Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ৬ মাঘ ১৪২৫
  • ||

পূর্বপশ্চিম এক্সক্লুসিভ

বিয়ের পরেও পরনারীতে আসক্ত ছিল আসিফ: অর্নি

প্রকাশ:  ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ২০:৪০ | আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৩০
মাকসুদুল হক ইমু
প্রিন্ট icon

মডেল ও অভিনেতা কাজী আসিফের সঙ্গে কানাডা প্রবাসী শামীমা আক্তার অর্নির সঙ্গে পরিচয় ফেসবুকের মাধ্যমে।  পরিচয়ের পর হঠাৎ করেই বিয়ের কাজটিও সেরে ফেললেন তারা।  রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আসিফ ও অর্নির বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়।

বিয়ের পর আসিফ আর অর্নির সম্পর্কের মাঝেও ধীরে ধীরে ফাটল ধরতে শুরু করে। সন্তান জন্ম নেয়ার পর এই ফাটল আরো বড় হয় এবং আসিফ নিজ থেকেই অবজ্ঞা করতে শুরু করে অর্নিকে। আজ আসিফের স্ত্রী শামীমা আক্তার অর্নির করা নারী নির্যাতন মামলায় মডেল ও অভিনেতা কাজী আসিফ রহমানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক শফিউল আজম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সরকারি কৌঁসুলি আলী আকবর সাংবাদিকদের জানান, আসামি কাজী আসিফকে আজ গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক আগামী ২৫ এপ্রিল জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করে কাজী আসিফকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ অবস্থায় আসিফের গ্রেফতার ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে পূর্বপশ্চিমের সাথে কথা হয় আসিফের স্ত্রী মামলার বাদী শামীমা আক্তার অর্নির সঙ্গে।  এসময় অর্নি পূর্বপশ্চিমকে বলেন, আজ আসিফকে কোর্ট জামিন দেয়নি। রাতে তাকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হবে। আগামী ২৫ তারিখ বিজ্ঞ আদালত আবারো শুনানির দিন ধার্য করেছেন।  সেদিন তাকে আবার কোর্টে হাজির করা হবে।

আসলে কি কারণে এই মামলা আর কেনইবা এই সম্পর্ক আদালত পর্যন্ত গড়াল- এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্নি বলেন, সত্য কথা বলতে সে (আসিফ) আমাকে মারধর করত।  প্রায় সময় আমার থেকে সে টাকা পয়সা নিত। আর তা না দিলেই আসিফ আমার গায়ে হাত তুলত। এমনকি এ কারণে সে আমাকে ও আমার বাচ্চকে বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকিও দিয়েছে।  আসিফ আমাকে প্রায়ই বলত, তুমি কানাডায় থাকো কানাডায় ফিরে যাও।

অর্নি আরো বলেন, গত এক দেড় বছর ধরে ওর কাজ খুব কম চলছে। এজন্যে সে আমাকেই ব্লেইম করে যে তোমাকে বিয়ে করার পরেই আমাকে কেউ আর পাত্তা দিচ্ছে না, কাজে কম নিচ্ছে। আমার কাজকর্ম কমে গেছে তোমার কারণে, অতএব টাকা দাও। আমি বিভিন্ন সময় কানাডা থেকে ওকে টাকা পাঠিয়েছি। আমাকে যখন বলতো মাছ-মাংস খাবো টাকা নাই, পিজ্জা খাবো টাকা নাই, নান্দুজে যাবো টাকা নাই, বিভিন্ন সময় টাকাপয়সা চাইতো বিভিন্ন ছুতায়।  আমার স্বামী যেহেতু তাই আমি টাকা দিতাম। আমি বাংলাদেশে আসার পরেই সে আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চায়।  তখন ওকে বলেছি আমার কাছে এত টাকা নাই। আমি তোমাকে আগেও টাকা দিয়েছি এতোগুলা টাকা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।  কথাবার্তায় বনিবনা না হলেই ও আমার গায়ে হাত তুলতো।  বিয়ের আগে আসিফ আমাকে বলেছিলো ও নাকি অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করেছে। আসলে ওর কোনো ডিগ্রিই নাই। ২০ হাজার টাকা দিয়ে চিটাগাং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ফেইক সার্টিফিকেট কিনে আনছে।

বিয়ের পর আসিফ পরনারীতে আসক্ত ছিলেন এমন অভিযোগ জানিয়ে অর্নি বলেন, পরনারী আসক্তি আসলে তার একটা নেশা। মানুষের যেমন ধূমপানের নেশা থাকে, মদের নেশা থাকে ওর এটা হচ্ছে একটা নেশা। আর ওর ক্যারেক্টারে ভীষণ প্রবলেম আছে। বিভিন্ন মেয়ের সাথে ওর রিলেশানশিপ আছে। সেটা চেহারা দেখলে বোঝা যায়না।  আসিফ প্রচুর পরিমানে মিথ্যা কথা বলে।  আমাকেও মিথ্যা বলে সে বিয়ে করছে।  বিয়ের পরই আমি বাংলাদেশে ছয় মাস ছিলাম। তখনই আমি ওকে ধরেছি। তখন আমার হাত পা ধরে সরি বলে।  ওই সময় আমি তাকে সেকেন্ড চান্স দিয়েছি। কিন্তু আবারো দেশে আসার পরে ওর ফোনে আমি কয়েকটা মেসেজ দেখি। তারপরে আবার আমাদের বাচ্চা যখন পেটে আসে তখন আমি বিদেশে চলে যাই। সেসময় কানাডায় বসে আমি খবর পাই সে বিভিন্ন মেয়েদেরকে বাসায় নিয়ে আসত। এতকিছু হবার পর আমরা মার্চ মাসের তিন তারিখ থেকে আলাদা আছি।

আপনি বা আপনার পরিবার কি এ সময়ের মাঝে বিষয়টা নিয়ে সমঝোতার কোন উদ্যোগ নিয়েছিলেন? জানতে চাইলে অর্নি বলেন, আমি ও  আমার পরিবার অনেক চেষ্টা করেছি।  আমি মিডিয়াতে অনেক জায়গায় গিয়েছি আসিফকে সামনে এনে দেয়ার জন্যে। এমনকি আমার শুভাকাংখী যারা ফেসবুকে আমাকে সাপোর্ট করতো বা আমার ষ্ট্যাটাসে কমেন্টস করত তখন সে তাদেরকে ইনবক্স করে বলতো অর্নির পোস্টে কমেন্ট করো না।  আসিফ তাদের আরো বলতো আপনারা ওকে সাপোর্ট করা বন্ধ করেন এতে অর্নি আরো উৎসাহিত হবে।  

অর্নি আরো বলেন, বড়কথা এই বৈশাখে আমার মেয়ে অসুস্থ ছিলো। তখনও আমি ওকে রিচ করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার কোন সাড়া মেলেনি। আমার বাচ্চার বয়স এখন আট মাস। আমি কানাডার সিটিজেন। আমি কানাডাতে ১৭ বছর যাবৎ আছি। বাংলাদেশে আমার খালা মামারা আছেন। আমার বাবা-মা ভাই সবাই আমরা কানাডায় থাকি।

বিষয়টা নিয়ে আসিফ বা তার পরিবারের কেউ কি যোগাযোগ করেছে কিনা এবিষয়ে শামীমা আক্তার অর্নি বলেন, না।  তার ফ্যামিলির পক্ষ থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়নি।  আমি মানুষের কাছ থেকে যতদূর শোনেছি সে সংসার করতে চায় না।  আর আসিফ তার পরিবারের কাউকেই মানে না। শুধুমাত্র তার এক ভাই যে বর্তমানে লন্ডন আছে তার কথা সে শুনে।  তার ভাই মোটেও খুব ভালো লোক না।

আপনি এত কিছুর পরও কি সংসার করবেন? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার যেহেতু একটা মেয়ে আছে, আমি একজন মা আমি সংসার সবসময়ই করতে চাইবো।  আমি চাই আমার মেয়ের মাথায় সবসময় তার পিতার হাত থাকুক।  আমি আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চাই।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ শামীমা আক্তার অর্নি বাদী হয়ে মডেল ও অভিনেতা কাজী আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলা বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে বিচারক শফিউল আজম গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে আজ সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরনারী,কাজী আসিফ,অর্নি,গ্রেফতার,নারী ও শিশু নির্যাতন,আসিফ,মডেল,অভিনেতা,মডেল ও অভিনেতা
apps