• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫
  • ||

বইমেলার শেষে এসে 'জেনারেলের কালো সুন্দরী'র বাজিমাত

প্রকাশ:  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৩:০৩ | আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:৪৭
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট

বাঙালির প্রাণের উৎসব বইমেলা। ফেব্রুয়ারীতে এর আয়োজন থাকলেও বছর জুড়েই চলে প্রস্তুতি। বই প্রেমিরা বেকুল হয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনে কখন আসবে এই মাহেন্দ্রক্ষণ। বিদায় বেলায় যেন রঙ ছড়াতে শুরু করেছে অন্যপ্রকাশের স্টল।

কেননা অন্তিম লগ্নে পৌঁছে জানান দিল, এবার বইমেলায় বাজিমাত করতে যাচ্ছে দেশবরেণ্য সাংবাদিক, সংবাদ জগতের পথিকৃৎ, স্পষ্টবাদী লেখক পীর হাবিবুর রহমানের লেখা উপন্যাস 'জেনারেলের কালো সুন্দরী'। গত কয়েকদিনে আলোড়ন সৃষ্টি করে পাঠক মনে নাড়া দিয়েছে বইটি। সব শ্রেণির পাঠক ছুটছে বইটি সংগ্রহ করতে।

চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও 'জেনারেলের কালো সুন্দরী' নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। যেমনটি হচ্ছে তরুন প্রজন্মের আড্ডায়।

তুমুল গরমে যেমন টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ প্রশান্তি এনে দেয়, হাড়কাঁপানো শীতের সকালে সূর্যের লাল আভা যেমন শরীর এবং হৃদয়কে উষ্ণ করে তেমনই পাঠক হৃদয়ের অতৃপ্ত আকাঙ্খা যেন তৃপ্ত হয়েছে 'জেনারেলের কালো সুন্দরী'র বাতাবরনে।

বইটি অন্যপ্রকাশের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের নিষ্টুর খেয়ালি শাসকদের নিষ্ঠুরতা, নীতিহীনতা, লাম্পট্য, দেউলিয়াত্ব খেয়ালি আচরন ও চরিত্র ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে। বইটি পড়লে পাঠক হৃদয় তৃপ্ত হবে।

একাত্তরের গণহত্যার নায়ক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান ইসলামাবাদের রাষ্ট্রপতি ভবনকে বেশ্যালয় বানিয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর ইয়াহিয়া খানের হেরেমের নারী চরিত্রগুলো একে একে উন্মোচিত হয়েছিল গণমাধ্যমে। কালো সুন্দরী শিল্প-সাহিত্য বোদ্ধা নিষ্ঠুর ইয়াহিয়া খানকে রাত নামলে স্বপ্নের রহস্যময়তার ভিতর টেনে নিত।

ইয়াহিয়া খান কয়েক লাখ টাকা খরচ করে পশ্চিম জার্মানি থেকে বাদক দল আনিয়েছিলেন কালো সুন্দরীর জন্য। প্রচুর টাকা খরচ করে পশ্চিমা সংগীতের বিশাল ডিস্ক নিজের লাইব্রেরীতে সংগ্রহ করেছিলেন।

কাম শাস্ত্রের চমৎকারিত্য কলাকৌশল, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ কথামালায় ইয়াহিয়া খানকে কালো সুন্দরী হাতের পুতুল বানিয়ে ফেলেছিলেন। আকলিমা আক্তার নামে আরেকজন ইয়াহিয়া খানের যৌন জীবনে সাড়া জাগিয়েছিলেন। তাঁকে জেনারেল রাণী বলা হতো। ইয়াহিয়া খানের সমস্ত বান্ধবীদের “কমান্ডার অব ন্যাশনাল গার্ড” বলে জানতো সবাই।

জেনারেলের বালাখানার অন্ধকার জীবনের অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পেতেন না। দরজা বন্ধ করে সংগীত নিয়ে আলোচনার নামে টানা কামলীলায় রাত কাটানো বিখ্যাত সংগীত শিল্পী নূরজাহানই এই চরিত্র উন্মোচিত করেছিলেন।

ইয়াহিয়া খানের ২৫ বছরের ছেলে আলী ইয়াহিয়াও বাপের মতোই মদ্যপ আর লম্পট হয়ে উঠেছিলেন। ডিসেম্বরের এক শীতের সকাল। শীতের কুয়াশার ঘোমটা সরিয়ে তখনো ঝলমলে রোদ ওঠেনি। ইয়াহিয়া খান কালো সুন্দরীর জন্য অস্থির অশান্ত হয়ে সেখানে ছুটে যান। ছেলেকে দেখতে পেয়ে মাতাল ইয়াহিয়া ক্রোধে উন্মাদ হয়ে উঠেন। ছেলে বাপকে পাল্টা সরে দাঁড়াতে বলে। এই বেয়াদবি সহ্য করতে না পেরে বন্দুক বের করেন জেনারেল। পরিস্থিতি সামলে কালো সুন্দরী ছেলেকেই বিদায় করে দেন। পরে আলী ইয়াহিয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করতে থাকেন। এবং তাঁর পিতার লাম্পট্য নিয়ে নানা কথা বলে বেড়াতে থাকেন। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত ইয়াহিয়া ছেলেকে গভর্ণমেন্ট হাউসে ঢুকতে নিষেধ করে দেন। বলেছিলেন, আশপাশে দেখা গেলে নিশ্চিত কারাগার।

ইয়াহিয়া খানের সীমাহীন মদ্যপান ও রাতের পর রাত নারী মাংসের প্রতি লোভ ঢাউর হয়ে গেলেও ইয়াহিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে সামরিক বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। পুলিশ যখন জেনারেল রাণীকে হোটেল কন্টিনেন্টাল থেকে গ্রেপ্তার করে, তখন তাঁরা ছিলেন রাতের উগ্র পার্টিতে উন্মাদ। সেখান থেকে দামি দামি আমদানি করা দুর্লভ সব শেমপেনের বোতল উদ্ধার হয়। একদল নগ্ন নারী-পুরুষকে কাপড় পরিয়ে পুলিশ যখন ভ্যানে তুলল, তখন মাতাল জেনারেল রাণী বলছিলেন, “নকশা বিগার গায়া” অর্থ্যাৎ পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।

পাকিস্তানের সামরিক শাসন থেকে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতৃত্বের মন ও মগজ সাম্প্রদায়িকতার বিষে ভরা থাকলেও মুখে ইসলাম ও ধর্মের নীতি-নৈতিকতার বুলি হামেশা উচ্চারিত হলেও ধর্মীয় মূল্যেবোধ ও অনুশীলনের পথে কেউ ছিলেন না। নষ্ট প্রাসাদ রাজনীতি, কূটষড়যন্ত্র, হিংস্রতা আর মদ ও নারীতে ছিলেন আসক্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের উপর বর্বোরচিত গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ যেমন নিষ্ঠুরভাবে চালিয়েছিলেন, তেমনি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের প্রতি ছিলেন না কমিটেডে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনীতিক বিশ্লেষক পীর হাবিবুর রহমান। তিনি প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় আছেন।

এবারের বইমেলায় বই বের করা নিয়ে তাঁর পূর্বপরিকল্পনা ছিলনা। উপরন্তু ঠান্ডা জনিত কারনে অসুস্থ্য ছিলেন বেশ কিছুদিন। বর্তমানেও তিনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এ বি এম জাকিরুল হক টিটনের চাপে একুশের বই মেলায় 'জেনারেলের কালোসুন্দরী' উপন্যাস লিখেছেন তিনি।

অন্যপ্রকাশের স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে।এখনও বলা যাচ্ছে না কত সংখ্যক বই শেষ পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। তবে ধারণা করা হচ্ছে বিক্রির ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়তে পারে 'জেনারেলের কালো সুন্দরী '।