দিতে আসেনি। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন না করলে এদেশে নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না, এটা বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যারা নির্বাচন করতে চায়, তারা আসলে প্রতিপ কে বিরোধী দলকে এবোর্ট করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়, একতরফা করতে চায়। সেটা এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।

অন্য এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা খোন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলেছেন, কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়েই বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় । দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমি বলতে চাই, অবশ্যই বেগম জিয়াকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাবার চিন্তা করছি। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা আমাদের আছে। বিএনপি কী ধরনের কর্মসূচি দেবে, তা একান্ত বিএনপির বিষয় বলেও জানান দলটির এই নীতিনির্ধারক।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘বিএনপি শান্ত কর্মসূচি দিচ্ছে। কোনো জ্বালাও–পোড়াও করছে না। সরকার যেটা ভেবেছিল তা বিএনপি করে নাই আর এতেই ওবায়দুলের (আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের) মাথা ব্যথা হয়েছে, কেন এমন করে না। এসব চিন্তা করে যদি ভালো ঘুম হয় তাহলে চিন্তা করেন।’

কারাগারে যাওয়ার পর খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে দাবি করেন মোশাররফ হোসেন বলেন, এই যে অন্যায়ভাবে আমাদের নেত্রীকে সাজা দেওয়া হলো, জেলে নেওয়া হলো, সেজন্যই দেশনেত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে, তার প্রতি সহানুভূতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি দেশনেত্রী থেকে দেশমাতায় পরিণত হয়েছেন। আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন দলটির এই নীতিনির্ধারক। সরকারের উসকানিতে পা না দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

চলমান এই পরিস্থিতিতে খালেদার ব্যাপারে সরকারের যেমন নেই তেমনি বিএনপিরও খুব বেশি করার আছে বলে মনে করা যাচ্ছে না। মুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল, মানববন্ধন. গণস্বাক্ষর সংগ্রহ ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিতে আছে তারা। এমতাবস্থায় দল ধরে রাখা, খালেদাকে মুক্ত করা এবং নির্বাচনে যাওয়ার মত কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিএনপি কতটা সক্ষম সেটাই দেখার বিষয়।

/এসএইচ