• রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
  • ||

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশ:  ২১ জুলাই ২০১৮, ১৫:৫১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

কয়লার মজুদ না থাকায় এ সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হতে যাচ্ছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাচালিত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতির আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুবায়ের আলী গণমাধ্যমকে বলেছেন, বলেন, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রকে চাহিদামতো কয়লা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কেন্দ্রটি প্রতিদিন তিন হাজার টন কয়লা চাইলেও আমরা তা দিতে পারছি না।

সংকটের কারণ হিসেবে তিনি জানান, একটি স্তরের কয়লা শেষ করে অন্যস্তরের কয়লা তোলার জন্য খনির ভেতরে যন্ত্রাংশের স্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এই কাজ গত ২৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে; কাজ শেষ করতে আগস্ট মাস পুরোটা লাগতে পারে।

বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য প্রতিবছর একবার শিফট পরিবর্তন করে খনি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিফট পরিবর্তনের আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রর জন্য পর্যাপ্ত মজুদ রাখা হয়। এবারও পিডিবিকে একলাখ টনের বেশি মজুদ রয়েছে বলে খনি কর্তৃপক্ষ জানায়। কিন্তু পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) বড়পুকুরিয়া খনি পরিদর্শন করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় ৬ হাজার টন মজুদ পায়। এছাড়া খনি এলাকায় আরও আট হাজার টন কয়লার মজুদ রয়েছে। সব মিলিয়ে যে কয়লার মজুদ রয়েছে, তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আংশিক চালিয়ে রাখলেও এক সপ্তাহের বেশি চলার কথা নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবি জানায়, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট একসঙ্গে চালানো হলে প্রতিদিন পাঁচ হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন। এখন একটি ইউনিট সংস্কারের জন্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চার হাজার মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু সব মিলিয়ে বড়পুকুরিয়ায় যে কয়লার মজুদ রয়েছে, তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম লোডে চালানো হলেও একসপ্তাহের বেশি চলবে না।

পিডিবি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ বলেছেন, কয়লা চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে পড়তে যাচ্ছে। তবে বিদ্যুতের যেন কোনও সমস্যা না হয়, সেজন্য অন্য কেন্দ্র চালিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় বগুড়া থেকে কিছু বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। তবে তা দিয়ে পুরো উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

ওদিকে, সরকার প্রতিবেশী দেশ থেকে কম দামে বিদ্যুৎ আমদানিতেই এখন বেশি জোর দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিভাগকে নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুতে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারত থেকে এখন প্রতিদিন ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এর বাইরে আরও ৫০০ মেগাওয়াট আমদানির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ আশা প্রকাশ করে বলেন, ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে সহসা চুক্তি করতে পারবো। তিনি বলেন, এনবিআরের অভিমতের অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে বর্তমানে, দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দরে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। পিডিবি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত দুই অর্থ বছরে দেশে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছ থেকে যথাক্রমে (২০১৫-১৬) ১১ দশমিক ৬৭ টাকা এবং (২০১৬-১৭) ১১ দশমিক ২৩ টাকায় বিদ্যুৎ কিনেছে।

একই জ্বালানিতে একই সময়ে দেশের ভাড়ায় চালিত ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক (রেন্টাল) বিদ্যুতের দাম পড়ছে প্রতি ইউনিট যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৯ দশমিক ৬৪ টাকা।

অন্যদিকে ডিজেলচালিত বিদ্যুতের দাম পড়েছে আরও বেশি। ভাড়ায় চালিত ডিজেল নির্ভর একই ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের দর পড়ছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২৬ দশমিক ৫৭ টাকা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দাম আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২৭ টাকা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে বেসরকারী খাতের বিপরীতে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর পড়েছে ৫ দশমিক ০৪ টাকা। পরবর্তী বছর এই দরের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫২ টাকা।

দেশে বেসরকারি কোম্পানিকে কম দামে গ্যাস গ্যাস সরবরাহ করেও কম মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তেল ও গ্যাসে উৎপাদিত বেসরকারি ভাড়া ও দ্রুত ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯২ টাকায় এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৩৬ টাকায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনেছে সরকার। সে ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের গড়মূল্য আমদানি করা বিদ্যুতের তুলনায় বেশি। সূত্র: পার্স টুডে।

/আরকে

কয়লা,বড়পুকুরিয়া,দিনাজপুর,তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র,বাংলাদেশ,বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)