• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের দুই পরিচালকের কাণ্ড!

প্রকাশ:  ২১ জুলাই ২০১৮, ২০:১৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক
প্রিন্ট

সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পের নাম ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প’। এই প্রকল্পের নামে বিভিন্ন সময় নানান অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার এই প্রকল্পে অনিয়ম এবং যোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়ার বিষয়টি প্রতিবাদ করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক ইসমাইল হোসেন ও উপ-পরিচালক নবীর উদ্দিন কর্তৃক একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে মারধর করেছেন। ১৯ জুলাই এ বিষয়ে একটি অভিযোগপত্র ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বরাবর জমা হয়েছে। পত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

পত্রের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের কাছে এসেছে। অভিযোগকারী কোম্পানী লট-১৫ থেকে প্রফেশনাল আউটসোর্সিং ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়ী সার্ভিস ফর আইটি/আইটিইএস শীর্ষক দরপত্রে অংশগ্রহণ করে ইওআই ও আরএফপিতে অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৭ জুলাই প্রকল্পের প্যাকেজ-১১ এর লট নং ১৫ এর আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। তখন প্রতিষ্ঠানটির প্রেরিত প্রতিনিধি দেখতে পান একই লটের ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং (আইপিএল) অ্যান্ড জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার অ্যাসোসিয়েট আরএফপির সেকশন-১ এর ১৮.৩ ও ১৮.৪ প্রতিপালন করেনি।

অর্থাৎ সিপিটিউ কর্তৃক অনুমোদিত আরএফপির প্রেসকাইব ফরম্যাট পরিবর্তন করেছেন। আর্থিক প্রস্তাবের ফর্ম ৫বি১-এ দর প্রস্তাব ট্যাক্সসহ ও ট্যাক্স ছাড়া চাইলেও ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং (আইপিএল) অ্যান্ড জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার অ্যাসোসিয়েট তা আলাদা না করে একসাথে প্রদান করে। যে কারণে ইন্সটিটিউট অব প্রফেশনাল লার্নিং (আইপিএল) অ্যান্ড জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার অ্যাসোসিয়েটের আর্থিক প্রস্তাব নিয়মানুযায়ী বাতিলযোগ্য।

চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মানুযায়ী তাদের আর্থিক প্রস্তাব বাতিল হওয়ার কথা। তখন ওই আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রেরিত প্রতিনিধি মৌখিকভাবে উক্ত আর্থিক প্রস্তাব বাতিল করতে বলে কিন্তু প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আর্থিক প্রস্তাব বাতিল না করে তাদের আপোস করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।

এ সম্পর্কিত একটি চিঠি অভিযোগকারী কোম্পানীর কর্মকর্তা শামীম আহমেদ সিদ্দিকীকে দিয়ে ১৯ জুলাই প্রকল্প পরিচালকের দফতরে পাঠান। প্রকল্প পরিচালক প্রথমে পত্রটি রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপরেও অভিযোগকারী কোম্পানীর কর্মকর্তা তাঁকে পুনরায় অনুরোধ করতে গেলে প্রকল্প পরিচালক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।

শামীম এর প্রতিবাদ করলে প্রকল্প পরিচালক ইসমাইল হোসেন তার রুমের দরজা লাগিয়ে শামীমকে থাপ্পড় দেয়। এ সময় প্রকল্প পরিচালকের রুমে থাকা উপ-প্রকল্প পরিচালক নবীর উদ্দিন তাকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে প্রকল্প পরিচালক প্রকল্পের পিয়নদেরকে বলে তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে এবং পিয়নরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে বের করে দেয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি নিয়ম মোতাবেক কোন বিষয়ে জানার এবং অভিযোগ করার অধিকার সবার আছে। সে লক্ষ্যেই পত্র দেয়া হয়েছিল। প্রকল্প পরিচালক ইসমাইল হোসেন এবং উপ-প্রকল্প পরিচালকের এমন আচরণ সরকারি কর্মচারী আইনের পরিপন্থী। উপরোক্ত বিষয়ের আলোকে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন।

চিঠির কপি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সচিব এবং লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইসিটি মন্ত্রণালয়ের নানান প্রকল্পের সঙ্গে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী অভিযোগ করে বলেন, যে কোম্পানির তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই সেই কোম্পানিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নতুন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে হাতাশা বিরাজ করছে। তিনি আরও বলেন, যোগ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে কৌশলগতভাবে পাশ কাটিয়ে ১৫টি লটে অখ্যাত ও অযোগ্য কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দিতে সাহায্য করেছেন ইসমাইল ও নবীর উদ্দিন।

ইসমাইল ও নবীর উদ্দিনের এমন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় তথ্যপ্রযুক্তির এই বিশাল সম্ভাবনাময় খাতে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যাদের পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা নেই তাদের দিয়ে এত কার্যকরী একটি প্রকল্প চালিয়ে নেওয়ার যে স্বেচ্ছাচারিতা তারা দেখিয়েছেন সেটি নজিরবিহীন। তিনি বলেন, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জড়িত ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে জানতে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‌বিষয়টি আমি অবহিত হয়েছি। আমি শিগগির প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালকের সঙ্গে কথা বলবো। কোনো অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক ও উপ-পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। সূত্র: যুগান্তর

/আরকে

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়,লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প