• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

এইচএসসিতে পাশের হার কমার চার কারণ

প্রকাশ:  ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৯:৫৭ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ২০:০০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাযর ফল প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই)। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা গত তিন বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে পাশের হারও।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিলের ২ তারিখ শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১৩ লাখের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার প্রায় আড়াই শতাংশ কমে গেছে। জিপিএ-ফাইভ পাওয়ার হারও কমে গেছে প্রায় নয় হাজার। এবছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-ফাইভ ২৯ হাজারের একটু বেশি কিন্তু গত বছর তা ছিল প্রায় ৩৮ হাজার। গত অন্তত তিন বছর ধরে পাশের হারও জিপিএর ক্ষেত্রে একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

পাশের হার এমনভাবে হ্রাসের কারণ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। এখানে সেই কারণগুলো উল্লেখ করা হলো।

‘ঘন ঘন পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন’ ঘন ঘন পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে পাশের হার কমেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। ঢাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, এবার পরীক্ষার হলে ভীতিকর পরিবেশ ছিল। আর বারবার পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তনে সবাই সবাই বেশ উদ্বিগ্ন ছিল। পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে তার এ+ হাতছাড়া হয়েে গছে। কারণ কিছু বিষয়ের প্রশ্ন প্যাটার্নটা ভিন্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একেক বছর এক এক রকম প্যাটার্ন নিয়ে আসে। এবছর আমাদের শুরুতে বলা হল সারা বাংলাদেশ একই প্রশ্নপত্রে সবাইকে পরীক্ষা দিতে হবে। শিক্ষকরাও আমাদের নার্ভাস করে দিয়েছিল। এসবের কারণেই অনেকের রেজাল্ট খারাপ এসেছে।

মূল বই না সহযোগী বই? নটরডেমের এক সহকারী অধ্যাপক বলেন, শিক্ষার্থীরা মূল বই পড়ে না। যার কারণে অনেক বিষয় সম্পর্কে তারা সব কিছু জানতে পারে না। কেউ নিয়মিত মূল বই পড়লে কখনোই রেজাল্ট খারপা করবে না। সে এমসিকিউ বলেন আর সৃজনশীল বলেন। অবশ্যই আমি সহযোগী বইয়ের সাহায্য নেবো কিন্তু মূল বইটা টার্গেট থাকতে হবে। শিক্ষকদের জন্যও এ কথা প্রযোজ্য।

‌‘কম লেখার অভ্যাস’ এ প্রসঙ্গে এক শিক্ষক বলেন, এ যুগে ছেলেমেয়েরা লেখে কম। ধরুন একটি রুটিন টানানো হল তারা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলে। কেউ লেখে না। সাতটা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আর প্রত্যেকটির জন্য সময় মোটে বিশ মিনিট করে। অনুশীলনের অভাবে তারা সময় কুলাতে পারেনা।

‘লিবারেল মার্কিং’-এর প্রভাব? বাংলাদেশে নানা সময়ে লিবারেল মার্কিং বা লিখলেই নাম্বার দেওয়ার প্রবণতা বলে একটি বিষয় সম্পর্কে শোনা গেছে।সেই কারণে পাশের হার বেশি থাকতো। অনেকের ধারণা এটি শিক্ষার্থীদের বেশ ক্ষতি করেছে।

এ প্রসঙ্গে এজন শিক্ষক বলেন, এ পদ্ধতির কারণে অনেকেই ভাল ফল করেছে। এইটাই ছিল আমাদের শঙ্কার কারণ। যোগ্যতা ছাড়াও অনেকে ভাল ফল করেছে। তারা জাতির অ্যাসেট না হয়ে বরং বার্ডেন হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হতে পারে হয়ত বেশি পাশ দেখালে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হয়ত দেখাতে পারে যে দেশে শিক্ষার মান বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বেশি জিপিএ পাওয়া মানেই যোগ্যতা নয়। /আরকে

এইচএসসি,ফল,জিপিএ-৫