• মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫
  • ||
  • আর্কাইভ

শিরোপা জয়ের লড়াই আজ

প্রকাশ:  ১৮ মার্চ ২০১৮, ০১:১৩
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট

শুক্রবার নিদাহাস ট্রফির অলিখিত সেমিফাইনালে চার-ছক্কা ফুলঝুরিতে দলকে জিতিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার ব্যাটের আঘাতে বল যখন ধেয়ে গ্যালারির দিকে যাচ্ছিল তখন যেন স্তব্ধ হচ্ছিল প্রেমাদাসার গ্যালারি! ঠিক উল্টো চিত্র তখন শ্রীলঙ্কা থেকে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের বাংলাদেশে। গোটা দেশ তখন আনন্দে উদ্বেলিত। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় বাঙালি মনে যে শোকের মাতম চলছিল এক নাটকীয় জয়ে সেখানে তৈরি হয় সুখের আবেশ! প্রশান্তির এক জয়। 

আজ আরও বড় প্রশান্তির অপেক্ষায় ক্রিকেটামোদীরা। কলম্বোর যে প্রেমাদাসায় দুই দুবার স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে রেকর্ড জয়ে টি-২০তে অনন্য উচ্চতায়  নিজেদের নিয়ে গেছেন টাইগাররা সেই একই ভেন্যুতে ফাইনালে আজ প্রতিপক্ষ ভারত। 

বাংলাদেশ এখন দারুণ ছন্দে। কী দুর্দান্ত মোমেন্টাম! কী দারুণ ঠাণ্ডা মাথায় প্রতিপক্ষকে খুন করে ফেলেন মাহমুদুল্লাহরা। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের ছবিটা মনে থাকলে ফাইনালে এগিয়েই থাকবে বাংলাদেশ! তাছাড়া কোহলি-ধোনি-পান্ডিয়া নেই ভারতীয় দলে। তিন ব্যাটিং জিনিয়াস নেই! হ্যাঁ, তিনজনই ব্যাটিং জিনিয়াস! টপ অর্ডারে কোহলি, মিডলঅর্ডারে ধোনি এবং লোয়ার অর্ডারে ‘মারকাটারি’ পান্ডিয়া ভারতীয় দলের ব্যাটিং ভরসা! তাই গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে ভারতের কাছে দুবারই হারলেও আজ এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ—এমনটাই মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধারা! 
অন্যতম কারণ হচ্ছে, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দলে যোগ দেওয়ায় টাইগারদের আত্মবিশ্বাস হাজার গুণ বেড়ে গেছে। 

তারপরেও টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা দলটির বিরুদ্ধে ১০ম স্থানে থাকা দলটিকে এগিয়ে রাখাটা বাড়তি আবেগ ছাড়া কিছুই নয়! কেন না ভারত অনেক ‘ক্যালকুলেটিভ’ দল। আগের ম্যাচে সেটা তারা বুঝিয়েও দিয়েছে।

তারপরেও বাংলাদেশকে নিয়ে খুবই সতর্ক ভারতীয়রা। দলের সেরা মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের ভাষ্য, ‘উপমহাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ খুবই ভালো দল। খুবই চালাক একটা দল। তাদের হারানো কঠিন।’ তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলা বলে বাড়তি চাপেও রয়েছে ভারত। সেটা কার্তিকের কথাতেই পরিষ্কার, ‘আমরা যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতি, ঠিক আছে জিতে গেছি! এটা হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু যদি আমরা হারি, তাহলে দর্শকরা বলে এটা তোমরা কি করেছ? কেন হারলে?’ 

সেদিক দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অনেকটাই নির্ভার। কোচ নেই— শেষ মুহূর্তে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশকেই প্রধান কোচ করা হয়েছে! প্রত্যাশাও তেমন একটা ছিল না। বড় জোর একটি ম্যাচে জিতবে—এ আর কি! সেখানে টাইগাররা শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে— এটা চাট্টিখানি কথা নয়। মুশফিক-মাহমুদুল্লাহরা জাদুকরি ক্রিকেট খেলে বাঙালির মন ভরিয়ে দিয়েছে। এখন ক্রিকেটারদের কাছে একটাই বাড়তি প্রত্যাশা—হারজিৎ নিয়ে ভেবে লাভ নেই, নিজেদের সেরাটা দেখিয়ে দাও ফাইনালে! ফল যা হওয়ার তা হবেই!