• রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫
  • ||

কেবিন ক্রু নাবিলার মেয়েকে নিয়ে কি হচ্ছে?

প্রকাশ:  ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:২০ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৮, ২২:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট

নেপালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিধ্বস্ত বিমানের ক্রু ছিলেন শারমিন আক্তার নাবিলা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও সর্বশেষ জানা গেছে তিনি বেঁচে আছেন।

তবে, নাবিলার মৃত্যুর গুজব প্রকাশিত হওয়ার পরপরই খবর আসে, নাবিলার মেয়ে ইনায়া ইমাম হিয়াকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তরা পশ্চিম থানায় সোমবারই হিয়া নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
তাতে বলা হয়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও বাসার কাজের বুয়ার কাছে হিয়াকে রেখে যান নাবিলা। সে কারণে কাজের বুয়ার দিকেই যায় সন্দেহের তীর।
এর পর পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে আটক করে। তবে শিশুটিকে তিনি চুরি করেননি বলে জানান। বরং দুর্ঘটনার পর শিশুটিকে নাবিলার বোন নিজ বাসায় নিয়ে গেছেন।
এরপর সেখান থেকে শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। শিশুটি এখন সুস্থ থাকলেও পড়েছে দুই পরিবারের টানাহেঁচড়ায়। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাবিলার স্বামী বিদেশে থাকেন। বিমানে দায়িত্ব পালনের সময় উত্তরার বাসায় মেয়ে হিয়াকে তিনি গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে রেখে যেতেন। এবারও তা-ই করেছিলেন।

এই বিষয়ে হিয়ার বড় ফুফা সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনে নাবিলার শ্বশুরবাড়ির লোকজন উত্তরার বাসাটিতে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন, সেখানে ঝুলছে তালা। আর গৃহপরিচারিকা রুনারও মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এতে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যায় তারা। তাদের মনে হতে থাকে যে, গৃহপরিচারিকা রুনা হয়তো হিয়াকে চুরি করে নিয়ে পালিয়ে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে নাবিলার শাশুড়ি বিবি হাজেরা সোমবার রাতেই উত্তরা পশ্চিম থানায় গিয়ে একটি সাধারন ডায়েরি (জিডি) করেন।

সাইফুদ্দিন আরও জানান, জিডির পরই হিয়াকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। তারা অভিযান চালিয়ে উত্তরা এলাকা থেকে নাবিলার বাসার গৃহপরিচারিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গৃহপরিচারিকা রুনা জানান, বিমান দুর্ঘটনার খবর শুনেই হিয়ার খালা বাসায় এসে তাকে নিয়ে যান। হিয়া তার খালার বাসাতেই আছে।

এই বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন বলেন, ‘জিডি দায়ের করার পরে ওই বাসার গৃহপরিচারিকা রুনাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সে জানিয়েছে, হিয়াকে তার খালা নিয়ে গেছেন। হিয়াকে নিয়ে আসতে তার খালার বাসায় ও নানা বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

হিয়াকে তার খালা বা নানা বাড়ির লোকজন নিয়ে গেলেও কেন তার দাদা বাড়ির কাউকে জানানো হয়নি জিজ্ঞাসা করলে ওসি বলেন, ‘তাদের পারিবারিক কোনো ঝামেলা থাকতে পারে। মেয়েটিকে পাওয়া গেলে এর পরই এইসব বিষয় স্পট করে জানা যাবে।’