• বুধবার, ১৫ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫
  • ||

অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা: ৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবহার নিয়েও সংশয়

প্রকাশ:  ২২ জুলাই ২০১৮, ১০:১৪ | আপডেট : ২২ জুলাই ২০১৮, ১০:২২
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট

জলাবদ্ধতা নিরসনে একের পর মেগা প্রকল্প আর বড় বাজেটের বাহার। তবুও সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হতে সেবা পাচ্ছেনা জনগণ। সরকারের আন্তরিকতা আর মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম নগরীর মানুষ জলাবন্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছেনা কিছুতেই।

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থ বছরেও প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ মেগা প্রকল্প শুরুর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেও সামান্য বৃষ্টিতেও নগর ডুবে যায়। আর গণমাধ্যমে সিডিএ মুখপাত্রের আশ্বাস দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখার জন্য সময় দরকার।

প্রায় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সিডিএ।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আহ্বায়ক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সদস্য করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়। টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার সভা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেন।

তবে চট্টগ্রামবাসীর অভিযোগ কাজ কে করবে সেটা বিবেচ্য নয় র্কাযকর চান কেননা জলবদ্ধতা নিরসনে সফলতা অপ্রতুল।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে শিগগিরই। সেগুলো হলো- মহেশখাল, কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অন্তর্ভুক্ত), চাক্তাই ডাইভারসন খাল (বাকলিয়া খাল নামেও পরিচিত), চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল-১, মির্জা খাল, রাজাখালী খাল-২, রাজাখালী খাল-৩, মরিয়মবিবি খাল, হিজরা খাল, নোয়া খাল (বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), খন্দকিয়া খাল ও নাছির খাল। পরে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর ইউনিট বাকি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানা যায়।

আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ২০১৬ সালের আপডেটেড মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকেই দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। যদিও আমরা সাধারণ জনগণকে চসিক এর উপর ক্ষেপে থাকতে দেখি। তা সমীচীন কতটা কেননা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটিকর্পোরেশন ও দায় এড়িয়ে যেতে পারেনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চউক-এর মাধ্যমেই কালুরঘাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভওয়ে, বিভিন্ন খাল খনন-স্লুইচ গেইট, সিলট্র্যাপ, জলাধার নির্মাণসহ এ কাজের জন্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করার জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি প্রকল্পের আওতায় ব্রিজ ও কালভার্ট হবে ৫৩টি। আর এস জরিপ অনুযায়ী বেদখল খালগুলো উদ্ধার করতে হবে। ৩৮টি খাল খনন-সংষ্কার ও উন্নয়ন, স্লুইচগেট নির্মাণ, ড্রেনগুলোর সংষ্কার ও উন্নয়ন, প্রায় ১০ কিলোমিটার নতুন ড্রেন নির্মাণ, খালের পাশে ৭৯ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, বিভিন্ন খালের মাধ্যমে যে বালু খাল ও ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায় তা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ৪২টি সিলট্র্যাপ ও ৩টি জলাধার নির্মাণসহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করছে চউক। কিন্তু কমছেনা জলাবদ্ধতা উল্টো বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনাম দেখা যায় “এবার নগর ছাড়িয়ে ফøাইওভারে জলাবদ্ধতা”।

সর্বশেষ চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য প্রায় পৌনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পান সিডিএ।

জনগণ এই বিশাল অংকের বাজেটের ব্যবহার নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছে। কেননা পুর্বে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করছে চউক। তারপরেও কমছেনা জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিহীনও নগরী পরিণত হয় জল পুকুরে।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক আহম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, “দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের অধীনে খাল পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে।”

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রকল্পের অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া ঠিক করতেই তিন মাস পেরিয়ে গেল। আর দেরি করার সময় নেই। সামনেই বর্ষা মৌসুম কাজ শুরু হবে”।

ওএফ

সিডিএ,উন্নয়ন,চট্টগ্রাম